ঢাকা, সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

স্ত্রীকে সুখী রাখবেন যেভাবে

প্রকাশনার সময়: ০২ অক্টোবর ২০২২, ১০:২২
ছবি: সংগৃহীত

যদি আপনি এর মধ্যে বিবাহিত হয়ে থাকেন তবে এ উপদেশ আপনার দাম্পত্য জীবনের জন্য একটি পরীক্ষিত ও কার্যকরী প্রেসক্রিপশন। আর যদি বিয়ে করার পরিকল্পনা করে থাকেন তবে আপনার সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য এ উপদেশ হতে পারে এক বাস্তবমুখী গাইডলাইন।

দাম্পত্যজীবনকে সুখী ও মধুময় করে তোলার প্রধান উপকরণ হচ্ছে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আচরণ। বর্তমান সমাজে অধিকাংশের দাম্পত্যজীবন নিরানন্দ একঘেঁয়ে। সুখী ও সুন্দর দাম্পত্য জীবন গঠনে স্বামী-স্ত্রী উভয়কে ভূমিকা রাখতে হয়। উভয়কেই পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল ও শ্রদ্ধাশীল হতে হয়। একে অপরের সুবিধা ও সমস্যাগুলো বাস্তবতার নিরিখে অনুধাবন করতে হয়। স্বামী যদি অসহযোগিতা করে, স্ত্রীর প্রতি দায়িত্ব পালন না করে, তাহলে ‘সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে’ এই নীতিবাক্যে সুখ আসবে না। আল্লাহ বলেন, ‘স্ত্রীরা তোমাদের জন্য পোশাক এবং তোমরাও স্ত্রীদের জন্য পোশাকস্বরূপ।’

অপর এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘স্বামীর যেমন স্ত্রীর থেকে ভালো ব্যবহার পাওয়ার অধিকার আছে, তেমনি স্ত্রীরও অধিকার আছে স্বামী থেকে ভালো ব্যবহার পাওয়ার।’

দাম্পত্য জীবন সুখময় করতে এখানে কিছু টিপস দেয়া হলো—

স্ত্রীকে উপযুক্ত পরিবেশ দিন : পরিবারের সবার সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার মতো সময়টুকু স্ত্রীকে দিন। আপনি একটি মেয়েকে স্ত্রী হিসেবে বরণ করে আপনার বাড়িতে নিয়ে আসবেন, তখন আপনার বাড়ির পরিবেশ, বাড়ির লোকজনের আচরণ ও রুচির সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার জন্য তাকে অন্তত ন্যূনতম সময়টা দিন। যে মেয়েটি আপন মা, বাবা, ভাই, বোন ছেড়ে আপনাকে স্বামী হিসেবে বরণ করে নিয়েছে তাকে আপনি আপনার এমন বন্ধু বানিয়ে নিন, এমন একটি পরিবেশ দিন, যাতে সে বুঝতেই না পারে যে, তাকে আপনি ভিন্ন একটা বাড়িতে এনে তুলেছেন! এখন যদি আপনি তা না করে এমনটি চিন্তা করেন যে, ওয়ালিমার পরপরই আপনার স্ত্রী আপনাদের পরিবারের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নিয়ে চলতে শুরু করবে, তবে তা হবে চারা লাগিয়ে শুধু তিন বেলা গোড়ায় পানি ঢেলে সপ্তাহখানেক পরই সে গাছ থেকে ফল আশা করার মতো বোকামি।

জীবনসঙ্গিনীর জন্য নিজেকে সাজান : জীবনসঙ্গিনীর জন্য সুন্দর পোশাক পরিধান করুন, সুগন্ধি ব্যবহার করুন। যেভাবে স্বামী চায় তার স্ত্রী তার জন্য সেজে থাকুক, ঠিক সেভাবেই স্ত্রীও চায় তার স্বামী তার জন্য সেজে থাকুক। মনে রাখবেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) সর্বদা ঘরে এসে মেসওয়াক করতেন, আতর-সুগন্ধি ব্যবহার করতেন।

সুন্দর নাম নির্বাচন করুন : আপনার জীবনসঙ্গীনিকে ডাকার জন্য খুব সুন্দর একটা উপনাম নির্বাচন করুন। কখনো তাকে কোনো বাজে নামে বা মন্দ শব্দে ডাকবেন না। আল্লাহর নবী (সা.) তাঁর স্ত্রীদের এমন নামে ডাকতেন, যে নামে ডাকাটা তারা খুবই পছন্দ করতেন। তাই ভালোবাসার মানুষটির জন্য তার মনের মতো একটি সুন্দর নাম নির্বাচন করুন। যে নাম ধরে ডাকলেই খুশিতে তার মন ভরে উঠবে।

স্ত্রীর গুণের মূল্যায়ন করুন : অধিকাংশ পরিবারে স্ত্রীরা সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পরেও স্বামীর মন পায় না। স্ত্রীর সঙ্গে এমনটি কখনো করবেন না। এটা চরম অন্যায় ও জুলুম। স্ত্রীর ভালো গুণ ও পরিশ্রমের মূল্যায়ন করুন। শুধুমাত্র খুঁত খোঁজা নয়; বরং তার গুণগুলোর প্রতিও আপনার মনোযোগ ও দৃষ্টি নিবদ্ধ করুন।

ভুলগুলো এড়িয়ে যান : স্ত্রীর ছোটখাট ভুলগুলো সযত্নে এড়িয়ে চলুন। মারাত্মক ভুল না হলে চেপে যান। নবী মুহাম্মাদ (সা.) তার স্ত্রীদের অপছন্দের কিছু করতে দেখলে চুপ থাকতেন।

মুচকি হাসুন : সে যখনই আপনার সামনে আসবে তখনই তাকে মুচকি হাসি দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। বেশিরভাগ সাক্ষাতের সময়, বিদায়ের সময় নিবিড় আলিঙ্গনে তাকে বেঁধে রাখুন কিছুক্ষণ। ভেবে দেখুন, আপনার স্ত্রী যদি সবসময় আপনাকে হাসি-খুশি দেখে তাহলে আপনার জীবন কেমন সুখময় হবে!

কৃতজ্ঞতা আদায় করুন : আপনার জন্য, আপনার সংসারের জন্য, আপনার সন্তানদের জন্য সে যে কাজগুলো করছে বা করেছে সেগুলোর জন্য উদার মনে তার কৃতজ্ঞতা আদায় করুন। যোগ্যতা অনুযায়ী তার মেধা ও মননের স্বীকৃতিও দিন। তার কাজে ভুল পেলে দরদ ভরা মন নিয়ে তাকে শুধরে দিন, তার সমালোচনার পরিবর্তে সংশোধনে সহযোগিতা করার চেষ্টা করুন।

খুশি করার চেষ্টা করুন : জীবনসঙ্গীনিকে বলুন, সে যেন এমন দশটি কাজের কথা আপনাকে বলে যেগুলো আপনি তার জন্য করলে তার ভালো লাগবে, দেখবেন সে খুশি হয়ে গেছে। তার থেকে জেনে নিয়ে তাকে খুশি করার জন্য আপনি সেগুলো মাঝেমধ্যেই করার চেষ্টা করুন। নিজের জীবনসঙ্গীনির সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা-মজা করুন। কৌতুকপ্রদ কথা বলে তার মন ভালো করে দিন।

তার প্রতি লক্ষ্য রাখুন : জীবনসঙ্গীনির সুযোগ-সুবিধার বিষয়টিকে অবহেলা করবেন না, ছোট মনে করবেন না; বরং এই দিকটার প্রতি সজাগ দৃষ্টি দিয়ে তাকে সুখী করার চেষ্টা করুন। অনেক স্বামী নিজের স্ত্রীর আগ্রহের প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ করে না, একে কোনো বিষয়ই মনে করে না।

স্ত্রীকে সহযোগিতা করুন : ঘরে ফিরে স্ত্রীকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করুন। জাস্ট এটা বোঝানোর জন্য যে, সারাদিন সে পরিবারের জন্য একা একা কতটা ঝক্কি-ঝামেলা পোহায়। বিশেষ করে ছুটির দিনটিতে দু’জনে ঘর গোছানোর কাজ শেয়ার করে নিন।

উত্তম আচরণ করুন : নবী মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো মানুষ সে, যে নিজের স্ত্রীর সঙ্গে সবচেয়ে ভালো ব্যবহার করে। আমি আমার স্ত্রীদের সঙ্গে সবচেয়ে ভালো ব্যবহার করি।’

স্ত্রীর আঙুলে তাসবিহ : মাঝেমধ্যে আপনার কোলে স্ত্রীর মাথা রেখে তার চুলে আলতো করে নিবিড়ভাবে আঙুল চালান। হাতের আঙুলের কড়ে তাসবিহ গুনুন। যদি অসম্ভব সুন্দর একটা তারাভরা গভীর রাতে একসঙ্গে তাহাজ্জুদ পড়ার জন্য আপনি জেগে উঠে স্ত্রীর চোখে-মুখে পানি ছিটিয়ে তাকে জাগিয়ে কপালে আলতো চুমু এঁকে দিয়ে দরদভরা কণ্ঠে বলে উঠুন— ‘আনা উহিব্বুকি ফিল্লাহ’ (আমি তোমাকে আল্লাহর জন্যই ভালোবাসি)।

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ