ঢাকা, সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

দান যেভাবে কল্যাণ বয়ে আনে

প্রকাশনার সময়: ০১ অক্টোবর ২০২২, ০৮:০৫

দান-সদকা বড় ইবাদত। দান-সদকার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার দেয়া সম্পদের শুকরিয়া আদায় করা হয়। এতে সম্পদ বৃদ্ধি পায়, গরিব ও অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটে। এর মাধ্যমে যেমন আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভ করা যায়, তেমনিভাবে নিজেদের নেকির পাল্লাও ভারি করা যায়। তাই আমাদের উচিত বেশি পরিমাণে দান করা।

দান-সদকার গুরুত্ব সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা আল্লাহর পথে নিজেদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের (দানের) তুলনা সেই বীজের মতো, যাত্থেকে সাতটি শীষ জন্মাল, প্রত্যেক শীষে একশ করে দানা এবং আল্লাহ যাকে ইচ্ছে করেন বর্ধিত হারে দিয়ে থাকেন। বস্তুত আল্লাহ প্রাচুর্যের অধিকারী, জ্ঞানময়।’ (সুরা বাকারা: ২৬১)

দান-সদকায় গুনাহ মাফ হয়। আল্লাহ তাআলার ক্রোধ নিবারণ হয়। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান কর তবে তাও উত্তম, আর যদি তোমরা তা গোপনে কর এবং তা অভাবগ্রস্তদের দান কর, তবে তা তোমাদের জন্য আরও উত্তম, অধিকন্তু তিনি তোমাদের কিছু গুনাহ মোচন করে দেবেন, বস্তুত যা কিছু তোমরা করছ, আল্লাহ তার খবর রাখেন।’ (সুরা বাকারা: ২৭১)

দানে সম্পদ বাড়ে। সম্পদে বরকত হয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দান করলে মানুষের সম্পদ কমে না; বরং সম্পদ আরও বেড়ে যায়।’ (তিরমিজি: ২৩২৫)

দান-সদকার দ্বারা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচা যায়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা খেজুরের একটি টুকরো দান করে হলেও জাহান্নাম থেকে বাঁচো।’ (বুখারি: ১৩৫১)

অন্য একটি হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রতিদিন আকাশ থেকে দুজন ফেরেশতা নেমে আসেন। একজন বলেন, হে আল্লাহ, আজকের দিনের দানকারীকে তার প্রতিদান দাও। আর অপরজন বলে হে আল্লাহ, কৃপণ লোককে শিগগিরই ধ্বংস কর।’ (বুখারি: ১৩৫১)।

দান করলে আল্লাহ খুশি হন। যেভাবে বান্দা অন্য মানুষের জন্য সম্পদ খরচ করেন, আল্লাহও তেমনি বান্দার জন্য খরচ করেন। হাদিসে কুদসিতে আছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে আদম সন্তান, তুমি খরচ কর, তাহলে তোমার প্রতিও খরচ করা হবে।’ (বুখারি: ৪৯৩৩)

নবীজি (সা.) মানুষকে খাবার খাওয়াতে পছন্দ করতেন। সাহাবিদের আদেশ করতেন। মানুষকে খাবার খাওয়ানো সওয়াবের কাজ। হাদিসে আছে, ‘এক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-কে বলল, ইসলামের কোন আমলটি সর্বোত্তম? রাসুল (সা.) বললেন, ‘কাউকে খাবার খাওয়ানো ও পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দেয়া।’ (বুখারি: ১১)

অনেকের ধারণা, দান-সদকা করার দ্বারা সম্পদ কমে যায়। এমন ধারণা করা ভুল ও মন্দকাজ। কারণ দান করলে কখনো সম্পদ কমে না; বরং বাড়ে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘সদকা করলে সম্পদ কমে না।’ (মুসলিম: ৬৭৫৭)

যে ১০ জন সাহাবি দুনিয়াতে জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন, তাদের একজন হলেন জোবাইর (রা.)। তিনি বলেন, ‘গোপন গুনাহের কাফফারা হিসেবে বেশি বেশি গোপনে দান-সদকা কর। নিজ স্ত্রী বা স্বামীও জানবে না, সন্তানও নয়, এমনকি পৃথিবীর কেউ জানবে না। যাকে দেয়া হচ্ছে তিনিও অনেক ক্ষেত্রে জানেন না; কে তাকে দান করেছেন। শুধু আল্লাহ তাআলাই জানবেন, তাঁকে খুশি করতেই এই অবিরাম প্রচেষ্টা।’

বর্তমান সমাজে দেখা যায়, বিয়ে ও সুন্নতে খতনার অনুষ্ঠানসহ নানা অনুষ্ঠান বা পার্টির আয়োজন করতে গিয়ে অনেক অপচয় করা হয়। কিন্তু আমাদের পাশেই কোনো গরিব বা অসহায় ব্যক্তি না খেয়ে আছে, তার খবর আমরা মোটেই রাখি না। এ ধরনের অসহায় মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া সামর্থ্যবান প্রতিটি মুসলমানের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। কেননা দান জীবন, পরিবার ও সম্পদে কল্যাণ বয়ে আনে।

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ