ঢাকা, রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

নারীর জান্নাতে যাওয়ার সহজ আমল

প্রকাশনার সময়: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৩৫

রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তির তিনটি কন্যাসন্তান বা তিনজন বোন আছে, আর সে তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করেছে, তাদের নিজের জন্য অসম্মানের কারণ মনে করেনি, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (তিরমিজি: ১৯১২)

ইসলাম কন্যাসন্তানকে জান্নাতে যাওয়ার মাধ্যম বানিয়ে দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ইসলাম নারীদের জন্য জান্নাতে যাওয়া সহজ করে দিয়েছে। সহজে জান্নাতে যাওয়ার কিছু আমল নিচে উল্লেখ করা হলো—

পাপ পরিহার করা : নারীরা যেহেতু ঘরে থাকে, পর্দার আড়ালে থাকে, সারাক্ষণ সংসার নিয়েই ব্যস্ত থাকে, তাদের পাপ হওয়ার সুযোগ কম। কিন্তু কিছু কিছু বিষয় এমন আছে, যেগুলো অনেক হালকা মনে করা হয়, অথচ এগুলো হালকা নয়। নারীদের বেশিরভাগ জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হবে এই বিষয়গুলো। যেমন অনেকের মধ্যে অন্যের বিষয় নিয়ে চর্চা, মিথ্যা বলার অভ্যাস দেখা যায়। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, বিশাল একটি হাদিসের একাংশে উল্লেখ আছে, ‘...সাবধান! তোমরা মিথ্যাচার থেকে দূরে থাকো। কেননা মিথ্যাচার দ্বারা না সফলতা অর্জন করা যায়, না অর্থহীন অপলাপ থেকে বাঁচা যায়।’ (ইবনে মাজাহ: ৪৬)

অনেক নারীর মধ্যে পরশ্রীকাতরতা ও হিংসার প্রবণতা দেখা যায়। একজন নারী সহজে জান্নাতে যেতে হলে তা পরিহার করতে হবে। নবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা ধারণা করা থেকে বিরত থাকো। ধারণা বড় মিথ্যা ব্যাপার। তোমরা দোষ তালাশ কোরো না, গোয়েন্দাগিরি করো না, পরস্পর হিংসা পোষণ করো না, একে অন্যের প্রতি বিদ্বেষভাব পোষণ করো না এবং পরস্পর বিরোধে লিপ্ত হয়ো না; বরং তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা ভাই ভাই হয়ে যাও।’ (বুখারি: ৬০৬৪)

সহজ কিছু আমল : এ ছাড়া রাসুল (সা.) নারীদের জন্য এমন কিছু আমল বাতলে দিয়েছেন, যেগুলো পালন করার মাধ্যমে তারা খুব সহজে জান্নাতে যেতে পারবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নারী যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, রমজানে রোজা রাখে, আব্রু রক্ষা করে, স্বামীর নির্দেশ মান্য করে, তবে জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে।’ (ইবনে হিব্বান: ৪১৬৩)

স্বামীকে ভালোবাসা : মহান আল্লাহ সেই নারীদের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন না, যারা স্বামীকে ভালোবাসে না। স্বামীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে না। স্বামী ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করার পরও তাদের মনে স্বামীর প্রতি বিদ্বেষ থাকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ সেই নারীর প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন না, যে স্বামীর কৃতজ্ঞতা আদায় করে না। অথচ সে তার প্রতি মুখাপেক্ষী।’ (নাসায়ি: ৯০৮৭)

অন্য হাদিসে এরশাদ হয়েছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘(একদা) রাসুল (সা.)কে প্রশ্ন করা হলো, কোন নারী উত্তম? তিনি বললেন, যার প্রতি দৃষ্টিপাত করলে সে স্বামীকে সন্তুষ্ট করে। সে আদেশ করলে তার আনুগত্য করে, এবং (স্ত্রী) নিজের ব্যাপারে ও তার ধনসম্পদের ব্যাপারে যা অপছন্দ করে এমন কাজ করে তার বিরোধিতা করে না।’ (নাসায়ি: ৩২৩১)

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ