ঢাকা, সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

‘পদ্মা সেতু’ শুধুমাত্র একটি সেতু নয়

প্রকাশনার সময়: ০৫ জুন ২০২২, ১৯:৩৯ | আপডেট: ০৫ জুন ২০২২, ১৯:৪১

সাধারন দৃষ্টিতে এটি সেতু ছাড়া আর কীই-বা হতে পারে? কিন্তু যারা একটু গভীরভাবে উপলব্ধি করার চেষ্টা করেন তারা এটাকে সেতু না ভেবে নিশ্চয়ই অন্যভাবে ভেবে থাকেন। প্রথমত বাঙ্গালীর দীর্ঘদিনের আবেগ এর সাথে জড়িত। এ সেতু দেশের দক্ষিন- পশ্চিমাঞ্চলের ২২টি জেলার মানুষকে সারা দেশের সাথে সড়ক পথে স্বল্প দূরত্বে যোগাযোগের ব্যবস্থা করবে । আগে বাসায় বসে কিংবা পদ্মা পাড়ে এসে মনে হতো আমরা মনে হয় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন। এরপর প্রমত্তা পদ্মা পাড়ি দিতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুরুদুরু বুকে রওয়ানা। আল্লাহর রহমতে অধিকাংশরাই পার হয়েছে কিন্তু দূর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যাও কম নয়।

অর্থনৈতিকভাবে চিন্তা করলে এর গুরুত্ব অপরিসীম। অর্ধেক (৫০%) সময়ে এসব অঞ্চলের মানুষ ঢাকায় আসবে, কৃষিপণ্য নষ্ট হবে না, মৃত পথযাত্রী রোগীদের এ্যাম্বুলেন্সে পদ্মা পাড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে অক্সিজেনের অভাবে মরে যেতে হবে না। অন্ততপক্ষে হাসপাতালে তাড়াতাড়ি পৌছাতে পারবে। সেতুটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রতীক অর্থাৎ আমরাও পারি শুধু তোমরাই না। দক্ষিণাঞ্চলে শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে, কুয়াকাটায় পর্যটনের অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। গার্মেন্ট কারখানাসহ অন্য শিল্প কারখানায় ছেলে-মেয়েরা বাড়ীতে থেকেই কাজ করতে পারবে।

মাদারীপুর-শরিয়তপুরের লোকজন বাড়ী থেকে গিয়ে ঢাকায় অফিস করবে ফলে ঢাকায় চাপ কমবে। পার্শ্ববর্তী এলাকার ছাত্ররা ক্লাস করে যথাসময়ে বাড়ীতে ফিরবে। অনেকে ঢাকায় অফিশিয়াল কাজ সেরে বাড়ি যাবে, ফলে হোটেলে থাকতে হবে না। লঞ্চের কেবিনের জন্য ১৫ দিন আগে বুকিং দেয়া লাগবে না । ঈদ যাত্রায় জনভোগান্তি কমবে। গরু বোঝাই ট্রলার পদ্মা মেঘনায় ডুববে না। কৃষকরা নদীকেন্দ্রিক ডাকাতি থেকে রক্ষা পাবে। পায়রা, মোংলাপোর্টে গতির সাথে ঘটবে অর্থনৈতিক সমৃদ্বি।

কোলকাতার সাথে সড়কপথে দূরত্ব কমবে ফলে আমদানী ও রফতানি ব্যয় কমে যাবে। আমরা জানি দুইয়ে দুইয়ে চার হয় কিন্তু পদ্মা সেতু চারের অধিক দিবে । এ সেতু দেশের নিরাপত্তায় নিঃসন্দেহে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। জীবনে ঘাত প্রতিঘাত আসবেই তা প্রতিহত করেই এগিয়ে যেতে হবে । পরিশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিজস্ব অর্থায়নে এধরণের যুগান্তকারী সিদ্বান্ত নিয়ে বাস্তবায়নের জন্য অভিনন্দন, ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

এ বি এম সোবহান হাওলাদার

প্রকাশক

পেপারসফট পাবলিকেসন্স

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ