মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৩, ১৭ মাঘ ১৪৩০

অর্থনীতিতে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব অনেক

প্রকাশনার সময়: ০৫ জানুয়ারি ২০২৩, ১৫:০১

দিন দিন শিক্ষার হার বাড়ছে। কিন্তু বাড়েনি কর্মসংস্থান। এছাড়া দক্ষ মানবসম্পদের অভাবে কারণে অনেক সেক্টর এখন অন্য দেশ থেকে শ্রম আমদানি করতে বাধ্য হচ্ছে। তাছাড়া বাংলাদেশের যে জনশক্তি বিদেশে রফতানি হচ্ছে— তার বেশিরভাগই অদক্ষ। ফলে যে বেতন পাওয়ার কথা তার থেকে অনেক কমে চাকরি করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী দেশে পরিণত করতে দক্ষ জনসম্পদ রফতানির কোনো তুলনা নেই। বাংলাদেশের অর্থনীতির এখনও বিরাট একটা অংশ শুধু তৈরি পোশাক শিল্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ দিন দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন আয়ের খাত তৈরি করে ফেলেছে। চীনে ইতোমধ্যেই বিশ্বের বৃহত্তম বৃত্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। যেখানে প্রায় ১১ হাজার ৩০০টি বিদ্যালয় রয়েছে। যেখানে মোট ৩০.৮৮ মিলিয়ন শিক্ষার্থী এবং প্রতি বছর ১০ মিলিয়ন স্নাতকে নথিভুক্ত হয়। অন্যদিকে আমাদের দেশে সরকারিভাবে ৬২ জেলায় শুধু ৬৮ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। আমাদের দেশেও সম্ভব শিল্পে খাতকে সমৃদ্ধ করা।

কিন্তু আমাদের ছাত্রদের প্রথম পছন্দের তালিকায় কারিগরি জ্ঞানার্জনের ইচ্ছা খুবই কম। ফলে আমরা শুধু দক্ষ জ্ঞানে পিছিয়ে এমন নয়— নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনেও যোগ্য লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

গবেষণায় দেখা গেছে, মাধ্যমিক পরীক্ষার পর শুধু ১০ শতাংশ শিক্ষার্থীই কারিগরি শিক্ষা শিক্ষিত হওয়ার চেষ্টা করছে। যা দেশীয় চাহিদার জন্যই যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন শিল্পের নিয়োগকর্তারা ব্যবসায় ক্ষতি এড়াতে ব্যবহারিক দক্ষতাসহ দক্ষ লোকের সন্ধান করেন। নিঃসন্দেহে তারা বিদেশি কর্মীদের মধ্যে এই সুবিধাগুলো পাচ্ছেন। এটিই প্রথম স্থানে বিদেশিদের নিয়োগের পেছনে প্রাথমিক কারণ। এবং আমাদের নাগরিকদের প্রস্তুত করা আমাদের কর্তব্য যাতে শিল্পটি স্থানীয় কর্মীদের ওপর নির্ভর করতে পারে। দক্ষ জনসম্পদের মাধ্যমে দেশের চাহিদা মিটিয়ে প্রবাসী আয়ের পরিমাণও বাড়ানো সম্ভব। গত ২৯ অক্টোবর এক পত্রিকার এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে ‘জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট পত্রিকার বিজ্ঞাপন দিয়েও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে লোক পাচ্ছে না’। যা আমাদের দেশের দক্ষ মানবসম্পদের অভাব ইঙ্গিত করে। এই অভাব দিন দিন বেড়েই চলছে এবং এই সমস্যা দেশের অগ্রগতিতে ব্যাঘাত বাড়বে। TVET সংস্কার প্রকল্প বাংলাদেশ সরকারের একটি উদ্যোগ। যা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সহায়তায় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে। লক্ষ্য হলো— বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মান উন্নত করে দারিদ্র্য হ্রাস করা। তারপরও দেশকে চলমান রাখার জন্য সরকারকে অন্য দেশে থেকে অধিক বেতন দিয়ে শূন্য পদ পূর্ণ করতে হচ্ছে। যার ফলস্বরূপ দেশের টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৪টি দেশের অন্তত আড়াই লাখ বিদেশি নাগরিক বৈধ ও অবৈধ উপায়ে বাংলাদেশে কাজ করছেন। এভাবে বিদেশিরা বার্ষিক ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হাতিয়ে নিচ্ছে, এটা জাতির জন্য সার্বিক ক্ষতি। এটি ঘটছে কারণ আমাদের দেশের শিক্ষাবিদের ব্লু কলার, হোয়াইট কলার এবং সেই সঙ্গে প্রযুক্তিগত কর্মী বাহিনীকে লক্ষ্য করে পেশাদার কর্মশক্তির দিকে নির্দেশিত দক্ষতাভিত্তিক প্রয়োগকৃত জ্ঞানের ওপর যুক্তিসঙ্গত জোর দিচ্ছে না। এমতাবস্থায় কারিগরি শিক্ষার অগ্রগতি যে শুধু দেশের চাহিদা পূরণ করবে তা নয়, বিদেশে ভালো সেবা দিতে পারবে যার ফলে বিদেশে বাংলাদেশের জনগণের চাহিদার অনেক গুণ বের যাবে। ফলে সরকারের দেশব্যাপী ব্যয় কমে গিয়ে আয় বাড়বে। নতুন নতুন কারখানা তৈরি হবে, বেকারত্ব কমবে, বিদেশি বিনিয়োগেকারীদের দেশে বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়বে, রফতানি বাড়বে। যেহেতু দক্ষ মানবসম্পদের অভাব পরিলক্ষিত করতে পারছি। সেহেতু এখনই কারিগরি শিক্ষার দিকে সরকারে ও জনগণ উভয়ের মনোযোগ বাড়ানো দেয়া উচিত।

লেখক: শিক্ষার্থী (অর্থ ও ব্যাংকিং)

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ