ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

মুফতি হান্নানের জবানবন্দিতে তারেক, বাবর, মুজাহিদ

প্রকাশনার সময়: ২২ আগস্ট ২০২২, ০১:০১

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা কারা ছিলেন, তার সবই উঠে এসেছে হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের জবানবন্দিতে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া এই জঙ্গিনেতা নিরাপত্তা হেফাজতে থাকাকালে একটি ভিডিও জবানবন্দি দেন। তিনি জানান, এই হামলার পরিকল্পনার সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সে সময়ের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং মানবতাবিরোধী অপরাধী জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে তাদের।

২০১৮ সালে এই মামলার রায়ে এদের মধ্যে বাবরের মৃত্যুদণ্ড এবং তারেক রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণ হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড আগেই কার্যকর হওয়ায় এই মামলা থেকে তার নাম বাদ পড়ে যায়।

যে গ্রেনেড ব্যবহার করে হামলা হয়েছে, সেটি হামলাকারীদের হাতে তুলে দিয়েছেন বাবর নিজে। দুই দফা হাওয়া ভবনে এবং শেষবার বাবরের সরকারি বাসায় বৈঠক করে এই হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।

সেই পরিকল্পনার বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর এক খুনিও উপস্থিত ছিলেন।

এই ভিডিও জবানবন্দিটি কীভাবে বাইরে এলো, এ বিষয়ে অবশ্য তদন্ত সংস্থার লোকজন কিছু বলছেন না। তবে সেটি বেশ কয়েক বছর ধরেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার হচ্ছে।

বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের আইনজীবীরা অবশ্য দাবি করেছেন, মুফতি হান্নানকে জবানবন্দি দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। পরে তিনি তার বক্তব্য প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞের পর ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের এই হামলাকেই সবচেয়ে প্রাণঘাতী ও নৃশংস হিসেবে ধরা হয়।

সেদিন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে আশপাশের উঁচু ভবন থেকে একের পর এক গ্রেনেড ছুড়ে সে সময়ের বিরোধীদলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তিনি প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন বলতে গেলে অলৌকিকভাবে।

২৪ জনের প্রাণহানির সেই হামলায় শেখ হাসিনা যে ট্রাকে করে বক্তব্য রাখছিলেন, সেটির নিচে পড়া গ্রেনেডটি বিস্ফোরিত হয়নি। হলে গোটা ট্রাকটিই উড়ে যেতে পারত। যেসব গ্রেনেড নেতাকর্মীদের দেহ ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করেছে, তার স্প্লিন্টার শেখ হাসিনার দেহ পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি নেতাদের কারণে। বেশ কয়েকজন নেতা চারপাশে মানববর্ম তৈরি করে রক্ষা করেছেন তাকে। আর সেই স্প্লিন্টারে পরে প্রাণ গেছে ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের।

গ্রেনেড হামলায় শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে না পারার পর যে গুলি ছোড়া হয়, তা থেকে শেখ হাসিনা রক্ষা পান তার দেহরক্ষী মাহবুব রশীদের কারণে। তার গায়ে বিদ্ধ হয় সেই গুলি আর এতে প্রাণ হারান তিনি।

মুফতি হান্নানের এ জবানবন্দিতে এই হামলায় তার এবং অন্যদের সম্পৃক্ততা ছাড়াও জঙ্গি তৎপরতায় তার সম্পৃক্ততার বিষয়টিও উঠে এসেছে।

হান্নান হামলা পরিকল্পনায় সম্পৃক্ত তিন দিন আগে

মুফতি হান্নান জানান, পাকিস্তানে কওমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে ১৯৯২ সালের শেষ দিকে তিনি দেশে ফেরেন। তখনও তিনি হরকাতুল জিহাদ, বাংলাদেশে (হুজিবি) যুক্ত হননি।

দেশে আসার পর কিছুদিন অসুস্থ ছিলেন। এরপর গ্রামে একটা কওমি মাদ্রাসায় কিছুদিন শিক্ষকতা করেন।

২১ আগস্টের হামলায় কীভাবে যুক্ত হলেন?– এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, তারা এই পরিকল্পনায় যুক্ত হন ওই মাসের ১৮ তারিখে। হুজিবির আমির আব্দুস সালাম, জেনারেল সেক্রেটারি শেখ ফরিদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান উল্লাহ কাজল তাকে খবর দেন।

মুফতি হান্নান বলেন, ‘ওনারা আমাকে খবর দেন। একটা মিটিং আছে, আজকে সকালেই মানে ১৮ তারিখ চইলা আসার জন্য বললেন।’

সে সময় হান্নান থাকতেন মেরুল-বাড্ডার আনন্দনগরের একটি বাসায়।

এ হামলায় তার এবং অন্যদের ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার পার্টটুকু বলতে গেলে তো অন্যদের পার্টটাও আইসা যাবে।’

তিনি জানান, সেদিন তারা মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের কাছে দারুল আরকাম মাদ্রাসায় হরকাতুল জিহাদের অফিসে যান। সেখানে আব্দুস সালাম ও শেখ ফরিদ ছাড়াও তাদের কমান্ডার জাহাঙ্গীর বদর জান্দাল উপস্থিত ছিলেন। আর হান্নানের সঙ্গে যান আহসান উল্লাহ কাজল।

দুই বৈঠক বনানীর হাওয়া ভবনে

মুফতি হান্নান জানান, তাদের সংগঠনের অন্য নেতারা তাকে জানিয়েছেন, এই হামলা পরিকল্পনা নিয়ে সে সময় তুমুল আলোচিত হয়ে ওঠা বনানীর হাওয়া ভবনে দুটি বৈঠক হয়েছিল। এরপর আরও একটা বৈঠক হয়।

হান্নান জানান, হাওয়া ভবনের প্রথম বৈঠকে তারেক রহমান, বাবর ও মুজাহিদ কথা বলেছেন তাদের জঙ্গি সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে।

‘ওনারা বললেন যে, প্রথমে ১৪ তারিখে একটা মিটিং ছিল, হাওয়া ভবনে। মিটিংয়ে শরিক ছিলেন তারেক জিয়া, আলী আহসান মুজাহিদ, তারপরে হারিছ চৌধুরী, আব্দুস সালাম পিন্টু সাব, হরকাতুল জিহাদের আমির আব্দুস সালাম সাব, শেখ ফরিদ সাব, আর মারকাজুল ইসলামের নায়েবে আমির মুফতি আব্দুর রশীদ সাব।

‘ওখানে আলোচনা হয়, তারেক জিয়া আলোচনা করেন যে, “বর্তমানে দেশের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনা এ দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতেছে। দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেছে। দেশে জঙ্গিবাদ বিভিন্ন ধরনের কথা বলে দেশকে উশৃঙ্খল এবং নষ্ট করে দিচ্ছে। এ ব্যাপারে আমাদের একটা পদক্ষেপ নেয়া দরকার।”

‘আলী আহসান মুজাহিদ সাব বললেন, “আপনার কথা খুবই সত্য। শুধু তা-ই নয়, ইসলামের বিরুদ্ধে কাজ করতেছে। অতএব আপনার কথাগুলো অবশ্যই সত্য। এগুলো কাজ থামানো দরকার।”

‘এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুর জামান বাবর সাব, উনি বললেন, “কথাগুলো সবই সত্য। তখন আমাকে… কথাগুলো বলতে হবে। এখন পরিষ্কারভাবে বলেন কী পদক্ষেপ নেয়া দরকার।”

‘উনি (তারেক রহমান) বললেন, এখানে দুইটা পদক্ষেপ… এ দেশে যে অরাজকতা সৃষ্টি হইছে, আমাদের রাজনৈতিকভাবে ব্যাপক মোকাবিলা করা দরকার। নচেৎ তাকে (শেখ হাসিনা) এই দেশ থেকে চিরবিদায় করে দেয়া দরকার। অর্থাৎ তাকে শেষ করে দেয়া দরকার।’

হাওয়া ভবনের বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর খুনিও

মুফতি হান্নানের তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া এক আসামিও সেই হত্যা পরিকল্পনায় অংশ নেন। তারেক রহমান তাকে কিছু বলতে বললে তিনি বলেন, ‘আপনারা রাজনৈতিকভাবে অবশ্যই মোকাবিলা করবেন। কিন্তু আমি তো রাজনীতি করি না তেমন। আমি জানি তাকে মোকাবিলা করতে হলে তিনটা পদক্ষেপ নিতে হবে।

‘এক, তার বাড়িতে আক্রমণ করতে হবে, অথবা আসা-যাওয়ার কোনো পথে আক্রমণ করে তাকে মেরে ফেলতে হবে। নচেৎ তাকে কোনো মিটিংয়ে আক্রমণ করে শেষ করতে হবে।

‘তবে একটা কথা, জনগণের যেন ক্ষতি না হয়। যত কম ক্ষতি করে তাকে শেষ করা যায়, এইটার ব্যাপারে আপনারা চিন্তাভাবনা করেন।’

এরপর সে সময়ের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, ‘আমার কাছে গ্রেনেড আছে। এই গ্রেনেডও ব্যবহার করা যেতে পারে। দেখেন।’

তখন বঙ্গবন্ধুর সেই খুনি বলেন, ‘হ্যাঁ, গ্রেনেডে যদি হয়, তাহলে রাস্তায় আক্রমণ করা যাবে না। ওনাকে কোথাও একই জায়গায় অবস্থানের সময় আক্রমণ করতে হবে। মিটিংয়ে আক্রমণ করলে কামিয়াব হওয়া যাবে।’

সেই বৈঠকে সবকিছু চূড়ান্ত না হওয়ায় পরদিন আবার বৈঠক হয় বলে জানিয়েছেন মুফতি হান্নান। তিনি বলেন, ‘আলোচনার পর একটা সিদ্ধান্ত যে গ্রেনেড যখন আছে এবং এখানে আমাদের রাইফেল অস্ত্র প্রয়োজন হবে।

‘গ্রেনেডে সংক্ষেপে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত কম হবে। বোমা বিস্ফোরণ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত বেশি হবে। আর রাইফেলের দ্বারা যদি মারা হয়, তাহলে আরও মানুষ কম ক্ষতি হবে। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হলো, ঠিক আছে, গ্রেনেড ব্যবহার হবে।’

সে সময় তারেক রহমান জানান, ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগ সমাবেশ ডেকেছে, মুক্তাঙ্গনে অনুমতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা চাইছে অফিসের সামনে হোক। যেখানেই হোক, এখানে পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে।

তখন বৈঠকে বলা হয়, পুলিশ থাকবে, গোয়েন্দার লোক থাকবে, তারা সহযোগিতা করবে।

হান্নান জানান, এ সংক্রান্ত তৃতীয় বৈঠক হয় মিন্টো রোডে বাবরের সরকারি বাসভবনে। সেখানেও তারেক রহমান, আলী আহসান মুজাহিদ, হারিছ চৌধুরী, আব্দুস সালাম পিন্টু এবং হরকাতুল জিহাদের আব্দুস সালাম, শেখ ফরিদ উপস্থিত ছিলেন। আরও ছিলেন আরিফুল ইসলাম আরিফ নামে সিদ্ধেশ্বরীর একজন।

গ্রেনেড দেন বাবর নিজে

এ হামলায় তার নিজের ভূমিকা প্রসঙ্গে আবার প্রশ্ন করা হলে মুফতি হান্নান বলেন, ‘১৮ তারিখে আমাদের যে মূল বৈঠক হয়, ওই মিটিংয়ে… হরকাতুল জিহাদের আমির মাওলানা আব্দুস সালাম সাহেব এবং সেক্রেটারি শেখ ফরিদ, চিফ কমান্ডার জাহাঙ্গীর বদর জান্দাল, আহসান উল্লাহ কাজল ও আমি এই কয়েকজন আমরা আব্দুস সালাম পিন্টু সাবের (সে সময়ের উপমন্ত্রী) বাসায় যাই।

‘আমরা ওখানে যাওয়ার পরে সর্বপ্রথম আব্দুস সালাম পিন্টুর ছোট ভাই তাজউদ্দিনকে (মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি) দেখতে পাই এবং তার একজন আত্মীয় মাওলানা আবু তাহেরকে দেখতে পাই।

‘এরপর আমরা অপেক্ষা করার পরে দুইটা গাড়ি আসে। কালো রঙের পাজেরো গাড়ি আসে। প্রথম গাড়িটা ঢোকে, গেট থেকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর সাহেব গাড়ি থেকে নামেন, আরেকজন লোক নামে।

‘দ্বিতীয় গাড়ি থেকে পরপর তিনজন নামেন। তারা ভেতরে বৈঠক করেন। বৈঠক করার পরে আমরা যে কয়জন ছিলাম, তাদের সঙ্গে বসি এবং পরিচয় হয়। তখন আমরা জানতে পারি বাবর সাবের সঙ্গে যে ছিল তার নাম হলো…

এ জায়গায় তদন্তকারীরা মুফতি হান্নাকে থামিয়ে দিয়ে সংক্ষেপ করতে বললে হান্নান বলেন, ‘সংক্ষেপে পারতেছি না স্যার।’

গ্রেনেডগুলো কবে হাতে পেয়েছেন– তদন্তকারীদের এ প্রশ্নের জবাবে মুফতি হান্নান বলেন, ১৮ তারিখের সেই বৈঠকের পর বাবর তাদের বলেন যে, ‘গতকালই বলছিলাম গ্রেনেড দেয়ার কথা। সেই গ্রেনেডগুলো আমি নিয়ে আসছি।’

একটা সবুজ রঙের ব্যাগের ভেতর থেকে আরেকটা কাগজের ব্যাগ বের করে সেখান থেকে গ্রেনেডগুলো বের করে দেন বাবর।

কতগুলো গ্রেনেড ছিল, জানতে চাওয়া হলে মুফতি হান্নান বলেন, ‘প্রথম দুইটা প্যাকেট বের করে। ছোট প্যাকেট, লম্বা প্যাকেট ছিল। ওর ভেতরে পাঁচটা করে গ্রেনেড ছিল। তখন টেবিলে রাখে। দুইটা গ্রেনেড খোলা ছিল। শুধু কাপড়ে মোড়া ছিল। ওপর-নিচে টেপ লাগানো ছিল, দেখা যেত। দুইটা গ্রেনেড ছিল খোলা, এই ১২টা গ্রেনেড হ্যান্ডওভার করে।’

আইনজীবীর বক্তব্য

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অন্যতম আসামি লুৎফুজ্জামান বাবরের পক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘মামলাটিকে বলা হয় জজ মিয়া নাটক। আসলে সব থেকে বড় নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছে মুফতি হান্নানের মাধ্যমে। এ মামলায় এক সময় ৬০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি হয়ে গিয়েছিল। সেই চার্জশিটে কোথাও তারেক রহমান, বাবরের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে তাদের আজ্ঞাবহ তদন্তকারী কর্মকর্তা দিয়ে নতুন করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়, যেখানে মুফতি হান্নানকে দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করা হয়। পরে কিন্তু হান্নান অস্বীকার করেছেন- তিনি এমন জবানবন্দি দেননি। এটা দিয়ে প্রমাণ হয়, এ মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিকে হয়রানি করার জন্যই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আসামি করা হয়েছে। আশা করি উচ্চ আদালতে তারা নির্দোষ প্রমাণিত হবেন।’

কার কী সাজা

২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর বিচারিক আদালত যে রায় দেয়, তাতে মোট ৪৯ জনের সাজা হয়। মামলায় আসামি ছিলেন মোট ৫২ জন। তবে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড আগেই কার্যকর হওয়ায় তাদের এই মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়।

দণ্ডিতদের মধ্যে ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং সমানসংখ্যক আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়। বাকি ১১ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে।

এই ৪৯ আসামির মধ্যে আট জন রাজনৈতিক নেতা, পাঁচ জন সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং আট জন পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা। বাকি ৩১ জন হরকাতুল জিহাদের জঙ্গি।

মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম, হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফ, জঙ্গিনেতা মাওলানা তাজউদ্দিন, মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, মাওলানা শেখ ফরিদ, মাওলানা আবু সাইদ, মুফতি মঈনউদ্দিন শেখ ওরফে আবু জান্দাল, হাফেজ আবু তাহের, মো. ইউসুফ ভাট ওরফে মাজেদ বাট, আবদুল মালেক, মফিজুর রহমান ওরফে মহিবুল্লাহ, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হোসাইন আহমেদ তামিম, রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ও মো. উজ্জ্বল ওরফে রতন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, আরিফুল ইসলাম আরিফ, জঙ্গিনেতা মুফতি আবদুর রউফ, হাফেজ ইয়াহিয়া, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, মাওলানা আবদুল হান্নান ওরফে সাব্বির, মুরসালিন, মুত্তাকিন, জাহাঙ্গীর বদর, আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক, আবু বকর সিদ্দিক ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মো. ইকবাল, রাতুল আহমেদ, মাওলানা লিটন, মো. খলিল ও শাহাদত উল্লাহ ওরফে জুয়েলের।

বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডিত ১১ জন হলেন মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমীন, লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার, লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ওরফে ডিউক, সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা, সাবেক আইজিপি শহিদুল হক, সাবেক ডিআইজি খান সাঈদ হাসান, ডিএমপির সাবেক ডিসি (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান খান, সাবেক আইজিপি খোদা বক্স চৌধুরী, জোট সরকার আমলের তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক এএসপি আবদুর রশিদ, সাবেক এএসপি মুন্সী আতিকুর রহমান ও সাবেক পুলিশ সুপার রুহুল আমীন।

সামছুল আলম সাদ্দাম, লেখক ও সাংবাদিক।

নয়া শতাব্দী/এমএস

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ