রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

কটিয়াদীতে ৫শ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢাকঢোলের হাট

প্রকাশনার সময়: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২১:২৭

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে প্রতিবছরের মতো এবারও বসেছে দেশের সর্ববৃহৎ ঢাকঢোলের হাট। দুর্গাপূজা উপলক্ষে কটিয়াদী পুরাতন বাজার, প্রেস ক্লাব ও মুক্তিযোদ্ধা অফিসের সামনে এ হাট বসে। প্রতিবছরের মতো এবারও ২ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী এ ঢাকের হাট শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ হাট চলবে শনিবার দুপুর পর্যন্ত।

হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এবং জাঁকজমক পূর্ণ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। পূজার সকল আয়োজন প্রায় শেষ। এখন শুধু ঢোলের বাজনা আর সানাইয়ের সুর। বিক্রেতারা এরই মধ্যে ঢাকঢোল, সানাই, বাঁশি নিয়ে হাটে আসতে শুরু করেছে দল বেঁধে। দীর্ঘদিনের এই ঐতিহ্যবাহী হাট সম্পর্কে দেশের প্রায় সর্বত্রই সুনাম রয়েছে। পূজার আয়োজকরা ভাল মানের বাদক নিতে ছুটে আসেন এই হাটে।

জনশ্রুতি আছে, ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে সামন্ত রাজা নবরঙ্গ রায় সর্বপ্রথম তার প্রাসাদে দুর্গাপূজার আয়োজন শুরু করেন। উপজেলা সদর থেকে দুই কিলোমিটার উত্তরে ভোগবেতাল গ্রামে ছিল রাজার প্রাসাদ। পূজা আসলে সুদূর বিক্রমপুর (মুন্সীগঞ্জ) পরগনার বিভিন্ন স্থানে বার্তা পাঠানো হতো। ঢাকঢোল বাঁশিসহ বাদ্যযন্ত্রীদের আগমনের জন্য। সে সময় নৌপথে বাদ্যযন্ত্রীরা কটিয়াদী-মঠখোলো সড়কের পাশে পুরোনো ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে যাত্রাঘাট নামক স্থানে পূজার দুইদিন আগে এসে পৌঁছাতেন। পরবর্তী সময়ে মসুয়া গ্রামে বিশ্বনন্দিত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষ হরিকিশোর রায় চৌধুরীর বাড়িতে মহা ধুমধামে পূজা শুরু হয়। সেই সঙ্গে চলে পূজায় বাদ্যযন্ত্রের প্রতিযোগিতা। দিন দিন পূজারী ও আয়োজকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। একপর্যায়ে হাটের স্থান নির্ধারণ নিয়ে আয়োজকদের মাঝে বিরোধ আর দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হলে অবশেষে যাত্রাঘাট থেকে স্থান পরিবর্তন হয়ে আড়িয়াল খাঁ নদের তীরবর্তী কটিয়াদী পুরাতন বাজার এলাকায় এই হাট চলতে থাকে।

স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে দিন দিন পূজার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঢাকিদের সংখ্যাও বেড়েছে৷ এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, সিলেট, ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দুর্গাপূজার আয়োজকরা এই হাট থেকে বায়না দিয়ে বাদ্যযন্ত্রীদের নিয়ে যান।

শুক্রবার সকালে এ হাটে সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নাচসহ বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিতে বাদ্যযন্ত্রীরা গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে ঢাকি ও পূজা আয়োজকদের ভিড়ে জমে উঠেছে ঢাকের হাট। এবার হাটে একটি ঢাক ৮ থেকে ২০ হাজার টাকা, ঢোল ৭ থেকে ১২ হাজার টাকা, ব্যান্ডপার্টি প্রকারভেদে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায় পর্যন্ত বায়না হচ্ছে। বাংলাদেশের আর কোথাও এ ধরনের বাদ্যযন্ত্রের হাট নেই।

পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ভিপি দুলাল বর্মন জানান, এ ঢাকের হাট আমাদের দেশের ঐতিহ্য। মানুষ এই হাটে এসে ঢাকি বায়না করে নিয়ে যান।

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খানজাদা শাহরিয়া বিন মান্নান জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এবং জাঁকজমকপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা । দূর্গাপূজা উপলক্ষে আসা ঢাকীদের নিরাপত্তাসহ যাবতীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

নয়াশতাব্দী/এমএস

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ