ঢাকা, শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯, ১২ রজব ১৪৪৪

এক টাকার জীবন যুদ্ধে ৫০ বছর!

প্রকাশনার সময়: ২২ জানুয়ারি ২০২৩, ১৮:১৩

নাম মতিয়ার মিয়া। বয়স ৬৫ ছুঁই ছুঁই। ষাটের দশকে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের মদনে পাড়া গ্রামে দরিদ্র কৃষক পিতা মজিবর রহমানের ঘরে জন্ম তার। স্বাধীনতার পর থেকেই চলছে এই কাশের বড়ি বিক্রি।

তাকে দেখলেই গাইবান্ধার যেকোনো বয়সী অধিকাংশ মানুষই চিনে ফেলবে, এটা কুলুর কুলুর কাশের বড়ি বিক্রেতা মতিয়ার। হাতে থাকা নানা রঙের বড় বড় গোল বড়ি (চকলেট সদৃশ) বিক্রির আগে তার ‘এই কুলুর কুলুর কাশের বড়ি’, ‘এক বড়িতেই কাশ পালাবে বাড়ি’ এই হকারি স্লোগানটি দেওয়ার কারণেই তাকে সবাই কুলুর কুলুর কাশের বড়ি চাচা নামেই ডাকেন। কেউ কেউ তাকে কুলুর কুলুর মতিয়ার ভাই বলেও সম্মোধন করেন।

দুই ছেলের একজন ঢাকায় রিকশা চালায় অপরজন গ্রামেই রিকশা ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। একমাত্র মেয়ে মর্জিনার বিয়ে হয়েছে পাশের গ্রামে। এখনো এরশাদের দেওয়া টিনের বাড়িতেই বসবাস করছেন। সত্তুরের দশকে একটা কাশের বড়ি পাঁচ পয়সা বিক্রি করতেন। আজ ৫২ বছর পরেও সেই কাশের বড়ি বিক্রি করছেন মাত্র এক টাকায়। প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন অলি-গলি, হাট-বাজার ও পথে-ঘাটে হকারি করে তিন থেকে চার'শ টাকার বড়ি বিক্রি করেন। এ থেকে দুই'শ টাকার মত আয় হয়। তা দিয়েই কোনরকমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। স্বাভাবিকভাবেই তার জীবনে অর্থনৈতিক কোন পরিবর্তন হয়নি। অথচ তার চারপাশের সবকিছুই পরিবর্তন হতে দেখেছেন তিনি।

সরেজমিনে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় মতিয়ার মিয়ার। একটি চা খাওয়ার অনুরোধ করতেই বোঝা গেল খুব সাদাসিধে ও নির্লোভ প্রকৃতির মানুষ তিনি। বললেন, চা খেতে রাজি আছি, তবে আজকের চায়ের বিল আমি দিব। অল্প কথাতেই বোঝা গেল, ছোটকাল থেকে দেখে আসা সেই কুলুর কুলুর কাশের বড়ি বিক্রেতা মতিয়ার মিয়া কতটা ব্যক্তিত্বের অধিকারী।

মতিয়ার মিয়া জানান, বাপের সামান্য ভিটেমাটিতে বসবাস করে আসছেন। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ একবার তার বাড়িতে গিয়েছিল। খুব লজ্জা করে তিনি একটা ঘর চেয়েছিলেন। সেই সময়ের দায়িত্বশীল জাতীয় পার্টির রশিদ চেয়ারম্যানকে সঙ্গে সঙ্গে ঘর করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বলেছিলেন, চেয়ারম্যানকে বললে দিবেনা। তখন তিনি ডিসি সাহেবকে ঘর করে দেওয়ার কথা বললে তিনি টিন দিয়েছিলেন। সেই টিনের ঘরেই এখনো বসবাস করছেন। তবে সেগুলো এখন নষ্ট হয়ে গেছে।

বর্তমান চেয়ারম্যান ও মেম্বারের কাছে তিনি কখনো কিছু নেবেন না। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা অর্থ ছাড়া কোন সরকারি সুযোগ সুবিধা দেন না। আর তাই তিনি তাদের কাছে কিছু প্রত্যাশাও করেন না। ‘মানুষের সাথে মানুষের ভালবাসা হয় হৃদয় থেকে, টাকা দিয়ে ভালবাসা হয় না’।

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ