ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ঋতু পরিবর্তনে বাড়তি সচেতনতা 

প্রকাশনার সময়: ২৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮:০৫

প্রকৃতিতে এখন শীতকাল। ওয়ারড্রব থেকে গরম কাপড় নামিয়ে গায়ে জড়ানোর এখনই সময়। শীতকাল আর ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে অনেকের কাছেই অনাকাক্সিক্ষতভাবে হাজির হয় জ্বর, সর্দি-কাশির সমস্যা। গুরুতর আকারে সমস্যা দেখা দিলে ওষুধ খাওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। তবে একটু খেয়াল করে চললেই এসব সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন ভেতর থেকে সুস্থ থাকা। আমাদের প্রতিদিনের খাবারে একটুখানি এদিক ওদিক করলেই তা সম্ভব। চলুন তাহলে জেনে নেই, কোন খাবারগুলো আমাদের শীতের এসব অসুখ থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করবে।

আদা: ঠাণ্ডা লাগলে আমরা সবাই আদা দিয়ে চা খাই। আদা মিউকাস ভেঙে শ্বাসতন্ত্রকে পরিষ্কার রাখে। এছাড়াও আদায় রয়েছে ফাইটোকেমিক্যালস যা ভাইরাসজনিত ঠা-ার মোকাবিলা করে। তাই এখন থেকে বিকেলের নাস্তায় রাখতে পারেন এক কাপ আদা চা। যা আপনাকে রাখবে ভেতর থেকে সুস্থ।

রসুন: রসুনের রয়েছে অ্যানটিভাইরাল ও অ্যানটিব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টি, যা ঠাণ্ডা, কাশি ও সাইনোসাইটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে। সাধারণত প্রতিদিন রসুনের ২/১ টি কাঁচা কোয়াই ঠাণ্ডা প্রতিরোধের জন্য যথেষ্ট।

মাশরুম: মাশরুম আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে সাপোর্ট করে। এতে আছে প্রচার পরিমাণ ভিটামিন ডি যা ইমিউন ফাংশন ভালো রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন ইনফেকশন প্রতিরোধ করে।

জিঙ্ক: জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার হোয়াইট ব্লাড সেল বৃদ্ধিতে সহায়তা করে যা আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে ভালো রাখে। তাই ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা থেকে বাঁচতে জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার যেমন- গরুর মাংস, বাদাম, ডিম, দই, দুধ, ডার্ক চকলেট ও বিভিন্ন রকম ডাল এগুলো বেশি করে খান।

শীতের সবজি: শীত মৌসুমে বাজারে নানা ধরনের সবজি থাকে। বিভিন্ন উজ্জ্বল রঙের সবজিতে থাকে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ, সি ও ই।

ভিটামিন সি: প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার আমাদেরকে ভাইরাস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কেননা, এতে রয়েছে অ্যানটিঅক্সিডেন্ট প্রপার্টি। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের দিনে ৬০- ৯০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি এর দরকার হয়, যা আপনি খুব সহজেই একটি কমলা থেকে পেতে পারেন। তাই এ সময় প্রচুর পরিমাণে লেবু, কমলা, আঙুর, ব্রকলি, টমেটো ও ক্যাপসিকাম খান।

গাজর: গাজরে আছে প্রচুর বিটা ক্যারোটিন যা আমাদের শরীরে প্রবেশ করার পর ভিটামিন এ তে রূপান্তরিত হয়। এটি আমাদের থ্রোট ফাংশনকে ভালো রাখে।

মাছ: বিভিন্ন তৈলাক্ত মাছ যেমন রুই, বোয়াল, টুনা এগুলোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। যা ইমিউন সিস্টেমকে ভালো রাখে।

চিকেন স্যুপ: স্যুপ আমরা সকলেই খেতে পছন্দ করি। আর অসুস্থ হলে তো কথাই নেই। তবে অসুখ- বিসুখ হবার আগেই এই খাবারটি নিয়মিত খেলে আপনি ঠাণ্ডাজনিত যেকোনো সমস্যা থেকেই দূরে থাকতে পারবেন। আর ওপরে যেসব খাবারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলোর ব্যবহারও আপনি একসঙ্গেই করতে পারবেন। তাই বেশি করে আদা-রসুন, গাজর-ব্রকলি, ডিম আর অনেকটা লেবুর রস মিশিয়ে তৈরি করুন চিকেন স্যুপ। উষ্ণ এই তরল খাবারটি হালকা ঠা-ায় খেতে যেমন ভালো লাগবে, তেমনি আপনাকে ভেতর থেকে রাখবে একদম ফিট।

শীতকাল আর ঋতু পরিবর্তনের সময়ে এসব অনাকাক্সিক্ষত সমস্যা ছাড়াও মরার উপর খরার ঘা করোনা ও ডেঙ্গুর প্রভাব রয়েছে। তাই আগের চেয়ে আরো বেশি সর্তক থাকতে হবে এবং অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

নয়া শতাব্দী/জেআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ