মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

অ্যান্টিবায়োটিক খান বুঝে-শুনে 

প্রকাশনার সময়: ০৬ অক্টোবর ২০২২, ১১:৩৬

জ্বর কিংবা ঠাণ্ডা-কাশি হলেই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রবণতা অনেকের। তারা মনে করেন, এতে রোগ সেরে যাবে। দ্রুত সুস্থ হওয়া যাবে। এক্ষেত্রে অনেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যেতে চান না। নিজের জানা-শোনা অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে নেন কিংবা বিশেষজ্ঞ নয়; এমন ডাক্তারের ফার্মেসিে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে আসেন। এরকম করা ঠিক নয়; বরং কখনো অ্যান্টিবায়োটিক সেবন বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া শুরু করেন। ডাক্তার তাকে ৫ দিনের কোর্স দেন। কিন্তু তিনি তিনদিন পর ভালোবোধ করায় ওষুধ খাওয়া ছেড়ে দেন। এর ফলে কিছু দিন পর তার আবার অসুখ দেখা দেয়। এরপর তিনি নিজে নিজেই ওই একই ওষুধ কিনে খেতে থাকেন। দুই এক মাসের জন্য সুস্থ থাকলেও আবারও ফিরে আসে অসুখ। কেউ কেউ আবার নির্ধারিত সময়ে অ্যান্টিবায়োটিক খান না। কখনো মিস হয়ে গেলে একসঙ্গে দুটো খেয়ে নেন; এভাবে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হয়ে পড়ে বা তার কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে স্বাস্থের মারাত্মক ক্ষতি হয়।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত ভাইরাল ইনফেকশন যেমন সর্দি, কাশি, জ্বর এসবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে যদি ইনফেকশন বা সংক্রমণ দ্বিতীয় পর্যায়ে যায়, তখন দেয়া যেতে পারে। চিকিৎসক একজন রোগীর অবস্থা বুঝে ৫ থেকে ৭ দিনের একটা কোর্স দিয়ে থাকেন। কিন্তু কেউ যদি সেই সময়ের আগে শেষ করে দেয়, তাহলে ওই অ্যান্টিবায়োটিক রোগীর শরীরে অকার্যকর হয়ে পড়ে। তখন ওই রোগীর জন্য আগের চেয়ে বেশি মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক দরকার হয়ে পরে।

অ্যান্টিবায়োটিকের অতি ব্যবহার বা কোর্স শেষ না করার ফলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন : রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে যাওয়া। শরীর দুর্বল হয়ে পরা। যেকোনো রোগে সহজেই আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি।

কয়েকটি কারণে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হয়ে থাকে। এর মধ্যে কয়েকটি কারণ হলো,

১. প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঘনঘন অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা।

২. পুরো কোর্স শেষ না করে মাঝপথে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া বন্ধ করা।

৩. প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্প ডোজের অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া।

৪. কয়েকদিন পর এমনিতে সুস্থ হয়ে যেত এমন অসুখে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া।

সুতরাং অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হবে বুঝে-শুনে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের দিক-নিদের্শনা মেনে। এবং গুরুত্বের সঙ্গে কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। কোর্স শেষ হওয়ার আগে শরীরে সুস্থতা বোধ করলেও অ্যান্টিবায়োটিক সেবন বন্ধ করা যাবে না।

নয়া শতাব্দী/আর আর

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ