রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

চোখ ওঠার কারণ ও প্রতিকার (ভিডিও)

প্রকাশনার সময়: ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮:৩৬ | আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮:৪৬

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে চোখ ওঠার প্রাদুর্ভাব। প্রায় প্রতিটি ঘরেই কেউ না কেউ এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ রোগকে বলে কনজাংটিভাইটিস। চোখের কনজাংটিভা নামক পর্দার প্রদাহই চোখ ওঠা রোগ। এ রোগটি মূলত ভাইরাসজনিত এবং ছোঁয়াচে। চোখ ওঠার কারণ কী? লক্ষণ কী? এই রোগ কীভাবে ছড়ায়? আক্রান্ত হলে করণীয় কী? কোন কোন পরামর্শ মেনে চললে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব- এসব বিষয় নিয়ে ডা. কাজি ফারিয়া জেসমীন পিজিটি ট্রেইনি (ডিপ্লোমা ইন অফথালমোলজি), সিএমইচ, ঢাকা- এর সঙ্গে কথা বলেছেন নয়া শতাব্দীর প্রতিবেদক জাফর ইকবাল।

নয়া শতাব্দী: চোখ ওঠার কারণ কী?

ডা. কাজি ফারিয়া জেসমীন: চোখের পাতার নিচের আবরণীকে আমরা বলি কনজাংটিভা। এই কনজাংটিভার মধ্যে যখন কোন প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন হয় তখনই আমরা এটাকে কনজাংটিভাইটিস বা বাংলায় আমরা বলি চোখ ওঠা। কনজাংটিভার পেছনে অনেক ধরনের কারণ থাকে। এর মধ্যে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের কারণেই মূলত চোখ উঠে থাকে।

নয়া শতাব্দী: চোখ ওঠার লক্ষণ কী?

ডা. ফারিয়া জেসমীন: বর্তমানে আমরা যেসব রোগী দেখছি তারা যে সব উপসর্গ নিয়ে আসছেন তা হলো- ১. চোখ লাল হয়ে যাওয়া। ২. চোখ দিয়ে পানি পড়া। ৩. চোখে পিচুটি (কেতুর) অথবা ময়লা হওয়া। ৪. ঘুম থেকে উঠলে চোখের পাতা খুলতে না পারা। ৫. চোখের পাতার চারপাশ ফুলে উঠা। ৬. চোখ জ্বালাপোড়া করা। ৬. চোখে ব্যথা হওয়া।

নয়া শতাব্দী : চোখ উঠলে চোখে বড় ধরনের কোন সমস্যা হতে পারে কি না?

ডা. ফারিয়া জেসমীন: ঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিলে এই রোগে সে রকম কোন সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই এ রোগ ভালো হয়ে যায়।

নয়া শতাব্দী: এই রোগ কীভাবে ছড়ায়?

ডা. ফারিয়া জেসমীন: এটা ছোঁয়াচে রোগ। এই রোগ আসলে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস অথবা কিছু কিছু ক্ষেত্রে ফাঙ্গাল অথবা এলার্জির কারণে ছড়ায়। আবার হ্যান্ড টু আই কন্টাক্টের (হাত না ধুয়ে চোখ ছোঁয়ার) মাধ্যমেও ছড়ায়।

নয়া শতাব্দী: এই রোগে আক্রান্ত হলে করণীয় কী?

ডা. ফারিয়া জেসমীন: ১. প্রোপার হাইজিং মেইনটেন করতে হবে মানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। ২. আক্রান্ত ব্যক্তি বাইরে গেলে অবশ্যই কালো চশমা পড়বে। ৩. বারবার হাত স্যানিটাইজ করতে হবে। ৪. চোখ হাত দিয়ে চুলকানো যাবে না। ৫. চোখের প্রদাহ বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

নয়া শতাব্দী: চোখ উঠলে কোন চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে কি না এবং সেটার ব্যয় কেমন?

ডা. ফারিয়া জেসমীন: অবশ্যই চিকিৎসা আছে। আমাদের কাছে চোখ ওঠার কোন রোগী এলে আমরা যদি মনে করি চোখ ওঠাটা ব্যাকটেরিয়াজনিত কারণে হয়েছে তাহলে আমরা তাদেরকে অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ এবং সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক কিছু ওয়েনমেন্ট প্রেসক্রাইব করি। চুলকানি থাকলে সে অনুযায়ী চুলকানির জন্য কিছু ড্রপ দিই। মুখে খাওয়ার ঔষধ দিই। এই ট্রিটমেন্টটা একদমই এভেইলেবল। নয়া শতাব্দী: একজন চোখ ওঠা রোগী কখন চিকিৎসকের কাছে যাবে?

ডা. ফারিয়া জেসমীন: চোখ ওঠার সাথে সাথেই যাওয়া উচিত। কারণ অনেক ক্ষেত্রে চোখ উঠলে চোখ লাল হয়ে যায় এবং খুব ব্যথা হয়। রোগী যদি মনে করে চোখ উঠছে তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই যদি চলে যাওয়া যায় তাহলে প্রোপার ট্রিটমেন্ট পেলে খুব সহজেই ভালো হয়ে যায়।

নয়া শতাব্দী: এর জন্য কোন সরকারি চিকিৎসা আছে কি না- থাকলে কোথায় এবং কীভাবে পাওয়া যাবে?

ডা. ফারিয়া জেসমীন: সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। সেখানে ঔষধগুলোও প্রোভাইড করা হয়। এছাড়াও বেসরকারি হাসপাতাল এবং ফার্মেসিতেও মেডিসিনগুলো এভেইলেবল।

নয়া শতাব্দী: কোন ধরনের পরামর্শ মেনে চললে এ রোগে থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব?

ডা. ফারিয়া জেসমীন: ১. অবশ্যই আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। ২. আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহার্য জিনিসপত্র ব্যবহার করা যাবে না। ৩. আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে হ্যান্ডশেক করলে হাত না ধুয়ে চোখ স্পর্শ করা যাবে না। ৪.পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।

নয়া শতাব্দী: চোখ ওঠার বিষয়ে প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে আক্রান্ত ব্যক্তির চোখের দিকে তাকালেই চোখ উঠবে- এটার ভিত্তি কতটুকু?

ডা. ফারিয়া জেসমীন: এটি একটি কুসংস্কার। এর আসলে বাস্তবিক কোন ভিত্তি নেই। তবে আক্রান্ত ব্যক্তি বাইরে গেলে অবশ্যই কালো চশমা পরবে।

নয়া শতাব্দী: বর্তমান পরিস্থিতিতে এ রোগ প্রতিরোধে আপনার পরামর্শ কী?

ডা. ফারিয়া জেসমীন: এটা একটি সিজনাল সমস্যা। সিজনাল কারণেই এই রোগটি বেশি ছড়িয়ে পড়েছে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ