মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

বাঙালির চিরায়িত নবান্ন উৎসব

প্রকাশনার সময়: ১৯ নভেম্বর ২০২২, ১৬:১০

এক সময় বাঙালির নতুন বছর শুরু হতো অগ্রহায়ণ মাস দিয়ে, তাই এ মাসের নাম হয়েছে অগ্রহায়ণ। এ মাসের প্রথম দিনে উদযাপিত নবান্নই বাঙালির ঐতিহ্যবাহী শস্য উৎসব। বাংলার কৃষিজীবী সমাজে শস্য উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে যেসব উৎসব ও অনুষ্ঠান পালিত হয় নবান্ন তার ম‌ধ্যে অন্যতম। নবান্নের শব্দগত অর্থ হ‌লো ‘নতুন অন্ন’। নতুন আমন ধান কাটার পর সেই ধান থেকে প্রস্তুত চালের প্রথম রান্না উপলক্ষে আয়োজিত উৎসবই নবান্ন। সাধারণত, অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান পাকার পরে এই উৎসব হয়। ঋতু বৈচিত্র্যে হেমন্ত আসে শীতের আগে। কার্তিক আর অগ্রহায়ণ মাস নিয়েই হেমন্ত ঋতু।

নবান্ন উৎসবের সঙ্গে মিশে আছে বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ। প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালি জাতি-ধর্ম-বর্ণ উপেক্ষা করে নবান্নকে কেন্দ্র করে উৎসবে মেতে ওঠে। সামাজিক প্রথা, রীতির পরিক্রমায় স্থান বিশেষে মাঘ মাসেও নবান্ন উদযাপনের প্রথাও রয়েছে। বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী অগ্রহায়ণ অষ্টম মাস হিসেবে বিবেচিত হলেও হেমন্ত ঋতুর দ্বিতীয় এ মাসের প্রথম দিনটিই বাংলাদেশের নবান্ন। বাংলার ঘরে ঘরে নবান্ন উৎসব উদযাপন করার জন্য মেয়ে নাইউর আসে। জামাইয়ের জন্য বানানো হয় বাহারি স্বাদের পিঠা। বাজার থে‌কে আনা হয় বড় মাছ, মাংস। সঙ্গে নতুন চালের পিঠা ও পায়েস রান্না।

গ্রামের বধূরা অপেক্ষা করেন বাপের বাড়িতে নাইওরে গিয়ে নবান্ন যাপনের জন্য। পিঠা, পায়েস, মুড়ি-মুড়কি আর নতুন চালের ভাতের সুগন্ধে ভরে ওঠে মন। কার্তিক মাসের শুরু থেকেই দেশের বিস্তীর্ণ জনপদে ধান কাটা শুরু হয়ে যায়। এ সময়ে কোনো বাড়িতে দেখা যায় ঢেঁকিতে চাল কোটা হচ্ছে পিঠার জন্য, কোনো বাড়িতে তৈরি হচ্ছে পায়েস। ধর্মাচারের অঙ্গ হিসেবে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের কৃত্য, প্রথা ও নানা রীতিতে নতুন অন্ন পিতৃপুরুষ, দেবতা, কাক ইত্যাদিকে উৎসর্গ এবং আত্মীয়স্বজনকে পরিবেশন করার পরেই গৃহকর্তা ও পরিবারবর্গ নতুন গুড়ে রান্নাসহ নতুন অন্ন গ্রহণ করে থাকেন।

নবান্ন উপলক্ষে ঘরের দাওয়ায়, বাড়ির উঠোনে, রাস্তার মোড়ে, স্কুলের আঙিনায় চলতে থাকে নবান্নের নাচ, গান, লোকগীতি, লালন গীতি, বাউলগান, সাপখেলা, বানরখেলা, লাঠিখেলা ইত্যাদি বাংলার প্রাচীন সাংস্কৃতিক কর্মযজ্ঞ।

এ উপলক্ষে অঞ্চল ভেদে পরিবেশিত হয় জারি, সারি, মুর্শিদি ও পালা গান। কোথাও মেলাও বসে। মেলায় পাওয়া যায় নানা স্বাদের খাবার। ছোটদের বাড়তি আনন্দ দিতে গ্রাম্য মেলায় দেখা যায় নাগরদোলা, পুতুলনাচ, সার্কাস, বায়োস্কোপ, পালকিনাচ ও বড়দের জন্য যাত্রা-নাটকসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অগ্রহায়ণ মাসেই ফসলের খেতে সোনালি হাসি ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বাতাসে উড়ে বেড়ায় নতুন ধানের ঘ্রাণ আর ফুলের সৌরভ। সঙ্গে প্রকৃতিতেও পাওয়া যায় শীতল ছোঁয়া। হেমন্তের মৃদু কুয়াশারও দেখা মেলে সকাল-সন্ধ্যায়।

নয়া শতাব্দী/আরআর

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ