ঢাকা, রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪
বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন

চলতি বছর টিকটক করতে গিয়ে ১০ জনের মৃত্যু

প্রকাশনার সময়: ১৩ জুলাই ২০২২, ২১:১৬

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন বুধবার (১৩ জুলাই) জানিয়েছে, চলতি বছর টিকটকে ভিডিও তৈরি করতে গিয়ে দশজন তরুণ-তরুণী প্রাণ হারিয়েছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত কয়েক বছর যাবত চীনা শর্ট ভিডিও মেকিং প্ল্যাটফর্ম টিকটকের অপব্যবহার এতটা বেড়েছে যে, এটি বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের জন্য মৃত্যু ফাঁদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

৮ জুলাই নোয়াখালীর চাটখিলে টিকটক ভিডিও বানানোর সময় অসাবধানতাবশত পা পিছলে গেলে সানজিদা আক্তার নামে (১১) এক শিশুর মৃত্যু হয়। গত পরশু কুমিল্লায় চলন্ত ট্রেনের ছাদে টিক টক করতে গিয়ে পা পিছলে মেহেদী হাসান (১৫) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া, ২০১৯ সালের মার্চ মাসে টিকটক ভিডিও আপলোডকে কেন্দ্র করে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র আরাফাত খুন হয়।

চলতি বছরের ২ মার্চ রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলায় হোসেন (১৬) নামে এক কিশোর রেল ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে টিকটক বানাতে গিয়ে রেলের নিচে কাটা পড়ে মারা যায়। ৮ মে নড়াইলের কালিয়ায় টিকটক করতে বাধা দেওয়ায় মায়ের সঙ্গে অভিমান করে কীটনাশক পানে আত্মহত্যা করে সুমি আক্তার (১৯)।

১৬ মে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার শহরের লাল ব্রিজের অদূরে হৃদয় (১৫) নামে এক কিশোর টিকটক ভিডিও বানাতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে। ২২ মে নীলফামারীর সৈয়দপুরে টিকটক করতে গিয়ে নদীতে ডুবে মৃত্যু হয় মুস্তাকিম ইসলাম (১৬) নামে এক কিশোরের।

গত বছর ২০ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জে টিকটক ভিডিও বানাতে গিয়ে নির্মানাধীন তিন তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে অনিল (১৪) নামে এক কিশোর এর মৃত্যু হয়। তরুণ তরুণীদের মৃত্যুর দায়ভার কোনোভাবেই টিকটক কর্তৃপক্ষ এড়িয়ে যেতে পারে না। এর দায়ভার তাদের নিতে হবে।

এ ছাড়া আরও অনেক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে টিকটক বানাতে গিয়ে যার সঠিক কারণ নির্ণয় না হওয়া এবং প্রকাশ না পাওয়ায় নাম পরিচয় তুলে ধরতে পারছি না।

গত বছর টিকটক ভিডিও তৈরির প্রলোভনে ভারতে তরুণী পাচার করা হয়েছিল। গত বছরের জুন মাসে টিকটকের ফাঁদে ফেলে এক তরুণীকেও ধর্ষণ করা হয়। তাছাড়া পাড়া মহল্লায় কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছে তার অন্যতম কারণ টিকটক।

সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, এত তরুণ-তরুণীর মৃত্যুর কারণ টিকটক হলেও এ পর্যন্ত টিকটক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো অভিভাবক বাংলাদেশে মামলা করেননি। টিকটক বাংলাদেশের লাইসেন্সধারী কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে অথচ সরকার এ প্ল্যাটফর্ম থেকে কোনো রাজস্ব পায় না।

তিনি বলেন, আমাদের দাবি ডাক ও টেলিযোগমন্ত্রীকে চেয়ারম্যান করে বা কমিশনের কোনো সদস্য বা সচিবকে সদস্য করে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে টিকটকের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তাতে করে এ প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করা জরুরি হয়ে পড়েছে ‌বলেও মন্তব্য করেন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি।

নয়াশতাব্দী/জেডআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ