ঢাকা, সোমবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৩, ১৬ মাঘ ১৪২৯, ৭ রজব ১৪৪৪

কুমিরের মমি!

প্রকাশনার সময়: ২২ জানুয়ারি ২০২৩, ১৮:০৩

মমির দেশ মিসরে কত না রহস্যের ঘনঘটা। বিভিন্ন সমাধিস্থল ঘুরলেই না-জানা কত প্রশ্ন ঘুরপাক খায় মনের কিনারায়। যে প্রশ্নের সদুত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি কুমিরের কয়েকটি মমিকৃত দেহ উদ্ধার ঘিরে নতুন রহস্য দানা বেঁধেছে।

মিসরের একটি সমাধিস্থলে কুমিরের একাধিক মমিকৃত অংশাবশেষ পাওয়া গেছে। কুমিরগুলোর মাথা কাটা রয়েছে। পড়ে রয়েছে শুধু দেহাংশ। কুমিরগুলোর মৃত্যু কীভাবে হলো, এ নিয়ে ধন্দে গবেষকরা। নীল নদের পশ্চিম তীরে ‘কুব্বাত-আল-হাওয়া’ এলাকায় কুমিরের দেহগুলোর সন্ধান পাওয়া গেছে।

গবেষকদের মতে, কুমিরের দেহাংশগুলো সংরক্ষিত করে রাখা হয়েছিল। কুমিরগুলোকে হত্যার পর রোদে পুড়ে তাদের দেহ শুকিয়ে যায়, তার পর তাদের মাথা কেটে বাদ দেয়া হয়েছে। তবে মিসরে কুমিরের মমিকৃত দেহ উদ্ধারের নেপথ্যে নানা পৌরাণিক কাহিনির তত্ত্বও উঠে এসেছে। এক সময় দেবতাদের পুজোয় নৈবেদ্য হিসাবে পশুর মমি দেয়া হতো। এই কুমিরগুলোকে মেরে তাদের দেহ সংরক্ষণ করার নেপথ্যে এই কারণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন ‘দ্য রয়্যাল বেলজিয়ান ইনস্টিটিউটের’ গবেষক বি দ্য কোপারে।

মমিকৃত কুমিরের দেহাবশেষ নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন কোপারে। দেবতাকে নৈবেদ্য হিসাবে পশুর মমি দেয়ার চলের কথা যেমন তিনি তুলে ধরেছেন, তেমনই আবার জানিয়েছেন, কুমিরকে দেবতাদের অবতার বলে সে কালে মনে করতেন মিসরীয়রা। কিন্তু কুমির যদি দেবতারই কোনো অবতার হয়, তা হলে তাকে হত্যা করা হবে কেন? ওই গবেষকের কথায়, কোনো প্রাণীর মমির সঙ্গে আধ্যাত্মিক যোগসূত্র যদি খুঁজে পাওয়া যায়, তা হলে সেই প্রাণীহত্যা কোনো পাপ হিসাবে মনে করতেন না মিসরীয়রা।

গবেষকরা এ-ও মনে করছেন, দেবতাকে তুষ্ট করার জন্যই কুমির হত্যা করা হতো। এ প্রসঙ্গে মিসরের দেবতা সোবেকের নাম চর্চায় এসেছে। মিসরীয় সভ্যতায় সোবেক এমন এক দেবতা, যার মুখাবয়ব কুমিরের মতো। আর দেহের বাকি অংশ মানুষের মতো। ফলে গবেষকরা অনেকেই মনে করছেন, মিসরীয় দেবতা সোবেককে তুষ্ট করতেই কুমির মারা হতো। আর সে কারণেই হয়তো কুমিরকে মারার পর তাদের দেহগুলো সংরক্ষণ করে রাখা হতো। তার পর পশুর মমি হিসাবে সেগুলো নৈবেদ্য দেয়া হতো। তবে সম্প্রতি খননকার্যের পর কুমিরগুলোকে যে অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে, তা এক কথায় বিরল। কুমিরের মুণ্ডুহীন দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনা বিরল বলেই মনে করছেন গবেষকরা।

কুমিরগুলোকে হত্যার পর বালুর সঙ্গে এমনভাবে মিশিয়ে দেয়া হয়েছিল, যাতে সেগুলো রোদে প্রাকৃতিকভাবে শুকিয়ে যায়। এরপর দেহগুলো খেজুর পাতা দিয়ে মুড়ে সমাধিস্থলে আনা হতো। আর এভাবেই সংরক্ষণ করা হতো বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। তবে সব কুমিরের দেহাংশই যে এভাবে সংরক্ষণ করা যেত, তা নয়। বহু ক্ষেত্রেই অনেক কুমিরের মমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুমিরগুলোর দেহাংশ শুকানোর পরই তাদের মাথা কেটে বাদ দেয়া হয়েছিল বলে মনে করছেন গবেষকরা। তবে একাধিক উপায়ে কুমিরগুলোতে হত্যা করা হতে পারে বলে অনুমান করছেন গবেষকরা। প্রখর রোদের তাপে দীর্ঘক্ষণ কুমিরগুলোকে রাখা হয়েছিল, তার জেরে মৃত্যু হতে পারে বলে অনুমান।

আবার অনেকের মতে— শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে কুমিরগুলোকে। মিসরের যে প্রাচীন সমাধিস্থল থেকে কুমিরগুলোর দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে, সেটিকে ‘ডোম অব দ্য উইন্ড’ বলা হয়। প্রায় ২৫০০ বছর আগে ওই সমাধিস্থল ব্যবহার করা হতো বলে ধারণা। মিসরে মমি ঘিরে নানা রহস্যের কাহিনি রয়েছে। কুমিরগুলোর মুণ্ডুহীন দেহাংশ উদ্ধার এই রহস্যের তালিকায় নতুন সংযোজন। কী কারণে কুমিরগুলোর মৃত্যু, এ নিয়ে নানা মুনির নানা মতো। কিন্তু আসল কারণ কী? সেই রহস্যের কিনারা করতেই মুখিয়ে রয়েছেন গবেষকরা। আনন্দবাজার।

নয়া শতাব্দী/আরআর

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ