ঢাকা, রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

আন্ডারওয়ার্ল্ডে অস্থিরতা

প্রকাশনার সময়: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:৪৫

ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে চলছে অস্থিরতা। কারাগার ও বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীরা অপরাধজগত নিয়ন্ত্রণ করতে এখন নিজেদের বিশ্বস্ত লোকজনকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসাতে চাচ্ছে। একইসঙ্গে অনেকে রাজনীতিতেও যুক্ত হতে চাচ্ছে।

বিশেষ করে মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে অনেকেই এখন নিজেদের রেট বাড়াতে নতুন সমীকরণে নেমেছে। এই সমীকরণে এক সময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সাঙ্গোপাঙ্গরা রয়েছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হারুণ-অর-রশিদ জানান, সব ধরনের সন্ত্রাসীদের উপরই নজরদারি চালানো হয়। তবে টিপু হত্যাকাণ্ডের পর আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে নতুন সমীকরণের কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে অনেকের নাম এসেছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের গ্রেফতার করা হবে।

সূত্রমতে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের নতুন মেরুকরণের উপর নজর রাখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এমনকি তাদের কর্মকাণ্ড লিখিত আকারে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জানানো হচ্ছে। মতিঝিলে আওয়ামী লীগ নেতা টিপু খুনের ঘটনায় জিসান ও মানিকের নাম আসে। জিসানের হয়ে ঢাকায় কাজ করতো মুসা ও ক্যাইল্যা পলাম। ডিবির অভিযানে তারা গ্রেফতার হওয়ার পর এখন শূন্যস্থান পূরণে মরিয়া আন্ডারওয়ার্ল্ডের লোকজন। এ কারণে বেছে নেয়া হয়েছে কেরাণীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের আব্দুল লতিফ মোল্লার ছোট ছেলে রানা মোল্লাকে।

এক সময় সে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের ত্রাস মাসুদ মোল্লার হয়ে কাজ করতো। বিএনপি সরকারের আমলে মাসুদ মোল্লার নাম নাম শীর্ষ সন্ত্রাসী তালিকায় ওঠার পরে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় সে। আর সুযোগ ব্যবহার করে তার অনুগত রানা মোল্লা তৈরি করে আলাদা বাহিনী। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় চলে যায় আত্মগোপনে। এরপর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর ২০০৮ সালে মিরপুরের কাজীপাড়ায় এ্যাপোলোকে হত্যা করেই আলোচনায় আসে রানা মোল্লা। এরপর তার কদর বাড়ে মতিঝিল এলাকার সন্ত্রাসীদের কাছে।

যদিও রানা মোল্লার রাজনৈতিক জীবনের শুরু হয়েছিলো বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমানের হাত ধরে। সুব্রত বাইনের নেতৃত্বাধীন সেভেন স্টার গ্রুপের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রানা মোল্লা কেরাণীগঞ্জ বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। ১৯৯১ সালে আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া (সাবেক যুবলীগ নেতা) এবং রানা মোল্লার মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনায় দুইজনই গুলিবিদ্ধ হন।

সূত্রমতে, ক্যাসিনোকাণ্ডে বহিষ্কৃত কৃষকলীগের নেতা শফিকুল ইসলাম ফিরোজের লাঠিয়াল হিসেবে পরিচিতি পাওয়া রানা মোল্লার নাম বেরিয়ে আসে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার হওয়া যুবলীগ নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদেও। বায়রা দখল, ক্যাসিনো দখল, ফ্ল্যাট দখল, জমি দখলে কৃষকলীগ নেতা ফিরোজ ব্যবহার করতেন এই ল্যাংড়া রানার বাহিনীকে। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার হওয়া যুবলীগ নেতা খালেদের পুলিশকে দেয়া তথ্যে ঘুরেফিরে এসেছে একই নাম, রানা মোল্লা। গোড়ানের রাউফুল আলম শুভ (বহিষ্কৃত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক) এবং রানার কাছে অত্যাধুনিক অন্তত আধা ডজন বিদেশি পিস্তল থাকার কথা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছিলেন ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার হওয়া যুবলীগ নেতা খালেদ।

জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যমতে, ১১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রিজভী, মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের এনামুল হক আরমান ওরফে ক্যাসিনো আরমান, কেরাণীগঞ্জের রানা মোল্লা প্রকাশ ল্যাংড়া রানা, ল্যাংড়া জাকির ও ড্রাইভার জিসান ঢাকার ক্যাসিনো সাম্রাজ্যেরও অন্যতম সহযোগী ছিলো। ক্যাসিনো অভিযানে গ্রেফতার জি কে শামীমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রানা মোল্লা এবং রনক, পলাশ আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রশাসনের শিথিলতার সুযোগে।

সূত্রমতে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের ত্রাস সেভেন স্টার গ্রুপের শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদ ভারতে গ্রেফতার হলেও পরে জামিনে বেরিয়ে আসে। কারাগার থেকে বের হয়ে ঢাকায় সুব্রত বাইনের চাঁদাবাজির পকেটগুলো পুনরায় চালু করেছে সেভেন স্টার গ্রুপের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রানা মোল্লা এবং রনক, পলাশ। রানা মোল্লা এবং রনকের নেতৃত্বে বাহিনীর ক্যাডাররা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মহড়া দিয়ে নিজেদের উপস্থিতি ও শক্তিমত্তার জানান দিচ্ছে। মাঝে মাঝেই তাদের দেখা মিলছে কারাবন্দী কালা ফিরোজের অফিসে এবং কেরাণীগঞ্জের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের ডেরায়।

সূত্রমতে, এক এগারোর পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে রানা মোল্লা রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সঙ্গে কেরাণীগঞ্জের হযরতপুরে আস্তানা গাঁড়ে। নাম লেখায় ক্ষমতাসীন দলে। ২০১০ সালের ১৮ মে কেরাণীগঞ্জের একটি বাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনায় রানা মোল্লাসহ ২১ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়।

কেরাণীগঞ্জ উপজেলার হযরতপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের সিরাজ মিয়ার বাড়িতে প্রকাশ্যে আগুন দেয় এই বাহিনীর সদস্যরা। ২০১৬ সালের ৩১ মার্চ ইউপি নির্বাচনে কেরাণীগঞ্জের মধুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সন্ত্রাসী রানা মোল্লার নেতৃত্বে শুভ কাজী নামে চতুর্থ শ্রেণির এক শিশুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তখন রানা মোল্লার সঙ্গে ‘তমিজউদ্দিন’ নামের অন্য সন্ত্রাসী ওই হামলায় অংশ নেয়।

জানা গেছে, সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করার কারণে দলের শৃঙ্খলা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে হযরতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ থেকে তাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়। এর আগে ২০১৪ সালের ৫ ডিসেম্বর কেরাণীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলাউদ্দিনকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালায় রানা মোল্লার বাহিনী। এই ঘটনায় মো. আলাউদ্দিন মিয়া নামের এই আওয়ামী লীগ নেতার দুই পায়ের ঊরুতে চারটি গুলি লাগে।

পুলিশের একটি সূত্রমতে, সাবেক যুবলীগ নেতা খালেদকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলো শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান। তার অনুসারীদের মাধ্যমে জিসান ঢাকায় একে-২২ রাইফেল পাঠায়। ২০১৯ সালের ৩০ জুন রাজধানী সুপারমার্কেটের সামনে থেকে একটি একে-২২ রাইফেলসহ কামাল হোসেন ও সাইদুল ইসলাম মজুমদার নামে দুজনকে গ্রেফতার করে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের আর্মস এনফোর্সমেন্ট টিম। পরে অবশ্য রানা ও জিসানের মধ্যে ঝামেলা মিটে যায়।

২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর পূর্ববাড্ডা আলিফ নগর এলাকার জেনারেটর ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম খান টুটুলের কাছে জিসানের নামে চাঁদা চেয়ে মামলার জালে ফেঁসে গ্রেফতার হওয়া সন্ত্রাসী ‘নাসির’র স্বীকারোক্তিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান এবং রানা বাহিনীর যোগাযোগের প্রমাণ পেয়েছিল ডিবি পুলিশ। আওয়ামী লীগ থেকে আজীবন বহিষ্কৃত হলেও রানা আবার টাকার বিনিময়ে নতুন করে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের পদ বাগিয়ে নেওয়ার মিশনে নেমেছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। তাকে নেতৃত্বে আনতে মরিয়া সমমনা আন্ডারওয়ার্ল্ডের বেশ কয়েকটি গ্রুপ।

এমন পরিস্থিতিতে অপরাধ পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, দ্রুত এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আন্ডারওয়ার্ল্ডে অস্ত্রবাজি ও খুনোখুনি ভয়ঙ্কর রূপ নেবে। আইনশৃঙ্খলার ভয়াবহ অবনতি ঘটবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে। এ অবস্থা চলমান থাকলে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও টেন্ডারবাণিজ্যসহ অন্যান্য অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বাড়বে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, যুবলীগ নেতা রিয়াজুল হক খান মিল্কি হত্যা মামলার আসামি বহিষ্কৃত মতিঝিল থানা যুবলীগের সাবেক সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম টিপু খুনের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টনক নড়েছে। আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডনদের সেকেন্ডম্যান হিসেবে যারা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরাধ তৎপরতা চালাচ্ছে তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তাদের কিলার গ্রুপের সদস্যদের গ্রেফতারের জন্য বিশেষ তৎপরতা চালাতে র‍্যাব-পুলিশ ও গোয়েন্দাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর জোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সরকারের পুরস্কার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর মধ্যে ১৩ জন বিদেশে আত্মগোপন করে আছে। ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারির পরও তারা বহাল তবিয়তে থেকে বাংলাদেশের অপরাধজগত নিয়ন্ত্রণ করছে। এর মধ্যে ২০০৩ সালে মালিবাগের সানরাইজ হোটেলে ডিবি পুলিশের দুই সদস্যকে হত্যার পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান দুবাইয়ে আত্মগোপনে থেকে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করছে। তার সহযোগী জাফর আহমেদ মানিক ওরফে ফ্রিডম মানিক ভারতে পালিয়ে থাকলেও তার ইশারাতেই দেশে দখলবাজি, টেন্ডারবাণিজ্য ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ছিল।

তবে এতদিন যারা স্থানীয়ভাবে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিতো, তারা কেউ কেউ বেঁকে বসেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্রাইম মিশন সফল করার পর সেখান থেকে পাওয়া কোটি কোটি টাকার ‘বেনিফিটের’ বড় অংশ বিদেশে আত্মগোপনে থাকা গডফাদারদের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে তারা গড়িমসি করছে।

এ পরিস্থিতিতে আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডনরা তাদের পুরানো সহযোগীদের দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার নীল নকশা হাতে নিয়ে মাঠে নেমেছে। সম্প্রতি এরই ধারাবাহিকতায় সাবেক যুবলীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু খুন হয়েছেন বলে গোয়েন্দারা ধারণা করছেন।

জানা গেছে, ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবনে হামলা মামলার অন্যতম আসামি তৎকালীন ফ্রিডম পার্টির নেতা শীর্ষ সন্ত্রাসী জাফর আহম্মেদ ওরফে মানিকের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড সোহেল শাহরিয়ার টিপুকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, অপরাধজগতের নয়া মেরুকরণের ধারাবাহিকতায় নিজ নিজ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে আছে মালয়েশিয়ায় পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী ইব্রাহীম, দুবাইয়ে পলাতক রবিন এবং ভারতে পলাতক শাহাদাত হোসেন। অপরাধজগতের দখল ধরে রাখতে তাদের নতুন সহযোগীরা এখন অতিমাত্রায় সক্রিয়। ইব্রাহীম ও শাহাদাতকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মিরপুর এলাকার অপরাধ সাম্রাজ্য দখলে নিতে মরিয়া কারাবন্দী শীর্ষ সন্ত্রাসী কিলার আব্বাসের সহযোগীরা। আবার একসময় শাহাদাতের হয়ে কাজ করলেও সম্প্রতি তাদের কেউ কেউ নিজস্ব অস্ত্রধারী গ্রুপ গড়ে তুলেছে।

ঢাকার অপরাধজগতে একসময় ‘মুকুটহীন সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী তানভীর ইসলাম জয় টেন্ডার, চাঁদাবাজি, খুনখারাবির পথ থেকে সরে দেশের রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তির উত্থানে রাজনৈতিক এ্যাসাইনমেন্ট তামিলে নতুন তৎপরতা শুরু করেছে। কলকাতা, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ঘুরে তার অবস্থান এখন ব্যাঙ্ককে। সেখানে বসেই সে কলকাঠি নাড়ছে বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, রাজধানীর মিরপুর, শেওড়াপাড়া, পল্লবী ও কাফরুলসহ আশপাশের এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদতের অপরাধজগতের সহযোগীদের একটি বড় অংশ দলছুট হওয়ায় সেখানেও উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে। দায়িত্বশীল একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ভারতে আত্মগোপনে থাকা শাহাদত তার দলছুট সহযোগীদের ঘায়েল করে নতুন ক্যাডারদের ফ্রন্ট লাইনে আনার চেষ্টা করছে। এরইমধ্যে তাদের হাতে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়েছে। বিভিন্ন চাঁদাবাজির স্পটে পুরানো সহযোগীদের নাম কাটিয়ে নতুনদের নাম তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা করছেন।

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ