ঢাকা, বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশনার সময়: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:০৬ | আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:১৪

উপমহাদেশের সংগীতজগতের কিংবদন্তি ‘সুরসম্রাট’ খ্যাত ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ৬ সেপ্টেম্বর। ১৯৭২ সালের আজকের এই দিনে ভারতের মাইহারে মারা যান এ অঞ্চলের রাগসংগীতের স্রষ্টা এই সংগীতজ্ঞ। নামকরা অনেক উচ্চাঙ্গ সংগীত বাদকের গুরু ছিলেন তিনি। এই সুরসাধককে ব্রিটিশ সরকার ‘খাঁ সাহেব’ উপাধিতে ভূষিত করে। তিনিই প্রথম বাঙালি, যিনি সর্বপ্রথম পাশ্চাত্যে উপমহাদেশের রাগসংগীতকে পরিচিত করান। ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ভারতে বিভিন্ন কর্মসূচি থাকলেও বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারিভাবে নেই তেমন কোন বড় ধরনের কর্মসূচি।

জানাযায়, ১৮৬২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন খ্যাতনামা উচ্চাঙ্গ সংগীতশিল্পী ও সরোদবিশারদ। তার বাবা সংগীতজ্ঞ সবদর হোসেন খাঁ ওরফে সদু খাঁ, মা সুন্দরী বেগম। ছোটবেলায় তার বড় ভাই ফকির (তাপস) আফতাব উদ্দিন খাঁর কাছে সংগীতের হাতেখড়ি শুরু।

সুরের সন্ধানে মাত্র ১০ বছর বয়সে বাড়ি থেকে পালিয়ে এক যাত্রাদলে যোগ দিয়ে ঘুরে বেড়ান গ্রামে গ্রামে। ওই সময় তিনি জারি-সারি, বাউল, ভাটিয়ালি, কীর্তন, পাঁচালি প্রভৃতি গানের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে কলকাতায় গিয়ে প্রখ্যাত সংগীত সাধক গোপাল কৃষ্ণ ভট্টাচার্য ওরফে নুলো গোপালের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। বাঁশি, পিকলু, সেতার, ম্যাডোলিন, বেঞ্জো ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখেন সংগীত পরিচালক অমৃত লাল দত্ত ওরফে হাবু দত্তের কাছে। সেই সঙ্গে তিনি লবো সাহেব নামে এক গোয়ানিজ ব্যান্ডমাস্টারের কাছে পাশ্চাত্য রীতিতে এবং বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ অমর দাসের কাছে দেশীয় পদ্ধতিতে বেহালা শেখেন। এ ছাড়া হাজারী ওস্তাদের কাছে শেখেন মৃদঙ্গ ও তবলা। এভাবে তিনি সর্ববাদ্যবিশারদ হয়ে ওঠেন।

১৯১৮ সালের পর তিনি ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ব্রিটিশ সরকার তাকে ‘খাঁ সাহেব’ উপাধিতে ভূষিত করে। আলাউদ্দিন খাঁ ১৯৫২ সালে ভারতের সংগীত একাডমি পুরস্কার পান। ১৯৫৪ সালে আকাদেমির ফেলো নির্বাচিত হন। ১৯৫৮ সালে ‘পদ্মভূষণ’ ও ১৯৭১ সালে ‘পদ্মবিভূষণ’ এবং ১৯৬১ সালে তিনি বিশ্বভারতী কর্তৃক দেশি ‘কোত্তম’ উপাধিতে এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ‘ডক্টর অব ল’ উপাধিতে ভূষিত করে আজীবন সদস্যপদ দান করেন । শান্তি নিকেতনে আমন্ত্রিত অধ্যাপক হিসাবে কিছুকাল অধ্যাপনা করেন।

আলাউদ্দিন খাঁ ১৯৭২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের মাইহারে মদিনা ভবনে মারা যান। রাষ্ট্রীয়ভাবে ভারতে তার মৃত্যৃবার্ষিকী পালন করা হয়। বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র জন্ম কিংবা মৃত্যু কোন দিবসই পালন করা হয়না।

অপর দিকে তার স্মৃতিচিহ্নগুলো সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে নামে-বেনামে বেদখল হয়ে যাচ্ছে জমিজমা, বাড়িঘর, নিজ হাতে তৈরি করা মসজিদের জায়গা ও পুকুর। সব মিলিয়ে নিজ জন্মভূমিতেই অবহেলিত উপমহাদেশের সংগীতজগতের কিংবদন্তি ‘সুরসম্রাট’ খ্যাত ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ। নবীনগরের শিবপুরে রয়েছে তার নিজ হাতে গড়া একটি মসজিদ, পুকুর, এলাকাবাসীর উদ্যোগে গড়ে তোলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিবপুর আলাউদ্দিন খাঁ মহাবিদ্যালয়।

এছাড়াও নবীনগর-শিবপুর সড়কের নাম পরিবর্তন করে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সড়ক নামকরণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসীসহ বিশিষ্টজনরা।

নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল সিদ্দিক বলেন, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ শুধু নবীনগর কিংবা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গর্ব নন, তিনি সারা বাংলাদেশের গর্ব। তাকে নিয়ে অবশ্যই কিছু করার পরিকল্পনা আছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবগত করব। তার বাড়ি, মসজিদ, পৈতৃক ভিটা সংরক্ষণ ও বেদখল হয়ে যাওয়া জায়গার কাগজপত্র দেখে উদ্ধারসহ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি)কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে । ইতিমধ্যে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র বাবা-মায়ের কবরের জায়গাটি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধন করা হয়েছে, সুরসম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ মহাবিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে স্থাপন করা হয়েছে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র ম্যুরাল। ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উনার জন্মভূমি শিবপুরে দোয়া মাহফিল ও স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

নয়াশতাব্দী/জেডআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ