ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে জগন্নাথ হলের দেবী দুর্গার বিদায়

প্রকাশনার সময়: ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০:৫৮

ঢাকের তালে, সিঁদুর খেলায় বিষাদময় মন নিয়ে দশমীর এই শুভ তিথিতে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জগন্নাথ হলের পুকুরে প্রতিমা বিসর্জন হয়। এর আগে প্রতিমা নিয়ে শুভ বিজয়ী র‌্যালির মাধ্যমে জগন্নাথ হল পুকুর ৭ বার প্রদক্ষিণ করেন অংশগ্রহণকারীরা।

পূজা মণ্ডপে চলে ঢাকের তালে নাচগান, সিঁদুর খেলা আর আনন্দ-উৎসব। এ সময় তারা ‘মা আমাদের যাচ্ছে চলে আসছে বছর আবার হবে’, ‘বলো দুর্গা মায়কি জয়’, ইত্যাদি স্লোগান দিয়ে দুর্গাকে বিদায় জানান।

৫ দিন ব্যাপী জগন্নাথ হল পূজাপ্রাঙ্গন ছিল সরগরম। ঢাকাসহ ঢাকার বাইরে থেকে হিন্দু ধর্মালম্বীরা পূজামণ্ডপে আসেন। জগন্নাথ হলে নাগরদোলা, নানা রকমের খাবারের দোকানের বাহারি মেলা ও জনসমাগমে ছিল শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজ। এ ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মালম্বীরা এসেছেন পূজা পরিদর্শন করতে।

উৎসবে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান নয়া শতাব্দীকে বলেন, ‘জগন্নাথ হলের পূজা ব্যক্তিগতভাবে আমাকে খুব অ্যাট্রাক্ট করে। এ বছর আরও বেশি করছে কেন না জগন্নাথের পূজা এখন আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের পূজা। উৎসবের আলোকসজ্জার কাজ আমার কাছে অনেক সুন্দর লেগেছে। সবকিছু মিলিয়ে আয়োজন বেশ ভালো।

এর আগে সোমবার ঢাবি উপাচার্য ‌অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আসেন। পরিদর্শন শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সকলের সুখ, শান্তি ও মঙ্গল কামনা করে বলেন, এই দুর্গোৎসব বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব। শারদীয় দুর্গোৎসবের মূলমন্ত্র হচ্ছে অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের আরাধনা। শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজন করায় ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হল প্রশাসনকে উপাচার্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামাল, ঢাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া, জগন্নাথ হল সর্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা, হলের আবাসিক শিক্ষকবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রোববার (২৫ শে সেপ্টেম্বর) মহালয়ার মাধ্যমের উৎসব শুরু হয়। তারপর শনিবার (১ অক্টোবর) থেকে মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) পর্যন্ত পালিত হয় মহাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী ও মহানবমী পূজা। সর্বশেষ বুধবার মহাদশমীর মাধ্যমে উৎসব সমাপ্ত হয়।

নয়াশতাব্দী/এফআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ