ঢাকা, সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ঢাকা কলেজের নতুন পাঠকক্ষ

প্রকাশনার সময়: ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১৮:৪১

চাঁদপুর জেলার নন্দনপুর গ্রামের দরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তান রাকিবুল ইসলাম, পড়াশোনা করছেন ঢাকা কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষে। বাবা- মা অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে পাঠিয়েছেন শহরে, তারও স্বপ্ন পড়াশোনা করে হবেন বিসিএস ক্যাডার, হাল ধরবেন পরিবারের, তাই স্বপ্ন পূরণের একমাত্র হাতিয়ার পড়াশোনার লক্ষ্যেই সকাল সকাল চলে আসেন ঢাকা কলেজের নতুন পাঠকক্ষে।

ঢাকা কলেজের নতুন পাঠকক্ষটি লেঃ শেখ জামাল একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় তলার ২০১ এবং ২০২ রুমে।

২০১ নম্বর রুমে রয়েছে উন্নতমানের টেবিল-ডেক্স এবং লাইট ও ফ্যানের ব্যবস্থা যেটা মারুফ-শারমিন স্মৃতি গ্রন্থাগার হিসেবে পরিচিত। আর ২০২ নং রুমে আছে ক্লাস টেবিল, লাইট ও ফ্যানের ব্যবস্থা। কিন্তু প্রথমে ২০১, ২০২ এবং ২০৩ নম্বর রুম পাঠকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এখন ২০৩ নম্বর রুমটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন দুটি রুমে সবমিলিয়ে ১০০ জন শিক্ষার্থী স্বাচ্ছন্দ্যে বসতে পারে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য পাঠকক্ষের সামনে রয়েছে পত্রিকা ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। পাঠকক্ষটি চলে সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত।

আনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো আবদুল্লাহ। স্বপ্ন হবেন একজন সরকারি চাকরিজীবী, তাই আগে সকালে ঘুমালেও এখন সকাল সকাল চলে আসেন পাঠকক্ষে। ভারাক্রান্ত মনে তিনি বলেন, দুইদিন ধরে সকাল বেলা এসে লাইন ধরেও বসার সুযোগ হয়নি নতুন পাঠকক্ষে, আগে তিনটি রুম থাকলেও একটি রুম বন্ধ করে দেওয়ায় এখন অনেক শিক্ষার্থীই এখন সকালে পড়তে এসেও দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সকাল বেলার পাঠকক্ষের জায়গাটা আরেকটু বেশি হলে হয়তো আমাদের স্বাচ্ছন্দ্যে পড়াশোনা করার সুযোগ হতো।

ঢাকা কলেজের মাস্টার্সে পড়ুয়া শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রিজওয়ান বলেন, আসলে অনার্স শেষ করার পরে চাকরির জন্য মাথায় একটা টেনশন চলে এসেছে। তাই আগে কম পড়াশোনা করলেও এখন সকাল সকালেই চলে আসি ক্যাম্পাসে পড়াশোনা করার জন্য। নতুন পাঠকক্ষটি সকালে পড়াশোনা করার জন্য অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এখানে আমাদের চাহিদার তুলনায় বসার জায়গা খুবই কম এবং বিভিন্ন সময় ক্যাম্পাসের ও সরকারি পরীক্ষার সময় পাঠকক্ষ বন্ধ থাকায় পাঠকক্ষের প্রকৃত সুবিধাটা আমরা পাচ্ছি না, যদি পরীক্ষার সময় আমাদের পাঠকক্ষটি খোলা থাকে তাহলে আমাদের পড়াশোনা করতে সুবিধা হয়।

নতুন পাঠকক্ষ সম্পর্কে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউসুফ বলেন, আমার ছেলেরা সকাল সকালেই নতুন পাঠকক্ষে চলে আসে পড়াশোনা করার জন্য এটা আমাদের জন্য খুবই আনন্দদায়ক। আমরাও চাই তারা পড়াশোনা করে প্রতিষ্ঠিত হোক। কিন্তু জায়গা সংকটের কারণে যে পরিমাণ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতে আসে আমরা তাদেরকে সেই পরিমাণ জায়গা দিতে পারি না এটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। তারপরও আমরা কলেজের সকল বিভাগে বলে দিয়েছি যেন তাদের বিভাগীয় সেমিনারগুলো খোলা রাখে। এতে করে বেশকিছু শিক্ষার্থী তাদের বিভাগীয় সেমিনারে পড়াশোনা করতে পারবে। এছাড়াও আমরা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি, আমাদেরকে স্বতন্ত্রভাবে একটি লাইব্রেরি ভবন দেওয়ার জন্য।

আসলে শহরে পড়াশোনা করা বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই গ্রামের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তারা অনেক স্বপ্ন নিয়ে পড়াশোনা করতে আসে শহরে, টিউশানি করে অনেক কষ্ট করে চালিয়ে যায় তাদের পড়াশোনা। তাদের সেই কষ্টের বিনিময়ে হলেও সত্যি হোক তাদের স্বপ্নগুলো, বেঁচে থাকুক তাদের পরিবারের আশা, যোগ্য মানুষ হয়ে অবদান রাখুক পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে।

নয়া শতাব্দী/জেআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ