রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

কুকুরের পিছু যবিপ্রবি, কেড়ে নিল ১৮ প্রাণ

প্রকাশনার সময়: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৫৭ | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩:২৯

কুকুরের পিছু নিয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি)। শুনতে বেশ অবাক হলেও বাস্তবে ঠিক তাই। যশোরের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে ১৮টি কুকুর।

বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুকুরগুলোকে হত্যার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের পেছনে মাটিচাপা দেয়া হয়। এ নিয়ে ফেসবুকে শিক্ষার্থীরা নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ কমিটির অগোচরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দফতরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মুন্সি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের নির্দেশনায় ১৮টি কুকুরকে হত্যা করা হয়।

কুকুরগুলোকে বিষ প্রয়োগকারী জাকির মিয়া জানান, তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়। কুকুর নিধনের জন্য দুই হাজার টাকার চুক্তিতে তাকে নিয়ে আসা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দফতরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মুন্সি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের নির্দেশনায় তিনি কুকুর হত্যা করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুন্সি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কুকুর মারতে নির্দেশ দেয়নি। কে বা কারা মেরেছে তাদের চিনি না। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে প্রোগ্রামে ব্যস্ত ছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে কুকুর হত্যা বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি উর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাসান মোহাম্মদ আল ইমরান বলেন, পূজার ছুটি শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবো। এর আগে একদল কুকুর বাচ্চাদের দেখে তাড়া করতো, তখন কুকুরগুলো বাইরে দিয়ে আসা হয়। একবার এক আনসার সদস্যকে কামড়ালে তাকে হসপিটালে ভর্তি করা হয়৷ তখনও কোনো কুকুরকে মারা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ কমিটি প্রাণি সম্পদ অধিদফতরে চিঠি দিয়েছে কিন্তু তারা ভ্যাকসিন দেয়নি এবং কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

এ দিকে ক্যাম্পাসে কুকুর হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওঠে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমালোচনার ঝড়। প্রাণিপ্রেমী শিক্ষার্থীরা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

যবিপ্রবির আইপিই বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ক্যাম্পাসে কুকুর নিধনের নামে ১৮টা কুকুর হত্যার অধিকার কে দিলো? একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই নির্মমতার দায় কার? ক্যাম্পাসে সমাধান না হওয়া এতো শতো সমস্যা বাদ দিয়ে কুকুরের পেছনে কেনো?

ফলিত বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী ইসমাইল রহমান ফেসবুক পোস্টে বলেন, সবার কাছে ডেভিড নামে পরিচিত হলেও আমরা ইএসটিয়ান রা জেম বলেই ডাকতাম। জেম অনেক প্রিয় ছিল আমাদের একজন বড় ভাইয়ের। সবসময় চেষ্টা করতাম আমরা আশেপাশে থাকলে কিছু খাওয়ানোর। প্রতিদান ও সে ভালোভাবেই দিত সঙ্গ দিয়ে। কুকুর দেখে আমার ভয় ছিল সারাজীবনই। কিন্তু যবিপ্রবির কুকুরগুলো দেখে সেই ভয় আমার কেটে গেছে।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, কুকুর হত্যা কোনো সমাধান নয়, সব জীবনেই মূল্যবান, বন্ধ্যাকরণের মাধ্যমে মানবিকভাবে কুকুর সংখ্যা কমান, রাতের অতন্দ্র প্রহরী হত্যা বন্ধ করুন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ কমিটির প্রধান ও পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মৌমিতা চৌধুরী বলেন, কুকুর নিধনের বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে জানানোর কথা থাকলেও পরবর্তীতে একাধিক বার ফোন দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

পিপল ফর এনিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাকিবুল হক এমিল জানান, প্রাণিকল্যাণ আইন অনুযায়ী কুকুর নিধন করা যাবে না। এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বহিরাগত কেউ এসে ন্যাক্কারজনক ও বেআইনিভাবে গণহারে কুকুর নিধন করল। অথচ কর্তৃপক্ষ নিশ্চুপ এবং দায় এড়াচ্ছেন এটা হতেই পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যবোধের সাথেও এটা সাংঘর্ষিক।

যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, কুকুর নিধন কারা করেছে এ ব্যাপারে নিশ্চিত নই। এ ব্যাপারে কেউই অনুমতি নেয়নি। বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে জানার চেষ্টা করছি।

নয়শতাব্দী/জেডএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ