ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

জাবিতে শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন

প্রকাশনার সময়: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৮:৩০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শেখ হাসিনা হলের উদ্যোগে 'জননেত্রী শেখ হাসিনা: কর্ম ও জীবন' শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা হলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কেক কেটে ও বেলুন উড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল আলম, প্রধান আলোচক হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক বশির আহমেদ। শেখ হাসিনা হলের প্রাধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক হোসনে আরা এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, শেখ হাসিনা তাঁর রাজনৈতিক শিক্ষা পরিবার থেকে পেয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। বদরুন্নেসা কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্বাধীনতার পূর্বে সকল আন্দোলনে শেখ হাসিনা রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তার ভিশন ২১ ও ভিসন ৪১ কে বাস্তবায়নে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাকে নিয়ে গবেষণার সুযোগ আছে। একটা সময় বাংলাদেশ অর্থনীতি খুবই ভঙ্গুর ছিলো। সেই ভঙ্গুর অবস্থা কাটিয়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের এখন সারাবিশ্বের অর্থনৈতিক রোল মডেল করেছেন।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পেরেছেন। তার যোগ্য নেতৃত্ব কোভিড মোকাবেলা করে ভ্যাক্সিন হিরো হিসেবে সারাবিশ্বে সুনাম অর্জন করেছে। কিছুদিন আগে তিনি জাতিসংঘ কর্তৃক শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল আলম বলেন, ছাত্র থাকাকালীন সময়ে শেখ হাসিনা সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা পর দেশে ফিরে আসার পর বাংলাদেশের তেমন কোনো সম্পদ ছিল না। পাকিস্তানিরা এ জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে আমাদের সম্পদসূমহ ধ্বংস করে দিয়েছে। সেই সময় বঙ্গবন্ধু সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিল্প কারখানা জাতীকরণ করেন। তিনি সরকারি স্কুল কলেজ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ছেলে-মেয়েরা যাতে শিক্ষা লাভ করতে পারে, সে দিকে দৃষ্টি দিয়েছেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে তাকে নিহত হন। তবে সৌভাগ্যে বিষয়, বিদেশে অবস্থানের কারণে শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন সে সময় প্রাণে বেঁচে যায়। পরে ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর আওয়ামী লীগের সভানেত্রী পদে অভীষ্ট হন। তার আগে তিনি ভারতে নির্বাসিত ছিলেন। দেশে ফিরে তিনি পুনরায় স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করার জন্য তার উপর বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র হামলা হয়। সর্বশেষ ২০০৪ সালে ঢাকায় সন্ত্রাসবিরোধী এক সভায় তার উপর গ্রেনেড হামলা হয়। সে সময় মানব ঢালের কারণে তিনি বেঁচে যান। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এমন কোনো গ্রাম পাওয়া যাবে না এদেশে। শিক্ষাক্ষেত্রেও অভূত উন্নয়ন করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে বিশাল অর্থ প্রদান করেন। যাতে এখানে শিক্ষা গবেষণায় উন্নয়ন করা সম্ভব হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক রাশেদা আখতার, রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ, গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদের ডিন অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার, প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি আব্দুল্লাহ হেল কাফি, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান প্রমুখ।

নয়াশতাব্দী/এফআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ