ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

চবিতে ‌‘ছাত্রলীগ না করলে হলে থাকা যাবে না’ বলেই সাংবাদিককে মারধর

প্রকাশনার সময়: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪:২৮
বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রুপের কর্মী আরশিল আজিম নিলয় ও শোয়েব আতিক। 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের বগি ভিত্তিক সংগঠন ‘বিজয় গ্রুপের’ এক কর্মীর জন্মদিনে না যাওয়ায় সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়ান হোসেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা ‘বিজয় গ্রুপের’ কর্মী।

সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ.এফ. রহমান হলের ২১২ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় ওই সাংবাদিক ‘ছাত্রলীগ না করলে হলে থাকা যাবে না’ বলে হুমকিও দেয়া হয়।

ভুক্তভোগী রেদওয়ান আহমদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী। পাশাপাশি তিনি ঢাকা মেইল ও দৈনিক নয়া শতাব্দীর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।

এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন: লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের আরশিল আজিম নিলয় এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শোয়েব আতিক।

ভুক্তভোগী রেদওয়ান আহমদ বলেন, রাতে এক ছাত্রলীগ কর্মীর জন্মদিন পালনের জন্য আমার রুমে এসে ডাক দিয়েছিল আরশিল আজিম নিলয়। আমি সাংবাদিক পরিচয় দিলাম, তারা আমাকে বললো- ‘ছাত্রলীগ না করলে হলে থাকা যাবে না।’ এরপর আরশিল আজিম নিলয় তার সঙ্গে থাকা শোয়েব আতিককে মারধর করার নির্দেশ দেন। শোয়েব আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করলে সঙ্গে সঙ্গে বিজয়গ্রুপের নেতা আল আমিনকে কল দিয়ে জানাই। তার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই তারা আমাকে দুই দফায় মারধর করে।

এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার কল দেয়া হলেও শোয়েব আতিক ও অভিযুক্ত আরশিল আজিমকে নিলয়ের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

বিজয় গ্রুপের নেতা আল আমিন বলেন, সাংবাদিকদের গায়ে হাত তোলা আমরা কখনোই সমর্থন করি না। ঘটনার সময় রেদওয়ান আমাকে কল দিয়েছিল। আমি নিষেধ করার পরও তারা ওর গায়ে হাত তুলেছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি৷

সাংবাদিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা এ বিষয়ে কোনো ছাড় দিবো না। কিছুদিন আগেও সাংবাদিকদের সঙ্গে ছাত্রলীগের ‘বিজয় গ্রুপের’ অনুসারীরা ঝামেলা করেছিল। এরপর আমরা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েছি। প্রশাসন তাদেরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া ছাড়া আর কোনো কিছুই করেনি। এবার যদি অভিযুক্তদের বহিষ্কার না করে, তাহলে আমরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।

ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে আসি। ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেছি, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নয়াশতাব্দী/জেডএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ