ঢাকা, রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

দিনে হোটেল বয়, রাতে ডাকাত!

প্রকাশনার সময়: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৭:০৬

সাভারের আশুলিয়ায় নবীনগর চন্দ্রা মহাসড়কে প্রাইভেটকার নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ ৪ ডাকাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। যারা সবাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চা বিক্রি ও হোটেল বয়ের কাজ করতো বলে জানা যায়।

এরআগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ভোররাতে নবীনগর চন্দ্রা মহাসড়কের আশুলিয়া ডেন্ডাবর কবরস্থান রোডের ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তল্লাশি করে প্রাইভেটকারে রামদাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র পাওয়া গেছে।

পরে ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে তাদের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে ঢাকায় আদালতে পাঠানো হয়।

পুলিশ বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও থানার সুবনাপুর গ্রামের মো. আকতার হোসেনের ছেলে মো. সাজু (১৯), নীলফামারী জেলার ডিমলা থানার কাকিনা চাপানী গ্রামের মো. আরশাদ হকের ছেলে মো. হাবিবুর রহমান সম্রাট (১৮), ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা থানার সিগারপুর গ্রামের মো. সাইফুল ইসলামের ছেলে মো. মনিরুল ইসলাম ওরফে জাহারুল এবং ঝিনাইদহ জেলার সদর থানার গোপালপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. নাঈম। তারা আশুলিয়ার ইসলামনগর এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

এরমধ্যে মনিরুল ও সম্রাট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় বিভিন্ন হোটেলে বয়ের কাজ করতেন। এছাড়া নাঈম বিশ্ববিদ্যালয়ে চা বিক্রি করতেন এবং সম্রাট পূর্বে চা বিক্রি করলেও বর্তমানে ভাড়ায় গাড়ি চালাতেন বলে জানা যায়।

পুলিশ জানায়, সোমবার ভোরে একদল ডাকাত চলন্ত যানবাহন গতিরোধ করে ডাকাতির প্রস্তুতির নেয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা একটি নীল রঙের প্রাইভেটকারে পালানোর চেষ্টা করে। অভিযান চালিয়ে তাদের চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একজন পালিয়ে যায়।

এদিকে ডাকাতিকালে আটককৃত ঢাকা মেট্রো-গ ১৫৩৭৪৪ নং গাড়িটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী ইকবালের বোন ফারজানা ইসলামের নামে রয়েছে। তবে গাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক কমিটির (জুয়েল-চঞ্চল কমিটি) সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম মোল্লা চালায় বলে জানা যায়।

তবে এ ব্যাপারে জানতে একাধিকবার মেহেদী ইকবালকে কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শামীম মোল্লা বলেন, গাড়িটি আমার নয়, স্যারের সাথে সম্পর্ক ভালো থাকায় আমাকে চালাতে দিয়েছে। আটককৃত সবাই আমার পরিচিত। তবে তারা আমার গাড়িটি চুরি করেছে। যার সিসিটিভি ফুটেজ আমার কাছে আছে। চুরির অভিযোগ করে আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়রিও করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আশুলিয়া থানার এসআই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। মূলত মহাসড়কে যানবাহনসহ পথচারীদের টার্গেট করে সুযোগ বুঝে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সব লুটে নেয়। তারা বয়সে কিশোর হলেও, তাদের পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালীদের হাত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য আমরা সংগ্রহ করেছি। তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ