ঢাকা, রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

জাবির সাবেক ভিসির গাড়িচালকের ঘর থেকে মদের বোতল উদ্ধার

প্রকাশনার সময়: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২১:২৮

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক রমজান আলীর বাসা থেকে দুই ট্রাংক খালি মদের বোতল উদ্ধার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

যা গত ১২ সেপ্টেম্বর স্টাফ কোয়ার্টারের ই-১১১ নম্বর বাসায় অভিযান চালিয়ে এসব মদের বোতল উদ্ধার করা হয়। তবে চালক রমজান আলীর দাবি, তাকে ফাঁসানোর জন্য তার স্ত্রী এবং শশুর বাড়ির লোকজন এ ধরনের ‘নাটক মঞ্চস্থ’ করেছে।

অন্যদিকে রমজান আলীর স্ত্রী ফাহমিদা খাতুনের দাবি, রমজান আলী নিয়মিত মাদক গ্রহণ করেন এবং মাদকাসক্ত অবস্থায় তাকে মারধর করেন। করোনাকালীন সময়ে সাবেক উপাচার্য ফারজানা ইসলামের বাসায় নিয়মিত ডিউটি করার সময়ে রমজান আলী অনেক বেশি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন বলে জানান তিনি। এছাড়া অতিরিক্ত মাদকাসক্তের ফলে পারিবারিক সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এরআগে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ফাহমিদা খাতুন।

যেখানে তিনি উল্লেখ করেন, রমজান আলী নেশা করে আমাকে প্রতিনিয়ত শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। কিন্তু বারবার তাকে বিষয়টি বাদ দেওয়ার কথা বললেও তার স্বাভাবিক পরিবর্তন হচ্ছে না। পরিবর্তে তিনি অমানবিকভাবে মানসিক অত্যাচার ও শারীরিকভাবে হেনস্থা করে আসছে। আমি দুর্ব্যবহারের কারণ জিজ্ঞেস করলে, সে আমার গায়ে হাত তোলে মারপিট করে এবং বটি নিয়ে মেরে ফেলারজন্য তেড়ে আসে। আমরা কান্নাকাটি করলে সে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। যাবার সময় ডিভোর্স দেওয়া এবং বিষ খাইয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

এদিকে বিষয়টি সমাধান করার জন্য এলাকার মুরুব্বিদের নিয়ে বসলে রমজান আলী সমাধানের পথ হিসেবে স্ত্রীকে ডিভোর্স দিতে চান। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের নির্দেশে রমজানের বাসা তল্লাশি করা হয়। এ সময় নিরাপত্তা অফিসের কর্মচারী, কর্মচারী ইউনিয়ন, কর্মচারী সমিতির নেতারা রমজানের বাসায় তল্লাশি করেন এবং সেখান থেকে দুই ট্রাংক মদের খালি বোতল উদ্ধার করেন।

এ বিষয়ে রমজান আলী বলেন, আমাকে সামাজিকভাবে হেনস্থা করার জন্য এ ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। পারিবারিক সমস্যা আমাদের দীর্ঘদিন ধরে চলছে তার পরিপ্রেক্ষিতে আমি আমার স্ত্রীকে গত জুলাই মাসে ডিভোর্স দেই। কিন্তু ডিভোর্স মেনে না নিয়ে সে এবং তার পরিবারের লোকজন আমার বিরুদ্ধে কাজ করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তবে এটি তাদের পারিবারিক বিষয়। আমি সমস্যাটি পারিবারিকভাবে সমাধান করার জন্য বলেছি।

মদের বোতল উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, বোতল উদ্ধারের কথা শুনেছি। কিন্তু এর সাথে যেহেতু পারিবারিক ব্যাপার জড়িত আমি বিষয়টি সেভাবে সমাধান করার জন্য অনুরোধ করেছি।

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ