ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

চবি নাট্যকলা বিভাগের উদ্যোগে মঞ্চায়িত হবে নাটক 'কিনু কাহারের থেটার'

প্রকাশনার সময়: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৮:৫১

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নাট্যকলা বিভাগের উদ্যোগে মঞ্চায়িত হবে মনোজ মিত্রের বিখ্যাত নাটক 'কিনু কাহারের থেটার'।

আগামী বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের থিয়েটার ইন্সটিটিউটে বিকেল ৫টায় প্রথম প্রদর্শনী ও সন্ধ্যা ৭টায় দ্বিতীয় প্রদর্শনী মঞ্চায়িত হবে। 'কিনু কাহারের থেটার' নাটকটি রচনা করেছেন মনোজ মিত্র এবং পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন অসীম দাশ।

মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে চবি সাংবাদিক সমিতির (চবিসাস) কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিভাগটির সহকারী অধ্যাপক অসীম দাশ।

এ সময় তিনি চবি নাট্যকলা বিভাগের সভাপতি শাকিলা তাসমিন-এর লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করে বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, নাট্যকলা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের থিয়েটার ইনস্টিটিউট-এ আয়োজন করছে মনোজ মিত্রের বিখ্যাত নাটক ‘কিনু কাহারের থেটার'। অভিমারির দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর নাট্যকলা বিভাগ নব উদ্যমে তাদের শিল্পচর্চার দ্বার উন্মোচন করেছে’।

তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতে সকলের সম্মিলিত প্রয়াস এই বিভাগটি ছাত্র-শিক্ষকদের কাজের পরিধি বিস্তৃত করতে দৃঢ় ভূমিকা পালন করবে। নাট্যকলা বিভাগের প্রযোজনা 'কিনু কাহারের থেটার’ দর্শক হৃদয় ছুঁয়ে যাক। জয় হোক নাটকের, জয় হোক বাংলা থিয়েটারের”।

'কিনু কাহারের থেটার' নাটকের কাহিনীতে ফুটে উঠবে বহু বছর আগের কথা। তখন ইংরেজ শাসনের শেষ আমল। সে সময় হাটে-ঘাটে-মাঠে থিয়েটার করে বেড়াতো অখ্যাত কোনো গ্রামে জন্মানো এক অন্তজ, নাম তার কিনু কাহার। ভদ্রলোকদের এ থিয়েটারে আগমন ঘটতো না, নেহাতই অশিক্ষিত দরিদ্র গ্রামবাসীর অবসর কাটানোর খেলা। এমনই একদিনে কিনু কাহার ও তাঁর দলবল মিলে করবে নাটক 'ঘণ্টাকর্ণপালা'। পুতনা রাজ্যের কাহিনি। যে রাজ্যে রাজার কোনো ক্ষমতা নেই। দুষ্কর্মের দোসররা হয়েছে আইনের পরম বন্ধু। রাজ্যের ঘটে চলা যাবতীয় অপকর্মের ভার চাপানো হয়েছে বোকা ভোম্বল ঘণ্টাকর্ণের ওপর। ঘণ্টাকর্ণও লোভী বউয়ের সাধ-আহ্লাদ মেটাতে অন্যলোকের সাজা খেয়ে বেড়াচ্ছিল। এরই মধ্যে রাজ্যের উজির এক নারীর শ্লীলতাহানি করেছেন। এ কারণে রাজ্যের লাটসাহেব খেপেছেন।

সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘এ অপকর্মের যদি বিচার না হয়, তাহলে আমি সিংহাসন ফালাইয়া দিব’। রাজা পড়লেন উভয়সংকটে। উজির তাঁর প্রাণের দোসর, তাঁকে কী করে শাস্তি দেবেন? এদিকে আবার লাটসাহেব উজিরের সঙ্গে যোগসাজশে রাজাকে অপদস্থ করতে উদ্যত হয়। শেষমেশ এ অপরাধেরও দায় গিয়ে ওঠে সেই বোকা ঘণ্টাকর্ণের ওপর। কিন্তু এবার আর ঘণ্টাকর্ণ মুখ বুজে তা সহ্য করে না, করে ওঠে প্রতিবাদ। শেষপর্যন্ত কার গলায় ঝুললো দড়ি তা জানতে দেখতে হবে পুরো নাটকটি। নাটকে কিনুর বারোয়ারি থিয়েটারের খোলসে সমকালের আয়না উঠে এসেছে। স্বার্থপর রাজা-উজির, বিদেশি শাসকের প্রতিনিধি, ভণ্ড সাধু যেমন শোষকের চিত্র তুলে ধরে তেমনি ঘণ্টাকর্ণ, জগদম্বা এবং উদাসিনীর মতো শোষিত মানুষের মাধ্যমে সমকাল তথা চিরকালের গোটা সমাজটাই প্রত্যক্ষ হয়ে ওঠে কিনু কাহারের থেটারে।

চট্টগ্রামের থিয়েটার ইন্সটিটিউটে দর্শকরা ২০০ ও ১০০ টাকা মূল্যের টিকেটের মাধ্যমে নাটকটি দেখতে পারবেন। আগ্রহীরা টিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন চবি নাট্যকলা বিভাগের সামনে থেকে অথবা প্রদর্শনীর দিন থিয়েটারের প্রবেশমুখ থেকেই।

নয়া শতাব্দী/এফআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ