ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪৩০, ২০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৫

বিশ্ববাসী এক নামে চিনবে এমন বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে চাই : সৌমিত্র শেখর

প্রকাশনার সময়: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৭:৫৯

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর বলেছেন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) এর বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি এপিএ র‌্যাংকিংয়ে ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ১৪তম হয়েছে। অথচ এরআগে ৪২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৯তম অবস্থানে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়। আমি যোগদানের পর ৪৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২৯তম অবস্থানে আসে এবং এবার ১৪তম অবস্থান দখল করতে সক্ষম হয়। আগামীতে এই বিশ্ববিদ্যালয় আরও এগিয়ে যাবে এবং বিশ্বে এমন ভাবমূর্তি তৈরি হবে বিশ্ববাসী এক নামে চিনবে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়কে।

বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জয়ধ্বনি মঞ্চে রংপুর ডিভিশনাল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক আয়োজিত নবীন বরণ ও কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়ন এই তিনটি মোটোকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাইকে নিয়ে কাজ শুরু করি। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন দিক থেকে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় পূর্বের অবস্থা থেকে অনেক এগিয়ে গিয়েছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আজীবন বাঙালির জন্য সংগ্রাম করেছেন, বাঙালির আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছেন। তিনি ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত এক উন্নত বাংলাদেশের নকশা করেছিলেন। কিন্তু ঘাতকদের বুলেট তার সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন হতে দেয়নি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে নিজের জন্য না ভেবে দেশের জন্য ভাবতে এবং অন্যের উপকারে কাজ করতে রংপুর ডিভিশনের নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন এবং তার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে ১৯৮১ সনে বাংলাদেশে আসেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে পৌঁছে গেছে। বাংলাদেশ এখন স্মার্ট বাংলাদেশের নিকটে। প্রযুক্তি ও জ্ঞান নির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

রংপুর ডিভিশনের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপাচার্য আরও বলেন, আমরা জানি তোমরা একে অন্যের প্রতি অত্যন্ত সহনশীল। তোমরা শুধু রংপুরের শিক্ষর্থীদের সাথেই নয় বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের প্রতি আন্তরিক হবে। আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে চাই যেখানে কোন দারোয়ান থাকবে না, থাকবে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা। এই ক্যাম্পাস হবে একটি নন্দন কানন। প্রথমটি জয় বাংলা এবং দ্বিতীয়টি জয় বঙ্গবন্ধু নামে দুইটি গেইট থাকবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কারও পরিচয় যখন শুনবে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের তখন যেন ইতিবাচক ধারণা তৈরি এমন অবস্থায় আমরা নিয়ে যেতে কাজ করছি। এমন ভাবমূর্তি তৈরির জন্য আমাদের সকলকে একসাথে কাজ করে যেতে হবে।

ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, র‌্যাগিং বিষয়ে আমাদের কঠোর অবস্থান এবং এই ক্ষেত্রে আমাদের জিরো টলারেন্স উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, তোমাদের যদি কেউ কখনও শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতন করে তাহলে তোমরা প্রক্টরিয়াল বডির যে কাউকে জানাবে। র‌্যাগিংয়ের মতো কোনো ঘটনা ঘটলে আমরা তার সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করব।

অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. একেএম জাকির হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর তপন কুমার সরকার। রংপুর ডিভিশনাল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল প্রামাণিক অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

আলোচনা সভার পর শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এরআগে প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতে উপাচার্য ড. সৌমিত্র শেখর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সকল শহিদদের প্রতি এবং জেলহত্যা দিবস ও মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত সকল শহিদদের গভীর শ্রদ্ধা জানান।

নয়া শতাব্দী/এসএ/এসআর

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ