ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

শতকোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকিতে সিঙ্গার!

প্রকাশনার সময়: ০২ এপ্রিল ২০২২, ১০:০৬ | আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২২, ১০:০৮

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতে বহুজাতিক কোম্পানি সিঙ্গার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৯৪ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। কোম্পানিটি শো-রুম, ওয়্যারহাউসের তথ্য গোপন ও অবৈধভাবে রেয়াত সুবিধা নিয়ে ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে বলে প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ)। এরই প্রেক্ষিতে সিঙ্গার বাংলাদেশের কাছে উল্লিখিত অভিযোগের বর্তমান অবস্থা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ ব্যাখা চেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সম্প্রতি সিঙ্গার বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি দেয়া হয়েছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে। একইসঙ্গে বিষয়টি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) অবহিত করা হয়েছে।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৩ ও ৫ নভেম্বর কয়েকটি গণমাধ্যমে ‘সিঙ্গার বাংলাদেশ’ এর ৯৪ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, সারাদেশে সিঙ্গার বাংলাদেশের ৪২৪টি বিক্রয় কেন্দ্র এবং ১৯টি গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১১০টি বিক্রয় কেন্দ্রের ভ্যাট নিবন্ধন রয়েছে। আর বাদবাকি গুদামগুলোর কোনোটিরই ভ্যাট নিবন্ধন নেই।

আরো জানানো হয়েছে, ৩১৪টি সেলস আউটলেট ও ১৯টি গুদাম ভ্যাট কমিশনারেটের কাছে নিবন্ধন না করে সিঙ্গার বাংলাদেশ কর ফাঁকির সুযোগ নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ভ্যাট কমিশনারেটে নিবন্ধিত না হওয়া সত্ত্বেও কোম্পানিটি গুদামের নামে কর রেয়াত নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

আরো বলা হয়েছে, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছরের ২৫ মে বৃহৎ করদাতা ইউনিটের একটি দল সিঙ্গার বাংলাদেশের সাভারের গেন্ডা এলাকার গেন্ডা ওয়্যারহাউস এবং অপর একটি দল ঢাকার ফুলবাড়িয়া ওয়্যারহাউসে অভিযান পরিচালনা করে। দুইটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও তল্লাশি করে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও ভ্যাট-সংক্রান্ত দলিলাদি জব্দ করা হয়। এসব দলিল যাচাই করে একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক জায়গায় অবৈধ রেয়াত গ্রহণ, বিক্রির বিপরীতের ভ্যাট ফাঁকির চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ১৪ জুন প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করে এলটিইউ, যাতে ভ্যাট ফাঁকি ও অবৈধ রেয়াত গ্রহণের পরিমাণ প্রায় ৯৪ কোটি টাকা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল মাসে বিক্রির বিপরীতে ভ্যাট ও অবৈধ রেয়াত নেয়ার মাধ্যমে কোম্পানিটি এ ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে সিঙ্গার বাংলাদেশের ব্যাখ্যসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসইসির একজন কর্মকর্তা নয়া শতাব্দীকে বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) কোম্পানিটি শো-রুম, ওয়্যারহাউসের তথ্য গোপন ও অবৈধভাবে রেয়াত সুবিধা নিয়ে ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে বলে প্রমাণ পেয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমে সিঙ্গার বাংলাদেশের ভ্যাট ফাঁকির খবর প্রকাশিত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন সিঙ্গার বাংলাদেশের কাছে উল্লিখিত অভিযোগের বর্তমান অবস্থা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ ব্যাখা চেয়েছে।

বিস্তারিত জানতে কোম্পানিটির সচিব কাজী আশিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, কোম্পানিটি গত ৩০ মার্চ সাত কোটি ১০ লাখ ইউরো (যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৮০ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের একটি অংশ কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেয়া হবে। বাকি অর্থ আসবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে।

সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২১ তারিখে সমাপ্ত হিসাব বছরে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ৬০ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর পুরোটাই নগদ লভ্যাংশ।

আলোচিত বছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ২০ পয়সা, যা আগের বছর ৮ টাকা ৬ পয়সা ছিল। সে হিসাবে কোম্পানিটির মুনাফা কমে গেছে। গত ৩০ জুন, ২০২১ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৩৪ টাকা ৬ পয়সা।

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ