ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ইউটিউব দেখে কমলা চাষ, বাম্পার ফলন

প্রকাশনার সময়: ২৪ নভেম্বর ২০২২, ১৬:০৬ | আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০২২, ১৬:০৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগর উপজেলায় লিচু, কাঁঠাল, মাল্টা, পেয়ারার পর এবার প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে চায়না-থ্রি-জাতের কমলার আবাদের বাম্পার ফলন হয়েছে।

উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের দুলালপুর গ্রামের প্রবাস ফেরত যুবক মো. আলমগীর হোসেন ২ বিঘা জমিনে ১৮৫টি কমলা গাছ রোপন করে কমলা বাগান গড়ে তুলেন। প্রথমবারের মতো তার কমলা বাগানে কমলার বাম্পার ফলন হয়েছে। তার বাগানে কমলার ফলন দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থী ভিড় করছেন। দর্শনার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বাগানের ছবি ছড়িয়ে পড়লে প্রতিদিন ভ্রমণ পিপাসু মানুষগুলো পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভিড় করছেন কমলা বাগানে। এদিকে এলাকার বেকার যুবকেরা বলছেন, কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে তারাও অনাবাদি জমিগুলোতে কমলার আবাদ শুরু করবেন তারা। এ অবস্থায় স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলছে, ‘আলমগীরের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে কমলা চাষে এলাকার অন্য চাষিদের উৎসাহিত করা হবে।

সরেজমিনে বাগানে গিয়ে দেখা যায়, গাছে-গাছে সবুজ পাতার আড়ালে ঝুলছে কমলা রংয়ের পাকা রসালো টকবগে কমলা। খেতেও বেশ সুস্বাদু। বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের দুলালপুর গ্রামের প্রবাস ফেরত আলমগীর মিয়া। দীর্ঘ দুই দশক প্রবাসে থাকার পর, কয়েক বছর পূর্বে দেশে ফিরে আসেন।

কৃষক আলমগীর জানান, এরপর ইউটিউবের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গার এক কমলা আবাদের ভিডিও দেখে ওই চাষির সাথে যোগাযোগ করেন তিনি। পরে ওই বাগান পরিদর্শন করে ওই চাষীর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে সেখান থেকে চায়না থ্রি-জাতের কমলার চারা নিয়ে তার নিজ এলাকায় কমলা বাগান গড়েন। বিদেশ থেকে এসে তার চাচার কাছ থেকে ৬৫ শতাংশ জমি লিজ নেন। শুরু করেন কমলার আবাদ। মাত্র দুই বছরের মাথায় তার বাগানে চোখ ধাঁধানো কমলার ফলন পেয়ে অনকেটাই খুশি চাষি আলমগীর ।

চাষি আলমগীর আরও বলেন, আমি ১৮৫টি চারা এখানে রোপন করেছি। এখন পর্যন্ত ১ হাজার থেকে ১২শ কেজি কমলা বিক্রি করেছি ১৭০ টাকা কেজি দরে। এখন পর্যন্ত বাজারে নিয়ে যেতে হয়নি। দর্শনার্থীরা এসে দেখে বাগান থেকেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বাগান করার সময় গ্রামের অনেকেই বলেছিলেন এই এলাকায় কমলার চাষ হবে না। আমি মানুষের কথায় কান না দিয়ে নিজের মত করে চেষ্টা করেছি। চেষ্টা করে এখন আমি কমলা চাষে সফল হয়েছি।

আলমগীরের এমন সাফল্য দেখে আশপাশের এলাকার চাষিরা বলছেন, ‘সরকারি সহযোগিতা পেলে তারাও অনাবাদি জমিগুলোতে কমলার বাগান তৈরি করবেন।

রাজু মোল্লা নামে এক চাষি বলেন, আমরা এখন বুঝতে পেরেছি যে এই এলাকায় কমলার চাষ লাভজনক এবং ফলনও খুব ভালো হয়। যদি সরকার আমাদেরকে সহযোগিতা করে, তাহলে আমরা আমাদের আশপাশের খালি জমিগুলোতে কমলার চাষ করতে আরও বেশি আগ্রহী হব।

এদিকে আলমগীরের কমলা বাগানে কমলার ভালো ফলন দেখে অকেটাই তাজ্জব বনে যান ক্ষুদ এলাকার কৃষি কর্মকর্তারা।

বিজয়নগর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মো. আব্দুল ওয়াদুদ ও হাদিউল ইসলাম বলেন, তারা, ‘একাধিকবার পরীক্ষামূলকভাবে এই অঞ্চলে কমলার চাষ করেও সুফল পায়নি। তবে সফল চাষি আলমগীরের কাছ থেকে এবার পরামর্ম নিয়ে এই অঞ্চলে কমলার আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করবেন বলে জানান তারা। এছাড়া সরকারিভাবে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে এই কমলার চাষ বৃদ্ধিতে এই অঞ্চলে কমলার আবাদ বৃদ্ধির জন্য প্রর্দশনী দেওয়া হবে বলে জানান তারা।

মো. মুসা মিয়া নামে আরেক চাষি বলেন, অল্প জায়গাতে কমলার চাষে প্রমাণিত যে এই এলাকা কমলা চাষের জন্য উপযোগী। আমরা কমলার বাগানটি ঘুরে দেখেছি। দেখে আমাদের কাছে খুব ভালো লাগল। আগামীতে আমরাও আমাদের অনাবাদি জমিতে কমলার চাষ করতে আগ্রহী হয়েছে। সরকার যদি এই ব্যাপারে আমাদের সহযোগিতা করেন তাহলে বৃহৎ পরিসরে আমরা কমলার চাষ করবো। এতে বিজয়নগর এলাকা আরো ফল সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, কমলা চাষী আলমগীর চাইলে তিনি ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণ নিতে পারেন। আমরা তাকে সহযোগিতা করবো।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর থেকে বাগানে ঘুরতে আসা কাজী নূরজাহান বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে কোথাও খোলামেলা জায়গা নেই। বাচ্ছাদের বিনোদনের জন্যও তেমন জায়গা নেই। তাই আমি আমার ছেলে-মেয়েদের নিয়ে এই বাগানে এসেছি। এইখানের পরিবেশটাও অনেক সুন্দর। সেই সঙ্গে গাছে গাছে কমলা ঝুলছে, দেখতেও খুব ভালো লাগে। আশা করি, সবাই তাদের সন্তানদের নিয়ে এই এলাকায় ঘুরতে আসবে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কমলা বাগানের ছবি ছড়িয়ে পড়লে ভ্রমণ পিপাসু মানুষগুলো পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাগানে আসছেন। তারা ছবি তুলছেন এবং বাগান থেকে কমলা ক্রয় করে অনেকটাই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের দুলালপুর গ্রামের প্রবাস ফেরত যুবক মো. আলমগীর আরও বলেন, প্রথমবারের মতো ফলন ভালো হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আমি নিজেও এতোটা আশাবাদী ছিলাম না। আমার এই বাগানে এতো লোকের সমাগম হবে, আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করব প্রতিবছরই যেন এই বাগানে কমলার চাষ করে সাফল্য অর্জন করতে পারি, সেই দোয়া ও আশীর্বাদ আমার জন্য করবেন সকলে। খরচ বাদ দিয়ে আমার এই বাগান থেকে অন্তত ৫ লাখ টাকা কমলা বিক্রি হবে বলে আশা করছি।

নয়াশতাব্দী/এফআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ