ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ভাড়াউড়া লেক

প্রকাশনার সময়: ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১৯:০১

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের শহর শ্রীমঙ্গল। প্রায় দেড় শতাধিক বছরের প্রাচীন চা শিল্পের ঐতিহ্যের গৌরব বহনকারী প্রাকৃতিক আশ্রয়ে গড়ে ওঠা পাহাড় ও সমতল ভূমির ওপর ছোট এই শহরের অবস্থান। আঁকাবাঁকা মেঠো পথ, পাহাড়ি ঝর্না, পাহাড়, হাইল-হাওরের মতো জলাভূমি এবং অতিথি পাখি বিচরণের অভয়ারণ্য বাইক্কাবিল, লেক এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছ-গাছালি ও বন্যপ্রাণীতে ভরপুর এই উপজেলা।

উঁচু-নিচু পাহাড়ঘেরা বন-বনানী আর নীল আকাশের সঙ্গে যেন সবুজ পাহাড়ের গভীর এক মিতালি। এই বিচিত্র রূপ আর সৌন্দর্য এক নজর দেখার জন্য প্রতিদিন দেশ-বিদেশের প্রকৃতিপ্রেমিরা ছুটে আসেন; প্রকৃতির রানি শ্রীমঙ্গলে। প্রকৃতির সুরম্য নিকেতন শ্রীমঙ্গলে দৃষ্টিনন্দন চা-কন্যা ভাস্কর্য, মত্যুঞ্জয়ী’৭১ বা স্মৃতিস্তম্ভ বধ্যভূমি’৭১, চা জাদুঘর, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, তার্কিস স্থাপত্য শিল্পের জান্নাতুল ফেরদৌস মসজিদ, লেক, হাইল-হাওর, চারশ বছরের পুরনো বরুণা জামে মসজিদ, বরুণা মাদরাসায় নির্মিত দৃষ্টিনন্দন মসজিদে আবু বকর (রা.), চিড়িয়াখানা, লেবু-আনারস, রাবার বাগান মনকে মাতিয়ে দেয়। রাঙিয়ে তুলে। মনে বলে উঠে, অপরূপ নৈসর্গিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি শ্রীমঙ্গল।

‘ভাড়াউড়া লেক’ দর্শনীয় জায়গাগুলোর একটি। এটি শহর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে ভাড়াউড়া চা বাগানে অবস্থিত। সবুজঘেরা চারপাশে চা বাগানের মাঝখানে এই বিশাল লেক। স্থানীয় লোকজনসহ অনেক পর্যটকরা এখন এই লেকটিতে বেড়াতে আসেন প্রতিনিয়ত। লেকের দ¶িণ-পূর্বে পাঁচ তারকা মানের হোটেল; গ্র্যান্ড সুলতানের সীমানা, পশ্চিমে মূল ভাড়াউড়া চা বাগান, উত্তরে রেললাইন ও পূর্বে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। চারিদিকে সবুজের সমারোহ সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে দ্বিগুণ। অপরূপ সৌন্দর্যের ভাণ্ডার নিয়ে যেন দাঁড়িয়ে আছে এই লেকটি। লেকের মনোরম পরিবেশ ও নয়নাভিরাম সৌন্দর্য প্রকৃতিপ্রেমিদের তুমুল আকর্ষণ করে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সে বিলে গিয়েছিলাম একবার। সঙ্গে ছিল প্রিয় বন্ধু আরিফ হোসেন, হিফজুর রহমান ও জুবায়ের আহমদ জুবেল। শহরের কলেজ রোড থেকে অটোরিক্সা করে প্রথমে ভাড়াউড়া চা বাগানে পৌঁছায়। লেকে পৌঁছাতে প্রায় ৩০ মিনিটের পাহাড়ি পথ হাঁটতে হয়। লেকের শাপলা ফুলগুলো যেন সবুজের মধ্যে লালের ছোঁয়া। চা বাগানে বেষ্টিত লেকের অপরূপ সৌন্দর্য দেখে বিমুগ্ধ হয়ে পড়ি আমরা। অজান্তেই কণ্ঠে সুর আসেÑ সুবহানাল্লাহ। গেয়ে ওঠি, ‘সবুজ শ্যামল এই অপরূপ লীলাভূমি,

স্রষ্টার অপার দান,

লাখো লাখো আদমের শাহাদাত সিঞ্চিত আমারই প্রাণতান।

মহিরুহ পল্ললে, পাখিদের কল্লোলে স্বর্গের সন্নিবেশ।

আমার জন্মভূমি প্রিয় বাংলাদেশ।’

মনে পড়ে প্রভুর কালামের আয়াত, ‘(হে রাসুল) আপনি বলুন, তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ করো এবং দেখ, কিভাবে তিনি সৃষ্টিকর্ম শুরু করেছেন। অতঃপর আল্লাহ পুনর্বার সৃষ্টি করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু করতে সক্ষম।’ (সুরা আনকাবুত : ২০)

তখন সূর্য ডোবার আয়োজন চলছে। সূর্যের রক্তিম আলোর ছটা মায়া ছড়িয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর লেকে, বৃক্ষে, স্বচ্ছ পানি ও মানুষের হৃদয়ের মিনারে। আমরা আসরের নামাজ পড়ি। ইমামতি করেন জুবায়ের আহমদ জুবেল।

যেভাবে যাবেন

বাস, ট্রেন কিংবা অন্য যানবাহনে আপনাকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরে আসতে হবে। শহরের চৌমুহনা পয়েন্ট থেকে কলেজ রোড হয়ে অটোরিকশা বা সিএনজিতে সোজা চলে যাবেন ভাড়াউড়া চা বাগান। রিকশায় যেতে ১০ মিনিট লাগবে। অটোরিকশায় জনপ্রতি ভাড়া নেবে ৩০ টাকা। চাইলে গাড়ি রিজার্ভ করেও আসতে পারেন। অতঃপর সেখান থেকে প্রায় ৩০ মিনিটের পাহাড়ি পথ একটু হেঁটেে গলেই পেয়ে যাবেন ভাড়াউড়া লেক।

লেখক : শিক্ষার্থী, বিএসএস (ডিগ্রী), শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ

নয়া শতাব্দী/আরআর

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ