রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

গ্যালন-ড্রাম নিয়ে ফিলিং স্টেশনে মানুষের ভিড়

প্রকাশনার সময়: ০৪ অক্টোবর ২০২২, ২২:১৩ | আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০২২, ২২:১৮

জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে দেশের বিশাল একটি অংশ বিদ্যুৎহীন ছিল দুপুর থেকে। সন্ধ্যার পর রাজধানীর অল্প কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ এলেও বেশিরভাগ অংশ এখনো অন্ধকার, জ্বলছে না সড়কবাতিও। বাসা-বাড়ি, দোকানপাট কিংবা সড়ক- কোথাও জ্বলছে না বিদ্যুতের আলো। এমন ভিন্ন এক ঢাকা আগে খুব কমই দেখেছে মানুষ। তবে কিছু কিছু ভবন ও দোকানে জেনারেটরের মাধ্যমে বাতি জ্বলছে। দুপুর থেকে জেনারেটরগুলো চলছে। তাই তেল শেষের দিকে। উপায়ান্তর না দেখে লোকজন জেনারেটরের জন্য তেল কিনতে ভিড় করছেন রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে।

ফিলিং স্টেশনের ভেতরে মানুষ ধরার ঠাঁই নেই। লাইন চলে এসেছে মূল সড়কে। আরও লোকজন আসছে। ভিড় বাড়ছে। তেল সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীদের।

খিলক্ষেত এলাকার নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস এন্ড সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ভেতরে এবং বাইরের মূল সড়কেও ছিলো মানুষের ভিড়। তাদের সবার হাতে ড্রাম, কনটেইনার, বোতল বা বিভিন্ন ধরনের পাত্র। তারা সবাই এসেছেন জেনারেটরের জন্য জ্বালানি তেল কিনতে।

শুরুর দিকে এমন ছিল না। তবে সময় যত গড়িয়েছে, ততই লোকজনের ভিড় বেড়েছে। এক পর্যায়ে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ লোকজনকে লাইনে দাঁড় করিয়ে দেয়। লোকজন লাইনে দাঁড়ালেও তেল সরবরাহের স্থলে জটলা তৈরি হয়েছে, চলেছে কে কার আগে তেল নেবে- সেই প্রতিযোগিতা।

এ ফিলিং স্টেশনে জেনারেটরের তেল কিনতে আসা এক ব্যক্তি বলেন, কারেন্ট নেই, এদিকে জেনারেটরের তেল শেষের দিকে। তেল নিতে এসে বিপদে পড়ে গেছি। লোকজনের দীর্ঘ লাইন। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও তেল নিতে পারছি না।

তেল সরবরাহের কাজে নিয়োজিত ফিলিং স্টেশনের এক কর্মী বলেন, প্রচুর লোক এসেছেন। সবাইকে সিরিয়ালে থাকতে বলেছি। কিছু লোক সিরিয়াল ভেঙে সামনে এসে জটলা তৈরি করছেন। সিরিয়ালে থাকলে সবাই তেল পাবেন- তারা এটি বুঝতে চাইছেন না।

পেট্রোল পাম্প অপারেটরদের মতে, দুপুরে জাতীয় গ্রিড ব্যর্থ হওয়ার পরপরই, অনেক বাসিন্দা তাদের জেনারেটর চালানোর জন্য ডিজেল সংগ্রহ করতে পেট্রোল পাম্পে ছুটে আসেন।

বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি নাজমুল হক বলেন, ডিজেলের উচ্চ চাহিদার কারণে, কয়েক ঘন্টার মধ্যে পেট্রোলিয়াম শেষ হয়ে যায় এবং অনেক ক্রেতা পেট্রোলিয়াম কিনতে এসে ফিরে যায়।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরের প্রায় ৪০টি পাম্পের মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশ ডিজেল বিক্রি করে, বাকি ৭৫ শতাংশ পাম্পে ডিজেল বিক্রি হয় না; শুধু অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি হয়। অনেক পাম্প ডিপো থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডিজেল সংগ্রহ করতে পারেনি, কারণ তাদের কয়েকজন কর্মচারী দুর্গাপূজার ছুটিতে রয়েছেন। ফলে ডিজেল বিক্রি করা পাম্পগুলোও অতিরিক্ত চাপ সামলাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, গুলশান, বনানী ও নিকেতন এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, তারা ডিজেল সংগ্রহ করতে অনেক রি-ফুয়েলিং স্টেশনে গিয়েছিলেন, কিন্তু পাম্প মালিকেরা তাদের মজুদে ডিজেল নেই বলে তাদের খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছে।

নয়াশতাব্দী/এমএস

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ