রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
ফরিদপুর রামকৃষ্ণ মিশন

কুমারী পূজায় অপরাজিতা রুপে শ্রেয়শী শ্রেয়া

প্রকাশনার সময়: ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৪:৩৭

ফরিদপুর শহরের চরকমলাপুর এলাকার রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার অন্যতম আকর্ষণ কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শাস্ত্রমতে, দুর্গাপূজার মহা অষ্টমীর দিনে এক থেকে ষোলো বছরের কোনো অবিবাহিত কুমারী কন্যাকে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। এই পূজায় রামকৃষ্ণ মিশন মন্দিরে ঢল নামে মানুষের।

সোমবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ফরিদপুর রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে এ পূজা শুরু হয়ে শেষ হয় ১২টা ২৫ মিনিটে।

এবারে অপরাজিতা রূপে যে কুমারী দুর্গা মা হিসেবে পূজিত হন তার নাম শ্রেয়শী শ্রেয়া চক্রবর্তী। সে জেলার বোয়ালমারী উপজেলা সদরের বাসিন্দা শিবশংকর চক্রবর্তী ও জয়ন্তী চক্রবর্তী দম্পতির মেয়ে।

শ্রেয়ার বয়স ৯ বছর। সে এস কে কিন্ডার গার্ডেনের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। কুমারী পূজার পুরোহিত ছিলেন বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। শ্রেয়া চক্রবর্তীর বয়স ৯ বছর। তাই শাস্ত্রমতে তার নামকরণ করা হয়েছে অপরাজিতা। রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে সকাল থেকেই কুমারী পূজা দেখার জন্য নানা বয়সের সব ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষের ভিড় জমে।

এছাড়া সকালে জেলার নয় উপজেলার ৮শ’ ২৯টি মন্ডপে মহাঅষ্টমী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন মন্ডপে উপোস থেকে ভক্তরা দুর্গা মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করেন। পূজা শেষে মিশনের পক্ষ থেকে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সের নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ভক্ত দর্শনার্থীরা নতুন পোশাক পড়ে পূজা মন্ডপে ভিড় করেন। এ সময় পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণ ও ঢাকের বাজনা এবং শঙ্খধ্বনিতে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।

রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের কুমারী পূজার পুরোহিত বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী বলেন, ফরিদপুর রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হলো। শাস্ত্রমতে, কুমারী নির্বাচন করে বয়স অনুযায়ী তাকে নাম দিয়ে বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। এজন্য নির্বাচিত কুমারীকে বিভিন্ন আচার-নিষ্ঠা মেনে চলতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং জাঁকজমকপূর্ণ দিনটি সোমবার। সকালে কুমারী পূজার মধ্য দিয়ে দিনটি শুরু হয় এবং সন্ধ্যায় দেবীর সন্ধ্যাপূজা।

কুমারী বালিকার মধ্যে শুদ্ধ নারীর রূপ চিন্তা করে তাকে দেবী মনে পূজা করে ভক্তরা। হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, সাধারণত ১ থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা কুমারীকে পূজার উল্লেখ রয়েছে। ব্রাহ্মণ অবিবাহিত কন্যা অথবা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কন্যাকেও পূজা করার বিধান রয়েছে।

বয়সভেদে কুমারীর নাম হয় ভিন্ন। এক বছর বয়সে সন্ধ্যা, দুইয়ে সরস্বতী, তিনে ত্রিধামূর্তি, চারে কালিকা, পাঁচে সুভাগা, ছয়ে উমা, সাতে মালিনী, আটে কুজ্বিকা, নয়ে অপরাজিতা, দশে কালসন্ধর্ভা, এগারোয় রুদ্রাণী, বারোয় ভৈরবী, তেরোয় মহালক্ষী, চৌদ্দয় পীঠনায়িকা, পনেরোয় ক্ষেত্রজ্ঞা ও ষোল বছরে অম্বিকা বলা হয়ে থাকে।

শাস্ত্রানুসারে অজাতপুষ্প সুলক্ষণা কুমারীকে ‘দেবীদুর্গাজ্ঞানে’ পূজা করা হয়। অষ্টমীতে নির্বাচিত কুমারীকে স্নান করিয়ে নতুন বস্ত্র পরানো হয়। হাতে দেয়া হয় ফুল, কপালে সিঁদুরের তিলক ও পায়ে আলতা। যথাসময়ে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপচারে পূজা করা হয় কুমারীকে। কুমারী পূজার মাধ্যমে নারী জাতি হয়ে উঠবে পূত-পবিত্র ও মাতৃভাবাপন্ন।

ফরিদপুর রামকৃষ্ণ মিশনের সাধারণ সম্পাদক মহারাজ স্বামী সুরবানন্দ বলেন, প্রতিবারের মত এবারও আমরা কুমারী পূজার আয়োজন করেছি। হিন্দু ধর্মীয় মতে, বয়স ভেদে কুমারীর নাম ভিন্ন হয়। এবার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী নয় বছর বয়সী শ্রেয়শী শ্রেয়া চক্রবর্তী পূজিত হন।

তিনি বলেন, শাস্ত্রমতে এই বয়সে কুমারী পূজিতা হলে শুভশক্তির বিকাশ ও অশুভ শক্তির বিন্যাস ঘটে। এতে সমাজে অশান্তি দূর হয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বজায় থাকে।

নয়া শতাব্দী/জেআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ