ঢাকা, সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

শারদীয় দুর্গাপূজার সাতকাহন ও তাড়া‌শের পূজা

প্রকাশনার সময়: ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৪:৪১

কালিকা পুরাণ ও বৃহদ্ধর্ম পুরাণ অনুসারে, রাম ও রাবণের যুদ্ধের সময় শরৎকালে দুর্গাকে পূজা করা হয়েছিল। হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, শরৎকালে দেবতারা ঘুমিয়ে থাকেন। তাই এই সময়টি তাদের পূজা যথাযথ সময় নয়। অকালের পূজা বলে এই পূজার নাম হয়- অকালবোধন।

হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী মনে করা হয়, দেবী দুর্গার মর্তে আগমন ও গমন যে বাহনে, তারওপর নির্ভর করে, পৃথিবী বাসীর কেমন কাটবে গোটা বছরটা। এই বছর দেবী দুর্গার আগমন গজে, যার অর্থ শস্যপূর্ণা বসুন্ধরা। আবার দেবী দুর্গা বা উমা কৈলাসে ফিরবেন নৌকায় যার অর্থ শস্য বৃদ্ধি ও জল বৃদ্ধি।

এ বছর মহালয়া পড়েছিল ২৫ সেপ্টেম্বর, রবিবার। মহাপঞ্চমী- ৩০ সেপ্টেম্বর, মহাষষ্ঠী- ১ অক্টোবর, মহাসপ্তমী- ২ অক্টোবর, মহাঅষ্টমী- ৩ অক্টোবর, মহানবমী- ৪ অক্টোবর এবং মহাদশমী- ৫ অক্টোবর।

শাস্ত্রমতে আরো বলা হয়ে থাকে সপ্তমীতে দেবী দুর্গার আগমন এবং দশমিতে গমন হয়। সাধারণত প্রতি বছর সপ্তমী ও দশমী কী বার পড়ছে তার ওপর নির্ভর করে দেবীর কিসে আগমন এবং গমন সেটা বোঝা যায়। গত বছর দেবী দুর্গার আগমন হয়েছিল ঘোটকে এবং তিনি গমন করেছিলেন দোলায়। আর শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ শেষ হতে না হতেই ধন সম্পদের দেবী লক্ষী পূজা শুরু হবে ঠিক আড়াই দিন পরে।

এভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বী চিরাচরিত একের পর এক পুঁজা অর্চনা শুরু হবে। আর এজন্য অনেকই বলে থাকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বারো মাসে তেরো পার্বণ। শুভ মহালয়ার থেকে দুর্গাপূজার ক্ষণগননা শুরু হয়। তাই ২৫ সেপ্টেম্বর, রবিবার থেকে শুরু হয়েছে মন্দিরে মন্দিরে মহালয়ার ঘট স্থাপন, বিশেষ পূজা, শঙ্খের ধ্বনি, ও চন্ডিপাঠের মধ্যে দিয়ে দেবীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে করতে ২১ দফা নির্দেশনা দিয়েছে। এর মধ্যে আছে দর্শনার্থী ও ভক্তদের সামাজিক দূরত্ব মেনে প্রতিমা দর্শন ও অঞ্জলি প্রদান, ব্যাপক অলোকসজ্জা না করা সহ বেশ কিছু নির্দেশনা।

শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে মন্ডপে ঘুরে দেখা গেছে, কারিগরগণ সুনিপুণ হাতে কার্তিক, গণেশ, লক্ষী, স্বরস্বতী, অসুর, সিংহ, ময়ুর, পেঁচা, ইদুর, হাঁস, সাপ, মহাদেবের মৃত্তিকা মূর্তিতে রং এর কাজ শেষ ক‌রে‌ছেন। প্রতিমা তৈরি এবং প্রতিমায় রং তুলির আচর শেষ করতে দিবা রাত্রি সমান্তরালে কাজ কর‌তে হ‌য়ে‌ছে তাদের।

কারিগরগণ জানিয়েছেন, নানা প্রতিকুলতার মধ্যে তাদের এই পেশা টিকিয়ে রাখতে হচ্ছে। যে মজুরী পাওয়া যাচ্ছে তাতে সংসার চালানো খুবই কষ্টকর। এদিকে প্রতি বছরই প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বাড়ছে। তবে শুধুমাত্র পারিশ্রমিক নয় মায়ের ভক্তি পেতেই তাকে প্রকৃত রূপে ফুটিয়ে তুলতে পরিশ্রম করেন এবং তার শক্তিতেই কাজ করে যাচ্ছেন ব‌লে জানান কারিগররা।

দুর্গাপূজাকে উপলক্ষ করে পূজা উদযাপন কমিটির লোকজন, নেতৃবৃন্দ ব্যস্ত সময় পার করছে। পাশাপা‌শি হিন্দু নর-নারীরা পূজার কেনা-কাটা সহ বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ডে সময় পার করছে।

তাড়াশ পৌরসভা ও সদর ইউনিয়ন মিলে ১৬টি, মাধাইনগর ইউনিয়নে ৬টি, দেশীগ্রাম ইউনিয়নে ৯টি, তালম ইউনিয়নে ৬টি, বারুহাঁস ইউনিয়নে ৪টি, মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নে ২টি, নওগাঁ ইউনিয়নে ১টি, সগুনা ইউনিয়নে ১টি সহ সর্বমোট ৪৫টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তাড়াশ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রজত ঘোষ।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আনন্দ ঘোষ বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে আমরা বিভিন্ন সময়ে যথেষ্ট দান অনুদানসহ প্রশাসনিক নিরাপত্তা পেয়ে থাকি। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় এ পর্যন্ত সফলতার সহিত বিভিন্ন পূজা উৎসব উদযাপন করে আসছি। আশা করছি এবারও সফলতার সহিত শারদীয় দুর্গা পূজা সম্পন্ন হবে।

পল্লী বিদ্যুৎ তাড়াশ জোনাল অ‌ফিস এর ডি‌জিএম নিরাপদ দাস জানান, পূজার এই কয়টা দিন নিরবি‌চ্ছিন্ন ভা‌বে বিদ্যুৎ থাক‌বে ব‌লেই আশা কর‌ছি। প্রাকৃ‌তিক কোন দু‌র্যোগ বা জাতীয় গ্রিডে কোন সমস্যা না হ‌লে বিদ্যুৎ এর সমস্যা হ‌বে না।

তাড়াশ থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম জানান, প্রতিটি পূজা মণ্ডপে আইন শৃঙ্গলা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়াও সনাতন ধর্মের লোকজন যাতে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপান করতে পারেন সে জন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, প্রতি‌টি মণ্ডপে ৮জন আনসার সদস্য আ‌ছে, একা‌ধিক অ‌ফিসা‌রের নেতৃত্বে ইতোমধ্যে টহল পুলিশ মণ্ডপে মণ্ডপে ডিউটি শুরু করেছে। আগামী ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমী পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাক‌বে।

নয়াশতাব্দী/এমএস

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ