ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বরিশালে নারীকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশনার সময়: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৯:৪৯

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বংকুরা গ্রামে সন্ত্রাসী হামলায় শুকুরন বেগম (৫০) নামের এক নারী নিহতসহ আরও ৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় হামলকারীরা একটি বসতঘর ভাঙচুর করে।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত পুলিশ অভিযুক্ত কাউকে গ্রেফতারের খবর দিতে পারেনি।

গরুর জন্য ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্র ধরে বুধবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে যুবলীগ-ছাত্রলীগ পরিচয়ধারীরা এই হামলা চালায় বলে জানিয়েছেন হতাহতদের স্বজনেরা। এ ঘটনায় নিহতের এক স্বজন বাদী হয়ে গৌরনদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

নিহত শুকুরন বেগম ওই উপজেলার বংকুরা গ্রামের হারুন তালুকদারের স্ত্রী। হামলায় গুরুতর আহত শিল্পী বেগম (৪০), মিনার বেগম (৪০), আবু হানিফ বয়াতি (২২) এবং স্কুলছাত্রী মনিকা আক্তারকে (১৫) গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতের স্বজনেরা জানান, বংকুরা গ্রামের সৌদিপ্রবাসী বারেক বেপারীর জমির ঘাস কেটে নেওয়ার অভিযোগে গত মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় দুলাল বয়াতি ও তার বোন শুকুরন বেগমের সঙ্গে প্রতিবেশী বারেকের স্ত্রী রিনা বেগমের ঝগড়া হয়। এ ঘটনার জের ধরে ওই দিন সন্ধ্যায় রিনা বেগম প্রতিবেশি দুলাল বয়াতীকে জুতাপেটা করে। পরে আবারও রিনা বেগম প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তার মেয়ে জামাতা গৌরনদীর যুবলীগ কর্মী নাসির কাজীকে খবর দেয়। নাসির কাজী ও তার সহযোগী উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ধারী সজিবুর রহমান জিয়ার নেতৃত্বে একদল ক্যাডার রামদা ও লোহার রড় নিয়ে বুধবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে বংকুরা গ্রামে দুলাল বয়াতির বাড়ি হামলা চালায়।

হামলাকারীরা দুলালের বোন শুকুরন বেগম (৫০), নিকটআত্মীয় মিনার বেগম (৪০), দুলালের স্ত্রী শিল্পী বেগম (৪০), ছেলে আবু হানিফ বয়াতি (২২) এবং মেয়ে স্কুলছাত্রী মনিকা বেগমসহ (১৫) ৬ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে। এ সময় দুলাল বয়াতির বসতঘর ভাঙচুর করে তারা। আহতদের ওই রাতেই গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগা শুকুরন বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের ভাতিজা আবু হানিফ বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে আসামি করে বৃহস্পতিবার ভোরে গৌরনদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

তবে ওই হামলার ঘটনায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কেউ জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাহাবুব আলম এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের ইসলাম সান্টু ভুইয়া।

গৌরনদী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফজাল হোসেন নয়া শতাব্দীকে জানান, মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপে শুকুরন বেগম নিহত হয়েছেন। হামলায় তারা আরও কয়েকজন স্বজন আহত হয়েছেন। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাতিজা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি মামলা হিসেবে রুজু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান ওসি।

নয়াশতাব্দী/এমএস

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ