ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ফুলবাড়ীয়ায় বস্তায় আদা চাষ

প্রকাশনার সময়: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫:২২

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের বেড়িবাড়ী ইউনিয়নের শংকর চন্দ্র পাল। তিনি তার ৩০ শতক পতিত জমিতে ৫ হাজার ৮শ বস্তায় আদা চাষ করেছে। এতে তার বস্তা, আদা, জৈব রাসায়নিক ও পরিচর্যাসহ প্রতি বস্তায় প্রায় ৩২ টাকা খরচ হয়েছে। আদা উত্তোলন পর্যন্ত খরচ পড়বে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার মতো। আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারী মাসে এই আদা উত্তোলন করা হবে।

শংকর চন্দ্র পাল আশা করছেন প্রতিটি বস্তায় কমপক্ষে দুই কেজি করে আদা উৎপাদিত হবে। সেই হিসেবে ৫ হাজার ৮’শ বস্তা থেকে একশত পঞ্চাশ কেজি আদা পাওয়া যাবে। পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি আদার দাম ৬০ টাকা দাম হলে তিনি কমপক্ষে ৬ লাখ টাকার আদা বিক্রি করতে পারবেন।

শুধু শংকর চন্দ্র পালেই নন। এখন ওই ইউনিয়নের অকেকেই বস্তায় আদা চাষ শুরু করেছেন। চাষীরা জানান, এভাবে চলতে থাকলে পুরো ইউনিয়নের চিত্র বদলে যাবে।

স্থানীয়রা জানান, এ উপজেলায় কম খরচ হওয়ায় বস্তায় আদা চাষের দিকে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের। স্বল্পপরিসরে বস্তায় আদা চাষ করে পরিবারের চাহিদা মেটানোর পর বাজারে বিক্রি করে লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা। ফলে কৃষকের অভাব দূর করেছে আদা।

আরেক চাষি জামান মিয়া বলেন, বাড়ির আঙিনায় বিশ বস্তা আদা চাষ করে ছিলাম, তাতে খরচ হয়েছে ছয়শত টাকা। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে তিন হাজার টাকার আদা বিক্রি করেছি, অল্প খরচে বেশ লাভ হয়েছে। এই মৌসুমে বেশি করে চাষ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, যাদের আবাদি জমি নেই তারাও ইচ্ছা করলে বসতবাড়ির আশেপাশে, বাড়ির আঙিনায় অথবা অন্যান্য পতিত জমিতে বস্তায় আদা চাষ করতে পারে। একটি বস্তায় ৩০ গ্রাম করে ৩টি আদার বীজ রোপন করে প্রায় ২ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব।

তিনি আরো জানান, বস্তায় আদা চাষ করলে মাটি নরম থাকে, ঘাস কম হয়,বর্ষাকালে পানি জমে না, ছত্রাক ও রোগ বালাই কম হয় আদা পঁচে না ফলে আদার ফলন বেশি হয় এবং কৃষক লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বীজ লাগানোর সময় মাটি শোধন করে নিলে আদার কন্দ পঁচা রোগের সম্ভবনা কমে যায়।

পুটিজানা ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রয়েল বলেন, উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন ঝড় বৃষ্টি থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন সময় কৃষকের পাশে থেকে কাজ করে কর্মদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, বেশ সুনাম অর্জন করেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জেসমিন নাহার জানান, বস্তাায় মাটি ভরাট করে কম খরচে আদা চাষ করা কৃষকদের নিকট একটি নতুন ধারণা। প্রত্যেকেই যদি বসতবাড়িতে বা পরিত্যক্ত জায়গায় বস্তা পদ্ধতিতে কিছু কিছু আদা চাষ করেন তাহলে পরিবারের চাহিদা মিটিয়েও বাড়তি উপার্জন করতে পারবেন।

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ