ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

নদী খননের বালু তীরে মজুদ, বাড়ছে নৌ-দুর্ভোগ ও নাব্যতা-সংকট

প্রকাশনার সময়: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২১:০৫ | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০৭

পটুয়াখালী শহরের লঞ্চ টার্মিনাল সংলগ্ন নদী খননের বালু নদীর তীরে মজুদ করায় নাব্যতা-সংকটের পাশাপাশি বেড়েছে ঝুঁকি ও দুর্ভোগ। আর এই অপরিকল্পিত কাজের অভিযোগ উঠেছে বিআইডব্লিউটিয়ের বিরুদ্ধে। বিআইডাব্লিউটিয়ের এমন সিদ্ধান্তে হারিয়ে যেতে বসেছে পাশের একটি গ্রামের অনেকাংশ।

এ বিষয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী সফরকালে নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

স্থানীয়রা বলেন, পটুয়াখালী জেলা শহর সংলগ্ন ঢাকা-পটুয়াখালী লঞ্চ টার্মিনালের অপরপ্রান্ত লাউকাঠি ইউনিয়নের আওতাধীন লাউকাঠি ৯নং ওয়ার্ড। ওই ওয়ার্ড সংলগ্ন নদীর অপরপ্রান্ত ভেঙে এই প্রান্তে পলি জমে বড় আকারের বাকে (মোড়) পরিণত হয়ে স্থানটি বিপদজনক হয়ে ওঠে। অপরদিকে কমতে শুরু করে খরস্রোতা নদীর প্রশস্ততা। যে কারণে ঢাকা-পটুয়াখালী নৌরুটের ওই স্থান অতিক্রমকালে চরম ঝুঁকিতে পরতে হয় নৌযানকে। প্রায় সময় বাক চরে আটকা পরে ডাবলডেকার লঞ্চগুলো। নাব্যতা সংকট নিরসনে বিআইডব্লিউটিএ নদী খনন শুরু করলেও তা ছিল অপরিকল্পিত। সৃষ্টি হওয়া বিশাল দৈর্ঘ্যর কৃত্রিম বাকটি (মোড়) ড্রেজিং করে নদীর গতিপথ ধরে রাখতে ঢাকা-পটুয়াখালী নৌরুটের যাত্রীবাহী ডাবলডেকার লঞ্চ চালক ও স্টাফরা দাবি জানালেও সংশ্লিষ্টরা তা আমলে নেয়নি। ফলে নৌরুটে দুর্ভোগ থেকেই যায়। এদিকে ২০১৯ সালের দিকে ওই বাকের উপরিভাগ জমিনের ৩০-৪০ একর জায়গাজুড়ে বেড কেটে উক্তস্থানে বালু মজুদ করতে শুরু করে বিআইডব্লিউটিএ‘র ড্রেজিং কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে নদীর অপরপ্রান্ত ভেঙে নদীতে বিলীন হয় একটি গ্রাম।

এ প্রসঙ্গে লোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. হুমায়ন কবির বলেন, অপরিকল্পিতভাবে নদী ড্রেজিং করে উত্তোলন করা বালু দিয়ে নদীর ভরাট করছে বিআইডব্লিউটিএ। যে কারণে লোহালিয়া ইউনিয়নের বিশাল অংশ ভেঙে নদীতে বিলীন হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে- লোহালিয়া ইউনিয়নের মানুষ। নদীর বিশাল বাকটি বালু দিয়ে ভরাট না করে ডেজ্রিং করে অপসারণ করতে পারলে নৌরুটের ভোগান্তি কমে যেত। নদীর মূল গতিপথ ধরে রাখতে পারলে নদীর অপরপ্রান্ত ভাঙা বন্ধ হত। কিন্তু কে শোনে কার কথা?

ড্রেজিং প্রকল্পের টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট (সিভিল) মিরাজুর রহমান সোহেল বলেন, প্রকল্পের শুরু দিকে নদী খনন করে বালু রাখার জায়গা সংকট দেখা দিয়েছিল। তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী ও পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদের নির্দেশে আমরা ওই স্থানে বালু রেখেছি। এখানে আমাদের নিজস্ব কোনো মতামত ছিল না। বর্তমানে বালু ফেলানো বন্ধ রয়েছে।

নয়া শতাব্দী/এফআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ