ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ডেপুটি স্পিকারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংঘর্ষ, আহত ১৫

প্রকাশনার সময়: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২২:১১

জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নিযুক্ত হওয়ায় পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকুর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ব্যাপক চেয়ার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাবনা শহরের বীরমুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল স্বাধীনতা চত্বরে এই ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত ডেপুটি স্পিকার পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকুর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহম্মদ রেজাউল রহিম লালের সভাপতিত্বে দুপুর ২টার দিকে নবনিযুক্ত ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বক্তব্য শুরুর আগ মুহুর্তে অনুষ্ঠানের প্যান্ডেলের পেছনের দিকে চেয়ারে বসা ও দাঁড়ানো নিয়ে আওয়ামী লীগের দুইগ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই পক্ষই একে অপরকে চেয়ার ছুড়ে মারে। চেয়ার ছুড়াছুড়ি, ভাঙচুর ও হতাাহাতিতে অনুষ্ঠানে উত্তেজনা দেখা দেয়। এসময় সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোশাররফ হোসেনসহ কয়েকজন নেতা তাদের থামানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। মঞ্চের মাইক থেকে বারবার উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে সতর্ক করা হয়। নেতাদের সব বাধা নিষেধ উপেক্ষা করে দুই গ্রুপই আবার চেয়ার ছোড়াছোড়ি ও ধাওয়া পল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এসময় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এক পর্যায়ে গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এসময় কয়েকজনকে আটক করতে দেখা গেলেও পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল আহাদ বাবুর সঞ্চলনায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স, পাবনা জেলা পরিষদের আওয়ামী লীগ মনোনিত চেয়ারম্যন প্রার্থী বীর মুক্তিযুদ্ধা আ.স.ম.আব্দুর রহিম পাকন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোশাররফ হোসেনসহ দলীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স বলেন, ‘পেছনের দিকে দাঁড়ানো নিয়ে প্রথমে ধাক্কাধাক্কি তারপরে একে অপরকে চেয়ার তুলে মারা শুরু করে। এছাড়া তেমন কিছু নয়, নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমন হয়েছিল, পরে সিনিয়ররা গিয়ে নিয়ন্ত্রণ করেছে এই আরকি।’

এবিষয়ে পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ওই অনুষ্ঠানের প্যান্ডেলের পেছনে দাঁড়ানো ও শ্লোগান নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে একটা ঝামেলা হয়েছিল। পরে নেতারাই তাদেরকে সেখান থেকে সরিয়ে দিয়েছে।’

নয়াশতাব্দী/এমএস

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ