ঢাকা, সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বাড়িতে বাবার মরদেহ, পরীক্ষা কেন্দ্রে মেয়ে

প্রকাশনার সময়: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৮:২২

নীলফামারীর ডোমারে বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখেই এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন নমিতা রানী ঝাঁ নামে এক শিক্ষার্থী। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের বাকডোকরা শিয়ালডাঙ্গা গ্রামে।

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ছয়টায় মারা যান নমিতা রানীর বাবা সুনীল চন্দ্র ঝাঁ। একই দিনে সকাল ১১টায় পরীক্ষায় অংশ নেন নমিতা রানী। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে এসে বাবার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নেয় সে।

সুনীল চন্দ্র ঝাঁ বাকডোকরা শিয়ালডাঙ্গা এলাকার সচ্চিকা নন্দ ঝাঁ সচিনের ছেলে।

নমিতা রানী উপজেলার নিমোজখানা বাকডোকরা স্কুল এন্ড কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তার রোল নম্বর ৫৩০৭৬২। শনিবার বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা বিষয়ের পরীক্ষা ছিল। তবে এদিন সকালে হঠাৎ করেই মারা যান তার বাবা। একদিকে বাবা মারা গেছে, অন্যদিকে পরীক্ষা। এতে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছে নমিতা রানী। পরে স্বজনদের পরামর্শে পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সে।

স্থানীয়রা জানায়, শনিবার সকাল ৬টার দিকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান নমিতার বাবা সুনিল চন্দ্র। মৃত্যুর পর বাবাকে হারিয়ে ভেঙ্গে পড়েন তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট নমিতা রানী। অপরদিকে সকাল ১১টায় তার বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা পরীক্ষা। বাবার মৃত্যু শোকে বার বার মুর্ছা যাওয়া নমিতার পক্ষে পরীক্ষা দেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। এ সময় তার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয় স্বজনরা তাকে বুঝিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠায় এবং সে ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বাবা মারা যাওয়ার পরও নমিতা রানীর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবরটি পেয়ে আমরাও শোকাহত হয়েছি। আমরা তাকে বুঝিয়ে তার বিষয়টি অনুধাবন করে তার পরীক্ষা গ্রহণ করি। খবর পেয়ে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রমিজ আলম নমিতা রানীর কাছে এসে তার প্রতি সহানুভুতি প্রকাশ করেন। পরীক্ষা শেষ হলে তাকে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

পরীক্ষা শেষে বাড়ী পৌঁছে নমিতা রানী তার বাবার মরদেহের পাশে বসে বারবার মুর্ছা যাচ্ছিলেন। বাড়ি পৌঁছার আধাঘন্টা পর তার বাবার মরদেহ অন্তেষ্টিক্রিয়ার জন্য শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রমিজ আলম বলেন, খবরটি শুনে আমি পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে নমিতা রানীর সাথে দেখা করে তার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করি। পরীক্ষা কেন্দ্রে তার যেন কোন অসুবিধে না হয় সে বিষয়ে কেন্দ্র সচিবকে ব্যবস্থা নিতে বলি। বিকালে নমিতার পরিবারের সাথে দেখা করার জন্য তার বাড়ীতে যাবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

নয়াশতাব্দী/এমএস

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ