ঢাকা, রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

জাল সনদে ১১ বছর শিক্ষকতা

প্রকাশনার সময়: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২১:১৯

গাজীপুরের শ্রীপুরে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল সনদ দিয়ে ১১ বছর চাকরি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনা ঘটেছে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের ধামলই উচ্চবিদ্যালয়ে। এমপিওভুক্তির পর আট বছরে প্রায় ১৬ লাখ টাকা সরকারি বেতন ভাতা অবৈধভাবে উত্তোলন করেছেন তিনি।

জোবায়েত হোসেন ওই বিদ্যালয়ে জীব বিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি উপজেলার ধামলই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়েছি। স্কুল কমিটির সভা করে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা যায়, জোবায়েত হোসেন শিক্ষক নিবন্ধনের জাল সনদ দিয়ে ২০১১ সালে ধামলই উচ্চবিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি গ্রহণ করেন। ২০১৪ সালে তিনি এমপিও’র অর্ন্তভুক্ত হন। ৮ বছর ধরে সরকারি বেতন-ভাতা ভোগ করছেন। দীর্ঘ এই সময় অবৈধভাবে উত্তোলন করেছেন প্রায় ১৬ লাখ টাকা সরকারি বেতন-ভাতা। ১১ বছর ধরে ওই শিক্ষক জাল সনদ দিয়ে চাকরি করলেও স্কুল সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি উৎঘাটন করতে পারেনি। প্রায় দুই মাস পূর্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয় জোবায়েত হোসেন শিক্ষক নিবন্ধনে জাল সনদ দিয়ে চাকরি করছেন। তার ভোগ করা বেতন ভাতা ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের চিঠির নির্দেশনা মানেনি প্রধান শিক্ষক। আগস্ট মাসেও ওই শিক্ষকের বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। অজ্ঞাত কারণে দু’মাস পরেও নেওয়া হয়নি কোনো আইনি ব্যবস্থা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফরিদ আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জোবায়েত হোসেন শিক্ষক নিবন্ধনের জাল সনদ দিয়ে চাকরি নিয়েছেন এটি তার জানা ছিল না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়ে জাল সনদের বিষয়টি জানতে পেরেছেন।

মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়ে বিষয়টি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন বলে দাবি করেন। কেন যথাযথ ব্যবস্থা নেননি এবং বিলম্ব হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন ব্যবস্থা নিব।

তিনি আরও বলেন, ওই শিক্ষক সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ থেকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত আছেন। ডাকযোগে ছুটির আবেদন পাঠিয়েছেন। তাকে ছুটি দেওয়া হয়নি। শিক্ষক জোবায়েত এমপিওভুক্তির পর থেকে বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ১৬ লাখ টাকা অবৈধভাবে উত্তোলন করেছেন। যত টাকাই তিনি ভোগ করবেন, তত তার বোঝা ভারী হবে। স্কুল এবং বাড়িতে গিয়েও ওই শিক্ষকের দেখা মেলেনি।

শিক্ষক জোবায়েত হোসেনকে একাধিকবার মোবাইলে ফোন করলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুল আমীন বলেন, শিক্ষক জোবায়েত হোসেনের নিবন্ধনের জাল সনদের বিষয়টি জেনেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা কার্যকরী ব্যবস্থা না নিলে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।

নয়া শতাব্দী/এফআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ