ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

পুকুর জলাশয়ের বাণিজ্যিকীকরণে কমছে সাঁতার কাটার জায়গা

প্রকাশনার সময়: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২২:০৮

প্রতি বছরই চলনবিলের নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুরে ডুবে ৭-১৫ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু হয়। এই মৃত্যু ঠেকাতে শিশু কিশোরদের সাঁতার শেখা জরুরী। শুধু শিশু কিশোর নয়, প্রতিটি মানুষের শারীরিক সুস্থতার জন্য সাঁতার কাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলন‌বিল এলাকায় গত এক বছরে অনেক শিশু কিশোরই পা‌নিতে ডুবে মারা যায়। যদিও কোন দপ্তর থে‌কে স‌ঠিক সংখ্যা জানা সম্ভব হয়নি, তবে সংখ্যাটা নেহায়েত কম নয়।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, চলনবিলের তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, নাটোরের সিংড়াতেও নেই তেমন কোন সাঁতার শেখার উপযোগী পুকুর। যে সকল পুকুর আছে সেগুলোও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাছ চাষের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, যে কয়েকটি পুকুর আছে সে সকল পুকুরে মাছ চাষ হ‌চ্ছে, মাছের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কায় হাঁসও নামতে দেয়া হয়না। অধিকাংশ পুকুরের পানিতে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান থাকায় ওই সকল পুকুরে নামতেও সাহস পায়না কেউ। আর নামলেই পানিবাহিত বি‌ভিন্ন চর্মরোগে আক্রান্ত হতে হয়। এমন‌কি এক পুকুরের পানি অন্য পুকুরেও দিতে দেয়না।

তাড়াশ সদর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের স্থানীয় কৃষকেরা অভিযোগ করে বলেন, পানি প্রবাহের ব্রীজ-কার্লভাটের মুখ বন্ধ করে, সরকারি খাল দখল করে গণহারে পুকুর তৈরি করা হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে।

সাঁতার কাটা প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাঃ মনোয়ার হোসেন জানান, সুস্থ থাকতে চাইলে আমাদের প্রতিদিন ব্যায়াম করার প্রয়োজন। দিনের অন্যসব ব্যায়ামের পরিবর্তে সাঁতার কাটলেই কিন্তু কাজটা সহজ হয়ে যায়। দিনে ১৫ থেকে ২০ মি‌নিট এবং সপ্তাহে ৫ দিন সাঁতার কাটলে ব্যায়ামের কাজটা হয়ে যায়। সাঁতারের মতো ভালো ব্যায়াম খুব কমই আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষা কারিকুলামে ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণির প্রতিটিতে সহশিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় শারীরিক শিক্ষা নামের পাঠ্যপুস্তক রয়েছে। নিয়মিত পাঠদান করা হলেও সাঁতার শেখা‌নো হচ্ছে না বলে জানান একা‌ধিক শিক্ষার্থী। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসম্মত ও মান সম্মত পুকুর না থাকায় সাঁতার শেখানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানায় একা‌ধিক ক্রীড়া শিক্ষক। সাঁতার প্রসঙ্গে তাড়াশ উপ‌জেলা নির্বাহী অ‌ফিসার মো. মেজবাউল করিম জানান, তাড়াশ উপ‌জেলার পূর্ব পাশের পুকুরটাকে বাচ্চাদের সাঁতার কাটার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। তাদের সু‌বিধার কথা চিন্তা করে ৩ টা বাঁধানো ঘাটও করে দেওয়া হয়েছে। স্কুল ছু‌টি থাকলে বাচ্চারা সারা‌দিন পুকুরে গোসল করে সাঁতার কাটে। ত্বকের জন্য ক্ষ‌তিকর এমন কোন রাসায়‌নিক বা কিটনাশক এখা‌নে ব্যবহার করতে দেয়া হয়না। পুকুরটা অ‌ফিস ও বাসার সাথে হওয়ায় সব সময় বিশেষ নজর রাখা হয়, সাঁতার কাটতে আসা বাচ্চা‌রা যেন কোন সমস্যায় না পরে।

নয়াশতাব্দী/এমএস

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ