ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বাউফলে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ৮

প্রকাশনার সময়: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২০:৫৪

বাউফলে পুলিশের উপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় দেড়শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে ও বাকিদের অজ্ঞাত হিসাবে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা সকলে নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী সমর্থক বলে জানা গেছে। মামলায় ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের পটুয়াখালী আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় এ মামলাটি রজু করা হয়। বাউফল থানা স্ট্যান্ডবাই-১ এর মহিপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে এ মামলা করেন। (মামলা নম্বর ৫ তারিখ ৬/৯/২২, ধারা ১৪৩,১৮৬,৩৫৩,৩৩২,৩৩৩,৩০৭ ও ৪২৭)।

জানা গেছে, মঙ্গলবার নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্যে উপজেলার নাজিরপুর তাঁতেরকাঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদের উপ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন বিকাল ৫ টার দিকে ছোট ডালিমা নাজিরপুর হাইস্কুল কেন্দ্রের ফলফলা ঘোষনার পর ওই কেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছেনমং রাখাইনের গাড়ি বাউফল শহরে উদ্দেশ্যে রওনা হলে পথে নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর দেড় থেকে দুইশত কর্মী সমর্থক ওই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি অবরুদ্ধ করেন। খবর পেয়ে মহিপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাউফল থানা স্ট্যান্ডবাই -১ এর একটি ও পুলিশ বহনকারী একটি রিকুইজিশনের পিকআপ গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে ম্যাজিস্ট্রেটেকে উদ্ধার করে নিরাপধে পৌঁছে দেয়ার সময় উত্তেজিত নৌকার কর্মী সমর্থকরা পুলিশবহনকারী পিকআপ গাড়িতে হামলা করে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

এতে দুমকি থানার এএসআই দিপক, কনেস্টবল মো. রাহাত ও মহিপুর থানার কনেস্টবল আবু সালেহ মোহাম্মদ সজিব গুরুতর আহত হন। এসময় হামলাকারীরা পুলিশের স্ট্যান্ডবাই-১ গাড়ির পিছনের গ্লাস ভাঙচুর করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদেরকে নিরাপদে নিয়ে আসেন। আহত ওই তিন পুলিশ সদস্যকে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। হামলার সময় এক পুলিশ সদস্য সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বলেন,‘আমরা যথেষ্ট ধৈর্য়ের পরীক্ষা দিয়েছি.. ভিডিও নেন.. মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেখান।’

এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ইউনুস (৩৫), জহিরুল (৪২), জাহিদুল (১৯), আনিচুর রহমান (৪২), সজিব হাওলাদার (২২), মিজান মাহমুদ (১৯) ও আনু মোল্লা (৪৮) নামে ৮ জনকে আটক করেন। বুধবার দুপুরে তাদেরকে পটুয়াখালী কোর্টে পাঠানো হয়েছে।

অপর দিকে একই দিন সন্ধ্যায় বাউফল প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক জিএম ফোরাকানের বড় ডালিমা গ্রামস্থ বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। নৌকার কর্মী ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন ব্যাপারীর নেতৃত্বে ৩০/৪০ জন এ হামলা চালান।

এসময় হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্রসহ দুইটি টিভি, দুইটি ফ্রিজ ও একটি শোকেজ ভাঙচুর করে। হামলাকারীদের হাত থেকে বাদ যায়নি লবনের বাটি, খাবার প্লেট এমনকি হাড়িপাতিলও। হামলাকারী যাওয়ার সময় নগদ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও ১০ ভড়ি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়াও একই দিন দুপুর পৌনে ১ টার দিকে কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিন হাওলাদারকে ১৫/২০ জন ব্যক্তি মারধর করেছে। শাহিন হাওলাদার ঘটনার সময় মদনপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের চৌমোহনী বাজারে একটি দোকানে চা পান করছিলেন। এ হামলার জন্য তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুর রহমান হাসানকে দায়ী করেন। তবে হাসান ঘটনার সাথে তার জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

এ ঘটনার জের ধরে দুপুর আড়াইটার দিকে চৌমোহনী বাজার সংলগ্ন এলাকায় রেজাউল মৃধার বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে একটি মটর সাইকেল। চেয়ারম্যান শাহিনের লোকজন এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বাউফল থানার ওসি আল মামুন বলেন,‘শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ছোটডালিমা নাজিরপুর হাইস্কুল কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। কোন কারণ ছাড়াই উত্তেজিত নৌকার কর্মী সমর্থকরা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ী অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধারের জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের উপরও হামলা করা হয়। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। সাংবাদিকের বাড়িতে হামলার ঘটনায় তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

নয়াশতাব্দী/এমএস

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ