ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বরিশালে শেবাচিম’র চি‌কিৎসকদের অ‌নিয়ম ধরল দুদক

প্রকাশনার সময়: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৯:৩৩

ব‌রিশাল শের ই বাংলা মে‌ডি‌কেল (শেবাচিম) কলেজে অভিযান চালানো নি‌য়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদ‌ক) কর্মকর্তা‌দের সা‌থে অধ্যক্ষ ম‌নিরুজ্জামান শা‌হি‌নের বাকবিতন্ডা হয়েছে। দুদক কর্মকর্তারা চিকিৎসক‌দের এক সপ্তা‌হের বা‌য়ো‌মে‌ট্রিক হাজিরা দেখ‌তে চাইলে তা না দেওয়া নি‌য়ে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন এই চিকিৎসক।

মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সরকারি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করা, হাসপাতালের চেয়ে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী নিয়ে ব্যস্ত থাকাসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

এদিন সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা দুদক বরিশাল কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক রাজ কুমার সাহার নেতৃত্বে ৫ জনের একটি টিম এই অভিযান প‌রিচালনা করেন। অভিযানে অভিযোগের সত্যতাও পায় দুদক। এই বিষয়টি দুদকের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হলেও তারা অ‌ফি‌সিয়া‌লি বিস্তর কিছু বলতে রা‌জি হয়‌নি।

বিভিন্ন মাধ্যম জানা গেছে, শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন বাবলু এবং অমিতাভ সরকার সরকারি দায়িত্ব পালন না করে ব্যক্তিগত চেম্বারে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪শ’ রোগী দেখেন। এমনকি সরকার নির্ধারিত সময়ে অফিসেও আসেন না তারা। শুধু এই দুই চিকিৎসকই নন, অন্যান্য চিকিৎসকরাও একইভাবে দায়িত্বে অবহেলা করেন বলে ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকাল ৯ টার দিকে কলেজ অধ্যক্ষ ডা. মনিরুজ্জামান শাহিনের কক্ষে গেলে তাকে পান না দুদক টিম। এমনকি অফিসের একজন পিয়নও উপস্থিত ছিলেন না। দুদকের টিম আসার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি করে কার্যালয়ে আসেন কলেজ অধ্যক্ষ। দুদক টিম চিকিৎসকদের এক সপ্তাহের বায়োমেট্রিক হাজিরার তালিকা দেখতে চাইলে তা দিতে অস্বীকার করেন কলেজ অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান শাহীন। এ নিয়ে দুদকের অভিযানিক টিমের সাথে বাদানুবাদে জড়িয়ে পরেন তিনি।

একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, অভিযানকারী টিমের ছবি তুলে রাখার হুমকি দিচ্ছেন মনিরুজ্জামান শাহিন। এমনকি তিনি কোনো তথ্য দিতেও অস্বীকৃতি জানান। এসময়ে দুদক টিম তাদের পরিচয় দিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বলে অভিহিত করেন। তখন কলেজ অধ্যক্ষ পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, আপনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আর আমি (অধ্যক্ষ) কি উড়ে এসেছি নাকি!

এর কিছুক্ষণ পরে কলেজের অন্যান্য চিকিৎসকবৃন্দ আসতে শুরু করেন। সোয়া ১০ টার দিকে চিকিৎসকরা এসে অধ্যক্ষের কক্ষে বায়েমেট্রিক হাজিরা দিতে শুরু করেন।

দুদক টিম চলে যাওয়ার পরে কলেজ অধ্যক্ষ ডা. মনিরুজ্জামান শাহিন পাল্টা বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের টিম আমার কক্ষে এসে আমার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। তারা আমাকে তৃতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা বলে অভিহিত করেন। আমার কক্ষে ঢুকে যে আচরণ করেছেন তা তারা করতে পারেন না। আমি জেনেছি তাদের কেউ একজন ডাক্তার দেখাতে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। এজন্য তারা এসেছেন চিকিৎসকরা কখন আসেন তা দেখার জন্য। দুদক টিম আমার কাছে বায়োমেট্রিক হাজিরার তালিকা চান। আমি স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের (ডিজি) সাথে আলাপ করেছি। তিনি বলেছেন, দুদক টিম যদি আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে না আসেন তাহলে সে হঠাৎ করে এসে কাগজ চাইতে পারে না। এগুলো দেইনি দেখে আমার সাথে খারাপ আচরণ করেছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার থেকে ব্যক্তিগত চেম্বার করা যাবে না এমন কোন নির্দেশনা আছে বলে জানা নেই।

নয়াশতাব্দী/এমএস

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ