ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ভোলার দুই দ্বীপচরবাসী প্রায় ২ মাস বিদ্যুৎবিহীন

প্রকাশনার সময়: ৩০ জুলাই ২০২২, ১২:২৪

ভোলার দুইটি দ্বীপ চরে প্রায় ২ মাস ধরে বিদ্যুৎ নেই। এতে বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত এ দুই চরের ৭ শতাধিক গ্রাহক। সাব মেরিন ক্যাবলের লাইন ছিড়ে যাওয়ায় প্রায় ২ মাস ধরে বিদ্যুৎ নেই ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়ন মাঝের চর ও দৌলতখানের মদনপুর।

দিনের বেলা প্রচন্ড রোদ আর রাতে গরমের দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছেন ব্যবসায়িরা অন্যদিকে লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটছে কেমলমতি শিক্ষার্থীদের।

জেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন এ দুটি দ্বীপচর বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত থাকলেও এখন অন্ধাকারে দিন কাটাতে হচ্ছে ওইসব এলাকার মানুষকে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দ্বীপচরের মানুষ। তবে কবে নাগাত বিদ্যুৎ আসবে তাও জানেন না কেউ। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, ঢাকা থেকে টেকনিক্যাল টিম এনে এ সমস্যার সমাধানের চেস্টা চলছে।

জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সাব মেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে নদীর তলদেশ দিয়ে মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মদনপুর ও কাচিয়া ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়। টানা ৭ মাস বিদ্যুতের সুবিধা পাওয়ার পর গত ২৩ জুলাই সাব-মেরিন ক্যাবল ছিড়ে যায়। এরপর থেকে পুরো এ দুইটি দ্বীপ চর অন্ধাকারে।

মদনপুর চরের বাসিন্দা লুৎফর পাটোওয়ারি বলেন, আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি আমাদের চরে বিদ্যুৎ আসবে। বহু প্রতিক্ষার পর বর্তমান সরকার আমাদের বিদ্যুতের সুবিধা দিয়েছে। আমরা চরবাসি বিদ্যুৎ পেলাম। কিন্তু বেশি দিন সেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারিনি। ক্যাবল ছিড়ে গেছে তাই এখন আমরা বিদ্যুৎ বঞ্চিত। কবে বিদ্যুৎ পাবো তা জানিনা।

মদনপুর বাজারের ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন ও কালিমুল্লা জানান, এতোদিন বিদ্যুৎ ছিলো, আমরা ভালোভাবেই ছিলাম। অনেকেই দোকানে ফ্রি টিভি, ফ্যান ও বাতি লাগিয়েছে। কেনা-বেচা ভালো ছিলো। কিন্তু এখন বিদ্যুৎ না থাকাতে আমরা লোকসানে রয়েছি।

মাঝের চরের বাসিন্দা গৃহিনী শানাজ বেগম বলেন, ১০ হাজার টাকা খরচ করে ঘরে বিদ্যুতের সংযোগ এনেছি। কিন্তু লাভ হয়নি। সেই আগের মত অবন্ধাকারেই দিন কাটাতে হয়।

শিক্ষার্থী জুবায়ের ও হালিমা জানায়, আমরা রাতে পড়াশুনা করতে পারছি না। আমাদেন পড়ালেখা করতে অনেক সমস্যা হচ্ছে।

মাওলানা ইসমাইল বলেন, নদীর তলদেশ দিয়ে সাব মেরিন ক্যাবল টানা হয়েছে। যেখানে সেখানে জাহাজ নোঙ্গর দেয়। যে কারণে তার ছিড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সিগনাল বাতি থাকলে এমনি হতো না। আমরা দুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার দাবী জানাই।

এ ব্যাপারে ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম আলতাব হোসেন বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানতে পেরেছি সাব মেরিন ক্যবল ছিড়ে গেছে।আমরা ঢাকায় টেকনিক্যাল টিমকে খবর দিয়েছি তাদের দিয়ে খুব দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা হবে।

নয়া শতাব্দী/এফআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ