ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

চা বিক্রেতা মায়ের ফুটবলার মেয়ে যাচ্ছে পর্তুগালে

প্রকাশনার সময়: ০২ জুন ২০২২, ১৫:০৪

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল রাঙাটুঙ্গী ইউনাইটেড মহিলা ফুটবল একাডেমির সদস্য কাকলী আক্তার দেশের গন্ডি পেরিয়ে এবার দেশে বাইরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তিনমাস ফুটবল প্রশিক্ষণের জন্য পর্তুগাল যাচ্ছে কাকলী। এ নিয়ে এলাকাজুড়ে উৎসব মুখর পরিবেশ চলছে।

উপজেলার পৌরসভার ০৮ নং ওয়ার্ডের আবুল কাশেম ও বানেসা বেগমের মেয়ে কাকলী আক্তার (১৬)। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট।

নিজস্ব বসতভিটা ছাড়া আবাদি কোন জমি নেই তাদের। ঋণের টাকায় একটি ভ্যান কিনেছেন তার বাবা। সেই ভ্যান চালিয়ে যা আয় হয় আর সেই সাথে পরিবারের চাহিদা বেশী হওয়ায় মা বানেশা বেগম চায়ের দোকান করে কোন রকমে সংসারটা চালিয়ে নিচ্ছেন।

বিগত দিনে কাকলীর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে ফেলেন। যেন আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা। এত বড় সংসার কীভাবে চলবে। অভাব আর অশান্তি দুটোই যুক্ত হয় জীবনে৷ তবে বাস্তবতাকে মেনে নিতে সংকোচ বোধ করেননি তার মা। নিজের কাছে জমানো কিছু টাকা দিয়ে শুরু করেন চা বিক্রি। সেসময় রাস্তার ধারে ছোট একটি দোকানে চা বিক্রি করেই পরিবার ও কাকলীর অর্থের যোগান দিয়েছেন তিনি। বছর কয়েক পরে কাকলীর বাবা তার নিজের ভুল বুঝতে পেরে দ্বিতীয় সংসার ছেড়ে আবার ফিরে আসেন তাদের কাছে। পরে সব মেনে নিয়ে আবার সংসার চলা শুরু হয় তাদের৷ বর্তমানে অসুস্থ বয়োবৃদ্ধ বাবা চালান ভ্যান আর মা করে যাচ্ছেন চা বিক্রি। তবে মেয়ের দেশের বাইরে যাওয়ার কথা যেন সব কষ্ট ভুলিয়ে রেখেছে তাদের পরিবারকে।

কাকলী আক্তার বলেন, ‘স্কুল পর্যায়ে যে বঙ্গমাতা ফুটবল খেলাগুলো হত সেখান থেকেই আমার ফুটবল খেলা শুরু৷ পরে আমার এক স্যার বললেন আমি ফুটবলার হবো কি না। আমি বলেছিলাম যদি ভাল সুযোগ পাওয়া যায় তাহলে হবো। পরে তিনি আমাকে রাঙাটুঙ্গিতে যোগাযোগ করিয়ে দেন। আমি বাবা মাকে বিষয়টি বলি। তারা আমাকে সহযোগিতা করেছেন এবং ফুটবল কিনে দিয়েছেন। এখন দেশের বাইরে যাচ্ছি আরো উন্নত মানের প্রশিক্ষণের জন্য। এটি আসলে অনেক বড় আনন্দের খবর আমার কাছে৷ তবে এ আনন্দের পেছনে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে আমাকে। মেয়ে হিসেবে ফুটবল খেলতে এসে নানা ধরনের কটু কথাও শুনতে হয়েছে। সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যেন দেশের সুনাম অর্জন করতে পারি।’

মেয়ে পর্তুগাল যাচ্ছে ফুটবল ট্রেনিংয়ে- এ খবরে ভ্যানচালক বাবা আবুল কাশেম অনেক উচ্ছ্বসিত। তিনি মনে করছেন, তার মেয়ে একদিন একজন বড় মাপের ফুটবল খেলোয়াড় হবে। সেইসঙ্গে তাদের অভাব ঘুচবে। দেশ ও এলাকার সুনাম বয়ে আনবে।

চা বিক্রেতা মা বানেশা বেগম জানান, আমর মেয়ের ফুটবল খেলার আগ্রহ দেখে অন্য মানুষদের মতো মেয়ে মানুষ ফুটবল খেলবে যা অজোপাড়া গাঁয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হবে আমি সেসব চিন্তা বাদ দিয়ে তাকে উৎসাহ যুগিয়েছি। পাড়া গাঁয়ে একজন মেয়ে শর্ট প্যান্ট ও গেঞ্জি পড়ে খেলতে যাচ্ছে- এটা কেউ প্রথমে মেনে নিতে পারেনি। তবে আমার মেয়ে সব প্রতিকূলতা জয় করে আজ সফলতার দ্বারপ্রান্তে। এখন এলাকার মানুষ আমার মেয়ের ভালো কিছু করা দেখে অনেক প্রশংসা করে। ধীরে ধীরে তাদের মেয়েদের ও পাঠাচ্ছেন রাঙাটুঙ্গী ইউনাইটেড মহিলা ফুটবল একাডেমিতে প্রশিক্ষণের জন্য। আজ আমি আমার মেয়েকে নিয়ে গর্বিত। আপনারা সকলে আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন ও যেন এ দেশকে ভালো কিছু উপহার দিতে পারে।

রাঙাটুঙ্গী ইউনাইটেড মহিলা ফুটবল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও সাবেক অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ১১ জন ছেলে ব্রাজিলে এবং ১১ জন মেয়ে পর্তুগালে যাচ্ছে ফুটবল প্রশিক্ষণের জন্য ৷ বেষ্ট এগারোর মধ্যে আমাদের ঠাকুরগাঁও জেলা থেকে একজন নির্বাচিত হয়েছে৷ সে হলো আমাদের রাঙাটুঙ্গির মহিলা ফুটবলার কাকলী। সে অনেক ভালো একজন খেলোয়াড়। আমি রাঙাটুঙ্গী ইউনাইটেড মহিলা ফুটবল একাডেমির পক্ষ থেকে তার সফলতা কামনা করছি।’

পৌর মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান এ নয়া শতাব্দীকে বলেন, কাকলী আমার পৌরসভার মেয়ে। আমি তার সম্পর্কে ব্যক্তিগতভাবে জানি। তার বাবা ভ্যানচালক

নয়া শতাব্দী/জেআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ