ঢাকা, রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

কেমিক্যাল ছাড়াই হাতে তৈরি হচ্ছে লাল চিনি

প্রকাশনার সময়: ২৮ এপ্রিল ২০২২, ০১:১৭

অনেকটা গুঁড়া পাউডারের মতো দেখা যায় দেশ সেরা ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ার প্রসিদ্ধ লাল চিনি। এই চিনি তৈরি হয় কোনো কেমিক্যাল ছাড়াই। তাই স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ এ লাল চিনির চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে।

ফুলবাড়ীয়া উপজেলার, কালাদহ, বাক্তা, রাধাকানাই, আছিম পাটুলী, এনায়েতপুর, রাঙ্গামাটিয়া, নাওগাঁও ইউনিয়নে প্রচুর পরিমাণে আখ চাষ হয়। এসব আখের রস দিয়েই তৈরি হয় ফুলবাড়ীয়ার প্রসিদ্ধ লাল চিনি।

এই লাল চিনি উৎপাদনের পর অপরিশোধিত থাকে। তাই আখের সব গুণাগুণ যেমন ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেসিয়াম, শর্করা, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, লৌহ, অ্যামাইনো অ্যাসিড, জিঙ্ক, থায়ামিন, রিবোফ্লবিন, ফলিক এসিড, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ঠিক থাকে। এজন্য সাদা চিনির চেয়ে লাল চিনির উপকারিতা বেশি।

আখ, ইক্ষু, কুশাইল, ওক, গেন্ডারী আমরা যে যাই নাম ধরে বলি আখের চারা কিন্তু আখের উপরের ডগা কেটে সংগ্রহ করা হয়। এই চারা গুলো পাতা দিয়ে মোড়ানো থাকে । আখের প্রতিটি পুরে পুরে চোখ থাকে।

ফুলবাড়ীয়া উপজেলাতে প্রায় ৭/৮ জাতের আখ উৎপাদন হয়ে থাকে, কেজাই, ফাডুরা, ফারাম, টাডি, ইশ্বরদী-১৬, সুন্দরী, বোম্বাই এছাড়াও শহর বন্দরে বিভিন্ন জাতের আখের রস বিক্রি হয়। কাঠা প্রতি ৩ থেকে ৪ মণ লাল চিনি কিংবা গুড় মাড়াই করা যায়।

উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের বয়ারমারা কৃষক আ: জব্বার বলেন, শুরু থেকে চিনি মাড়াই পর্যন্ত প্রতি কাঠা জমিতে প্রায় ৫৫ হাজার থেকে ৬০ টাকা খরচ হয়।

তিনি আরো জানান, এ বছর তিনি ১৬ কাঠাতে আখ চাষ করেছেন। লাল চিনির যে বাজার তাতে আখ চাষে কৃষকরা

কিছুটা লাভবান হলেও বেশি পরিশ্রমের জন্য আগ্রহ হারাছে। কারণ সারা বছর আখের পরিচর্চার কাজ করতে হয়।

পাইকারি ব্যবসায়ী মো. মজিদ বলেন, আমি যখন থেকে ভালো বুঝতে শিখেছি, তখন থেকে এই লাল চিনির ব্যবসা করে আসছি। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে চিনি কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে থাকি।

পলাশতলীর কৃষক আকবর আলী জানান, ধোঁয়া, কালি, ময়লার কাজ সকলেই করতে চায় না। শ্রমিক সংকট ও খরচ অতিরিক্ত হওয়াতে বিকল্প নতুন ফসলের দিকে কৃষকেরা ঝুঁকছে। এর জন্য বর্তমানে আখ চাষ অনেকটাই কমে গেছে।

ফুলবাড়ীয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জেসমিন নাহার নয়া শতাব্দীকে বলেন, বেশ কয়েক বছর আগে ফুলবাড়ীয়াতে প্রচুর পরিমানে আখ চাষ করা হতো। অধিক পরিশ্রমের জন্য কৃষকেরা এখন এই চাষ করতে চান না। তবে আমরা এই চাষে আগ্রহ বাড়াতে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি অফিসারদের সার্বক্ষণিক দেখা শোনা করার নির্দেশ প্রদান করেছি। এ বছর উপজেলায় ১২৪০ হেক্টর জমিতে আখের চাষ করা হয়েছে।

২০২০-২১ অর্থ বছরে বি.এস.আর.আই ৪১ ও ৪২ নতুন আখের জাত হিসেবে ১ বিঘা করে জমিতে ২০টি প্রর্দশনী মাঠ করা হয়েছে। এই নতুন জাতের চারা কাটিং এর মাধ্যমে সংরক্ষন করে সম্প্রসারন হরা হবে। সেই সাথে আগামী বছর আরো আখ চাষের আবাদ বৃদ্ধি করব। ফুলবাড়ীয়ার ঐতিহ্যবাহী লাল চিনির সুনাম অক্ষুন্ন রাখার জন্য বর্তমান সরকার কৃষকদের সাথে অত্যান্ত গুরুত্বের সাথে মাঠে কাজ করছে।

নয়া শতাব্দী/জিএস

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ