ঢাকা, রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

কান্না চেপে রাখতে পারেনি কেউ

প্রকাশনার সময়: ৩০ ডিসেম্বর ২০২১, ১৪:১৩

পিতা-মাতার আদর স্নেহ বঞ্চিত তারা। খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান সবকিছুই আছে। কিন্তু মমতাময়ী মায়ের ছোঁয়া তাদের কাছে নেই। শিশু বয়সে এই অভাব তাদের কোন ভাবেই পুরন হবার নয়। পিতা-মাতার সমতূল্য কাউকে দেখলে তাদের মধ্যে আবেগ ও আনন্দ ফুটে উঠে। এরকম প্রায় দুই শতাধিক শিশু লালন-পালন হচ্ছে চাঁদপুর সরকারি শিশু পরিবারে।

তাদেকে শীতবস্ত্র দিতে গিয়ে এই ধরণের আবেগে জড়িয়ে পড়েন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) অঞ্জনা খান মজলিশ। শিশুদের জড়িয়ে আদর করতে গিয়ে তিনিও কেঁদে ফেলেন। এমন দৃশ্য দেখে কেউ কান্না চেপে রাখতে পারেননি।

বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে চাঁদপুর সরকারি শিশু পরিবারে ২শতাধিক বাক প্রতিবন্ধী ও এতিম শিশুদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ। এসময় তিনি শিশুদের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং তাদের সঠিক পরিচর্যার জন্য নির্দেশনা দেন।

শীতবস্ত্র বিতরণ পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্বে জেলা প্রশাসক শিশুদের উদ্দেশ্যে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আজকে তোমাদের জন্যে শীতবস্ত্র (কম্বল) নিয়ে এসেছি। জানি তোমাদের কাছে আছে তবু নতুন আরেকটি পেলে তোমাদের কাছে ভালো লাগবে তাই। তোমরা ভালো থাকলে সরকারের যে ইচ্ছা তা পূরণ হবে।

ছোট বাচ্চাদের সাথে একটু সময় কাটাতে পারলে, একটু কথা বলতে পারলে নিজের কাছেও ভালো লাগে। কারণ যারা ছোট্ট শিশু তারা প্রকৃতির মতই স্বচ্ছ ও সুন্দর। তাদের মনের মধ্যে কোন ধরনের অহংকার, যন্ত্রনা ও দুঃখ থাকে না। কোন ধরণের অন্যায় করার প্রবনতা থাকে না। সুন্দর ও স্বচ্ছ মন নিয়ে তারা বড় হয়। তারা এই সুন্দর মন নিয়েই যেন পৃথিবী গড়তে পারে এটাই আমাদের দায়িত্ব। তাদের জন্যে একটি সুন্দর পরিবেশ করে দেওয়া আমাদের কাজ।

শিশু পরিবারের প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক আরো বলেন, যারা তোমরা শিশু পরিবারে আছ, অনেকের বাবা-মা নেই। অনেকেই অনেক কষ্টে ছিলে। সেই কষ্ট থেকে তোমরা একটি ভাল পরিবেশে এসেছ, সেই ভাল পরিবেশে থেকে লেখাপড়া করে সুন্দরভাবে বড় হতে পার সেটাই আমাদের প্রধান কাজ। সেই কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা তা আমি সবসময়ই খেয়াল রাখি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক রজত শুভ্র সরকার, সিনিয়র সহকারি কমিশনার মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী, সরকারি শিশু পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক মো. মনিরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসন কর্তৃক গঠিত স্বেচ্ছাসেবক টিম লিডার ওমর ফারুক ও সাংবাদিক শাহরিয়া পলাশ প্রমূখ।

নয়া শতাব্দী/এসএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ