ঢাকা, রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা সেতু দিয়ে চলাচল

নেই সংস্কারের উদ্যোগ
প্রকাশনার সময়: ২৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬:৫১ | আপডেট: ২৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭:০১

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানাধীন গয়েশপুর-উদঘাটা সড়কের উপর ছোট বড়াই গ্রামের সরকারবাড়ি সংলগ্ন বুরাইদার খালের উপর নির্মিত সেতুর মাঝ বরাবর ভেঙে বেড়িয়ে পড়েছে লোহার রড। ফলে সৃষ্টি হয়েছে বড় আকারের গর্ত। সেতুর নিচের অংশের পলেস্তার খসে পড়ছে। ভারী কোনো যানবাহন উঠলেই সেতুটি কেঁপে উঠছে।

এ সেতু দিয়ে দিনের বেলাতেও যানবাহন চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আর রাতের বেলায় যানবাহনে করে এ সেতু দিয়ে চলাচল করা মানে মৃত্যু হাতে নিয়ে চলা। তারপরেও বাধ্য হয়ে প্রতিদিন অসংখ্য ছোট-বড় যানবাহন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই সেতু দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। যেকোনো মুহূর্তে সেতুটির ভাঙা স্থানে যানবাহন উল্টে প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন।

স্থানীয়েরা অভিযোগ করে জানান, ১৯৮৫ সালে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। তিন যুগের পুরোনো এই সেতু নড়বড়ে হয়ে পড়েছে বছর কয়েক আগেই। এরপরও সেতুর সংস্কার করা হয়নি। গত এক বছর পূর্বে সেতুর মাঝের দিকে ভেঙে গিয়ে বেড়িয়ে পড়েছে লোহার রড।

৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আসাদুজ্জামান আতা বলেন, ‘সেতুটির মাঝ বরাবর ভেঙে গেছে তা প্রায় বছর খানেকেরও বেশি দিন আগে। ভাঙা সেতু দিয়ে চলছে সিএনজি ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন। সেতুর মাঝের ভাঙা অংশটি খুবই বিপদজনক হওয়ায় যাত্রীরা যানবাহন থেকে নেমে হেঁটেই পার হয়ে থাকেন। তবে রাতের বেলা এ সড়কে যানবাহনে করে চলা মানে মৃত্যুকে সাথে নিয়ে চলা।

ডুবাইল গ্রামের অটোরিকশা চালক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘সেতু ভেঙে গেলেও করার কিছু নেই। বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা সেতু দিয়ে পারাপার করতে হয় গাড়ি নিয়ে।’

ছোট বড়াই গ্রামের নাজমা, সাইদুল, মিজানসহ একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ভাঙা সেতু পার হয়েই তারা বিদ্যালয়ে যান। তবে সেতুটি পার হতে ভয় লাগে। সেতুর মাঝের ভাঙা অংশে যানবাহন ঠেলে পার করে দিতে হয়।

বড় বড়াই গ্রামের লোকমান মিয়া (৫৫) ও উজ্জল মিয়া (৪৬) বলেন, এক বছরের অধিক সময় ধরে সেতুর এ অবস্থা। যেকোনো সময় এ সেতুতে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। তবুও সংস্কারের উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের।

স্থানীয় পাইথল ইউপি চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান ঢালী বলেন, ‘একাধিকবার তাগাদা দেয়ার পর ইঞ্জিনিয়ার এসে সেতুটি দেখে ডেমেজ ঘোষণা করেন। এরপর আর সেতুটি সংস্কার বা পুনঃনির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেয়নি এলজিইডি। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই মানুষজন বিভিন্ন পরিবহনে সেতুটির উপর দিকে চলাচল করছে। আশা করছি দুর্ভোগ লাগবে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।’

গফরগাঁও উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘সেতুটি ডেমেজ হয়ে গেছে। নতুন করে করতে হবে। ওই সেসতুটি পরিদর্শন করে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে নতুন করে সেতু করা হবে। আপতত চলাচলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নয়া শতাব্দী/জেআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ