মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৩, ১৭ মাঘ ১৪৩০

রামুতে ভিজিডি কার্ডের তালিকা নিয়ে চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যানের হট্টগোল

প্রকাশনার সময়: ২৪ জানুয়ারি ২০২৩, ১৯:৪১
ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভুট্টো ও উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান আফসানা জেসমিন পপি

কক্সবাজারের রামুতে ভিজিডি কার্ডের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি ও কর্তনকে কেন্দ্র করে উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান ও এক ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যে হট্টগোল হয়েছে। পরিষদের বাইরে এক পক্ষ লাঠিসোটা নিয়ে অবস্থান করে। ভন্ডুল হয়ে যায় মাসিক সমন্বয় সভা।

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) রামু উপজেলার পরিষদের মিলনায়তনে ভাইস চেয়ারম্যান আ’লীগ নেত্রী আফসানা জেসমিন পপি ও ফাতেখাঁরকুল ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভুট্টোর মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

ভুট্টো চেয়ারম্যান সমর্থিত লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে উপজেলা পরিষদের সামনে অবস্থান নিয়ে বিশৃঙ্খা সৃষ্টি করলে সমন্বয় সভা পণ্ড হয়ে যায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে উপজেলা প্রশাসন।

সভায় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভাইস চেয়ারম্যান পপি ভিজিডি কার্ডের তালিকায় তার দেওয়া তিন উপকারভোগীর নাম কর্তন করার অভিযোগ তুলে ফতেখাঁরখোলের চেয়ারম্যান ভুট্টোর বিরুদ্ধে সভায় বক্তব্য দিলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান ভুট্টো পপিকে অশ্লীল ভাষায় হুমকি দিয়ে তার নিজস্ব লোকজনকে ফোন দিলে তার ইটভাটায় কর্মরত শ্রমিকসহ বিভিন্ন লোকজন উপজেলা পরিষদের সামনে জড়ো হন।

উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফসানা জেসমিন পপি জানান, তিনি ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নে ভিজিডির তালিকায় তিনজন হত দরিদ্রের নাম জমা দেন। পরবর্তীতে ওই তালিকা কেটে দেন চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভুট্টো।

ওই বিষয়ে সমন্বয় সভায় অভিযোগ উত্তাপন করলে ইউপি চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে বক্তব্য চলাকালীন সময়ে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পপিকে তুই-তোকারি করে অশোভন ও অমার্জিত ব্যবহার করেন। এক পর্যায়ে মাইক্রোফোন ছুড়ে মারতে উদ্যত হন।

ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজল, ইউএনও ফাহমিদা মুস্তফাসহ ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ। অবস্থা দেখে তারা কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে পড়েন।

পরে উপস্থিত সকলের অনুরোধে স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পপি কান্নাজড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘদিন থেকে ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভুট্টো মানসিকভাবে হেনস্থা করে আসছিলেন। কয়েকদিন আগেও উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা ও এক জনপ্রতিনিধির সামনেও খারাপ প্রস্তাবের ইঙ্গিত দিয়েছেন চেয়ারমান ভুট্টো।

ভুক্তভোগী পপি দাবি করে বলেন, এক সময় আমি ভুট্টোর পরিষদে মহিলা মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলাম। তখন ভুট্টো আমাকে উত্যক্ত করাসহ অশালীন কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলে কু-প্রস্তাব দিতেন। এতে রাজি না হওয়ায় তিনি আমার উপর ক্ষেপে রয়েছেন, তা আমার জানা ছিল না।

অভিযুক্ত ফতেখাঁরকুলের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভুট্টো বলেন, তিনি এক সময় আমার খুব কাছের মানুষ ছিলেন। তাকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে আমিই নির্বাচিত করেছি। ওই তালিকায় যে ৩ জনের নাম তিনি দিয়েছেন তারা সবাই আর্থিকভাবে সচ্চল। তাই তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন তিনি তার চরিত্রের কথা না ভেবে আমার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলেও মন্তব্য করেন।

স্থানীয়রা জানান, জোট সরকার আমলে চেয়ারম্যান ভুট্টো বিএনপির নেতা হিসেবে দাপটে দেখাতেন। আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি ভোল পাল্টে এমপির আশীর্বাদে আওয়ামী লীগে ঢুকেন। ভুট্টোর একটি ইটভাটাও রয়েছে। কোনো কিছু হলে সেখান থেকে শ্রমিক নিয়ে ত্রাস সৃষ্টি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইউপি চেয়ারম্যান জানান, সমন্বয় সভায় তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভুট্টো উপজেলা পরিষদ চত্বরে তার ইটভাটার শতাধিক শ্রমিককে লাঠিসোটা নিয়ে আসেন। এতে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়। পরে রামু থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।

মাসিক সমন্বয় সভায় এমন অপ্রীতিকর ঘটনা কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা মুস্তফা। এরকম একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার জন্য তিনি প্রস্তুত ছিলেন না বলে জানান।

নয়াশতাব্দী/এফআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ