ঢাকা, বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪
মেজর সিনহা হত্যা

তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৬৫ জনের সাক্ষ্য-জেরায় সাক্ষ্যপর্ব সমাপ্ত

প্রকাশনার সময়: ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ২১:৪৯

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। চার্জশীটের মোট ৮৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন করে মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আগামী ৬, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য্য করা হয়েছে। কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে বুধবার ১ ডিসেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত করে এ দিন ধার্য্য করা হয়।

বুধবার (১ ডিসেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার খায়রুল ইসলামকে পঞ্চম দিনের মতো আসামী পক্ষের জেরার মাধ্যমে এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ পর্ব সমাপ্ত হলো, এমনটি জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম।

সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হওয়ার পর ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামীরা আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে তাদের বক্তব্য প্রদান, আসামীদের পক্ষে সাফাই সাক্ষী প্রদান, আদালতে কাগজপত্র দাখিলসহ অন্যান্য কার্যক্রম শুরু করেছে। আসামীদের মধ্যে কামাল হোসেন, মোহাম্মদ শাহজাহান, আবদুল্লাহ আল মামুন, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, লিটন মিয়া, মোহাম্মদ রাজিব, সাফানুর করিম, নন্দদুলাল রক্ষিতকে পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবীরা আদালতে লিখিত বক্তব্য দেবেন বলে আসামীরা আদালতকে জানান। বাকী ৭ জন আসামীকে পরবর্তী ধার্য্য দিন একই ধারায় পরীক্ষা করা হবে।

এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম, অতিরিক্ত পিপি মোজাফফর আহমদ হেলালী, এপিপি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস’র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মোস্তফা, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ সৈয়দুল ইসলাম, এসমিকা সুলতানা, শাহ আলম, আবুল আলা জাহাঙ্গীর প্রমুখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. খায়রুল ইসলাম এ মামলার ৬৫ নম্বর সাক্ষী। এর আগে মামলার চার্জশীটভূক্ত ৮৩ জন সাক্ষীর মধ্যে আরো ৬৪ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। আইও মো. খায়রুল ইসলাম বর্তমানে র‍্যাব সদর দপ্তরে গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত আছেন। এর আগে গত ১৬ নভেম্বর এ মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সহকারী পুলিশ সুপার মো. জামিলুল হককে আসামী পক্ষের আইনজীবীরা জেরা সম্পন্ন করেন।

এপিপি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জিয়া উদ্দিন আহমদ জানান, চার্জশীটের অবশিষ্ট সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ আদালত প্রয়োজন মনে না করায় তাদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়নি।

আসামীদের পক্ষে আদালতে অ্যাডভোকেট চন্দন দাশ, দিলীপ দাশ, শামশুল আলম, মমতাজ আহমদ (সাবেক পিপি), মোহাম্মদ জাকারিয়া, এম.এ বারী, নুরুল হুদা, ওসমান সরওয়ার আলম শাহীন, মোশাররফ হোসেন শিমুল, ইফতেখার মাহমুদ প্রমুখ আইও-কে জেরা করেন।

মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা এএসপি জামিলুল হক ২০২০ সালের ৬ আগস্ট থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত শুধুমাত্র ৮ দিন এ মামলার আইও হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। গত ২৩ আগস্ট সকালে কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল'র আদালতে মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসের সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে সিনহা হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক এ বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

নিহত সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে ২০২০ সালের ৫ আগস্ট টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ জনকে আসামি করে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ এর আদালতে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তভার দেওয়া হয় র‍্যাব-১৫ কে। সাক্ষ্য গ্রহণকালে মামলার ১৫ জন আসামীকেও কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়। আসামীদের মধ্যে ১২ জন আসামী ১৬৪ ধারায় আদালতে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তারা হলেন- বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, এপিবিএনের এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ, পুলিশের মামলার সাক্ষী টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নিজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।

আট দফায় এ মামলায় সাক্ষ্য দেয়া অপর ৬৩ জন সাক্ষীরা হলেন, মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. দেলোয়ার হোসেন শামীম ও তামান্না ফারাহ, প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী সাহিদুল ইসলাম সিফাত, মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ আমিন, মোহাম্মদ কামাল হোসেন ও হাফেজ শহীদুল ইসলাম, আবদুল হামিদ, ফিরোজ মাহমুদ ও মোহাম্মদ শওকত আলী, হাফেজ জহিরুল ইসলাম, ডা. রনধীর দেবনাথ, সেনা সদস্য সার্জেন্ট আইয়ুব আলী, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. মোঃ শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরী, মোক্তার আহমদ, ছেনোয়ারা বেগম, হামজালাল, আলী আকবর, ফরিদুল মোস্তফা খান, বেবী ইসলাম, সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট মোঃ মুনতাসীর আরেফিন, সার্জেন্ট মোঃ মোক্তার হোসেন, কর্পোরাল নুর মোহাম্মদ, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার সৈয়দ মঈন, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আবু জাফর এবং লেন্স কর্পোরাল মোঃ রুহুল আমিন, আহমদ কবির মনু, ধলা মিয়া, সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট মোঃ জিয়াউর রহমান, সার্জেন্ট আনিসুর রহমান, কনস্টেবল কামরুল।

নয়া শতাব্দী/এম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ