ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সন্ত্রাসীদের ভয়ে বাড়িছাড়া ব্যাংক কর্মকর্তা

প্রকাশনার সময়: ০২ অক্টোবর ২০২২, ২০:১৮

হত্যা, নারী নির্যাতন, ভূমিদস্যুদতা ও চাঁদাবাজিসহ ডজনখানেক মামলার আসামি কিশোর গ্যাংয়ের গডফাদার কাউন্সিলর আতিকুর রহমান মোর্শেদ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর বিচার এবং জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন টাঙ্গাইল জেলার বিশ্বাস বেতকা এলাকার ভুক্তভোগী ব্যাংক কর্মকর্তা মৌসুমী মাহমুদা।

রোববার (২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে মৌসুমী মাহমুদা জানান, ২০২১ সালের ১২ জুন টাঙ্গাইল জেলা প্রেসক্লাবে মোর্শেদের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ১৯ আগস্ট সন্ত্রাসী মোর্শেদকে দুটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, দুটি ম্যাগজিন ও কয়েক রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করে পুলিশ। ইয়াবা ব্যবসায়ী রাফসান, বাপ্পি, টুন্ডা রনি, পাঠা রনি, কিশোর গ্যাং দীপ্ত, কটুসহ আরও অনেক কিশোর গ্যাং সদস্যদের অপকর্মের খরচও সে চালায় এবং তাদের দিয়ে বেআইনি কাজ করায়।

মৌসুমী মাহমুদা বলেন, মোর্শেদের নামে আমি ২০২০ সালে চাঁদাবাজির মামলা করি। চার্জশিট দাখিল হওয়ায় মামলার চার্জ গঠনের জন্য গত ২০ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল আদালত আদেশ দেয়। এই আদেশের পরই সন্ত্রাসীরা ৫টি মোটরসাইকেলে আমদের পিছু নেয়। টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামের পাশের পুকুরপাড় রোডে সন্ত্রাসী রাফসান, বাপ্পি, কটু, রনি, হৃদয়, দিপ্তসহ অজ্ঞাত আরও ১৪/১৫ জন আমার ওপর হামলা চালায়। কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করা হলে পুলিশ ডেঙ্গু রিদয় ও দিপ্ত নামের ২ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে। এই দুই আসামি আদালাতে স্বীকারোক্তিও দিয়েছে। বাকিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদের পুলিশ গ্রেফতার করছে না।

তিনি জানান, মোর্শেদসহ সন্ত্রাসীরা আমার জায়গা জোর করে দখল করে নেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাদের অত্যাচারে জায়গা বিক্রি করে দিতে চাইলেও কেউ ভয়ে কিনতে চাইছে না।

তিনি আরও জানান, এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি সন্ত্রাসীরা তার টাঙ্গাইলের বাড়িতে গিয়ে হাতুরি, দা, রড দিয়ে তাকে ও তার মাকে রক্তাক্ত করে। তার মাথায় হাতুরির আঘাতে ছয়টি সেলাই দিতে হয়। তার মাকে কুপিয়ে তার হাতের দুইটি আঙ্গুল কেটে ফেলে। এই ঘটনায় থানায় মামলা গ্রহণ না করায় তিনি আদালতে মামলা করেন। মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে থাকলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। সন্ত্রাসী মোর্শেদের একাধিক স্ত্রী থাকলেও সে জোরপূর্বক পিংকি নামের এক নারীকে বিয়ে করে ও হত্যা করে। পিংকির লাশও পাওয়া যায় নি। পিংকি হত্যার বিচার চেয়ে তার বাবা ২০২১ সালে মোর্শেদসহ ৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় তিনি ৭ নম্বর প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হওয়ায় তাকে হত্যা করতে চাইছে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইন সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় এনে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

নয়াশতাব্দী/এফআই

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ