ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ইভ্যালির অর্থ দিয়ে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ সম্ভব নয়: চেয়ারম্যান 

প্রকাশনার সময়: ০১ জুলাই ২০২২, ২১:২৬

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ২৫ কোটি টাকার পণ্যের সন্ধান পেয়েছে পরিচালনা পর্ষদ। এই অর্থ দিয়ে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন পর্ষদের চেয়ারম্যান বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।

শুক্রবার (১ জুলাই) বিকেলে ইভ্যালির ধানমন্ডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

ইভ্যালির অডিটের সবশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সাভারের দুটি গুদামে ২৫ কোটি টাকার পণ্য রয়েছে। আর গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতিষ্ঠানটির দায় ৪০৩.৮০ কোটি টাকা। পিঙ্ক সিটির গুদামে ইভ্যালির ১৬ কোটি টাকার ২,৬৫৯টি এবং বালিয়াপুরের গুদামে নয় কোটি টাকার ১,৭৩৬টি আইটেম রয়েছে।

পর্ষদের চেয়ারম্যান বিচারপতি মানিক জানান, চলতি মাসের শেষ নাগাদ ইভ্যালির অডিটের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, ইভ্যালির গ্রাহকদের টাকা এক পাসওয়ার্ডেই আটকে আছে। বারবার ধরণা দিয়েও ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেলের কাছ থেকে পাসওয়ার্ড উদ্ধার করা যায়নি। মূল সার্ভার সচল না হলে গেটওয়েতে থাকা ২৫ কোটি টাকা ছাড় করবে না ব্যাংকগুলো। পাওনাদারদের তথ্য না পাওয়ায় ২৫ কোটি টাকার পণ্য থাকলেও তা দেওয়া যাচ্ছে না।

গ্রাহকের শত শত কোটি টাকা নিয়ে ডুবতে বসা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিকে পুনরুজ্জীবিত করতে গত বছরের অক্টোবরে উদ্যোগ নেয় হাইকোর্ট। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য একটি অন্তবর্তীকালীন বোর্ড গঠন করে দেন উচ্চ আদালত।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির সব নথি তলব করেন হাইকোর্ট। ১১ অক্টোবরের মধ্যে জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্ট্রারকে আদালতে সব নথি দাখিল করতে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ে নথি দাখিল করলে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

গত ২২ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি ও হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ইভ্যালিকে কেন অবসায়ন করা হবে না তা জানতে চেয়েছেন আদালত। এজন্য একটি নোটিশ ইস্যু করা হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিবাদীদের নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়। ইভ্যালির একজন গ্রাহকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন আদালত।

গ্রাহক ফরহাদ হোসেন ইভ্যালি থেকে একটি পণ্য কিনেছিলেন। কিন্তু পণ্যটি কেনার পাঁচ মাস পরেও সেটি তিনি হাতে পাননি। এরপর এই গ্রাহক ইভ্যালি অবসায়ন চেয়ে একটি আবেদন করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর, ইক্যাব, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, প্রতিযোগিতা কমিশন ও ইভ্যালিসহ ১১ জনকে বিবাদী করা হয় সেই আবেদনে।

ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ফ্ল্যাট থেকে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে র‌্যাব। রিমান্ডে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। শামীমা ইতোমধ্যে কারাগার থেকে মুক্ত হলেও রাসেল কারাগারেই রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বোর্ডের সদস্য সাবেক সচিব মোহাম্মদ রেজাউল আহসান, মাহবুবুল করিম, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফখরুদ্দিন আহম্মেদ, আইনজীবী ব্যারিস্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ।

নয়া শতাব্দী/এমএস

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ